বাংলা মুদ্রণশিল্পের এক হারিয়ে যাওয়া অধ্যায়কে তুলে ধরেছেন অনন্ত জানা তাঁর নতুন গ্রন্থ ‘লেটারপ্রেসের কম্পোজিটর: এক বিষাদান্ত পরম্পরা’। আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় সুপ্রকাশ (স্টল নং ৪৯৯) থেকে প্রকাশিত এই বই লেটারপ্রেস কম্পোজিটরদের কর্মজীবন, সংস্কৃতি এবং তাঁদের প্রতিদিনের সংগ্রামের এক জীবন্ত চিত্র তুলে ধরে।
একসময় বাংলা মুদ্রণশিল্পে লেটারপ্রেস কম্পোজিটরদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। কিন্তু তাঁদের কর্মপরিবেশ ছিল কঠিন ও স্বাস্থ্যহানিকর। টাইপসেটিংয়ের জন্য ব্যবহৃত সিসা, অ্যান্টিমনি, টিন এবং আর্সেনিকের সংস্পর্শে এসে তাঁরা দীর্ঘদিন কাজ করতেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য ছিল মারাত্মক ক্ষতিকর। সেই সঙ্গে ছিল ছাপার কালি, গুমোট প্রেসঘর, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ ও ক্লান্তিকর দৈনন্দিন রুটিন। তবুও, বাংলা মুদ্রণশিল্পের বিকাশের পেছনে এই মানুষগুলোর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।
বইটিতে লেটারপ্রেস কম্পোজিটরদের হাসি-কান্না, অভ্যাস ও সংস্কৃতি গভীরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। যেমন, ‘হস্ত-প্রক্ষালন’ ছিল তাঁদের প্রতিদিনের এক গুরুত্বপূর্ণ রীতি—টাইপসেটিংয়ে ব্যবহৃত ধাতব কষ ও ছাপার কালি হাত থেকে দূর করার জন্য খাওয়ার আগে দীর্ঘ সময় ধরে হাত ধোয়ার প্রচলন ছিল। কেরোসিন দিয়ে হাত ধোয়া, নারকেলের ছোবা ঘষে আঙুল পরিষ্কার করা, এমনকি সাবানের সঙ্গে ইটের ব্যবহার—সবকিছুই ছিল এই পেশার অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাশাপাশি, প্রেসের মধ্যে টিফিনের দৃশ্য, কম্পোজ করতে করতে মুড়ি-বিস্কুট খাওয়ার অভিনব কৌশল, এবং স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যেও তাঁদের পেশাদারিত্ব বইটিতে নিখুঁতভাবে ধরা পড়েছে।
বইটির অলংকরণ করেছেন সুলিপ্ত মণ্ডল এবং প্রচ্ছদ করেছেন সৌজন্য চক্রবর্তী। মুদ্রিত মূল্য ২৯০ টাকা হলেও বইমেলায় এটি বিশেষ ছাড়ে পাওয়া যাচ্ছে।
বাংলা মুদ্রণশিল্পের ইতিহাস ও লেটারপ্রেস যুগের জীবনসংগ্রাম জানতে চাইলে এই বইটি অবশ্যপাঠ্য।
বইটি পাওয়া যাবে আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার সুপ্রকাশ স্টলে (৪৯৯)।
অজয় দাশ গুপ্ত, কলকাতা 















