১১:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

ঈদযাত্রা শুরু, স্টেশন থেকেই মিলবে তাৎক্ষণিক টিকিট

ছবিঃ সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শনিবার থেকে শুরু হয়েছে ট্রেনের ঈদযাত্রা। যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে ২৭ মে পর্যন্ত আগাম টিকিট বিক্রি করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। একই সঙ্গে ফিরতি যাত্রার টিকিটও অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। এবার নতুন সুবিধা হিসেবে জরুরি প্রয়োজনে স্টেশন থেকে সীমিত পরিসরে তাৎক্ষণিক টিকিট সংগ্রহের সুযোগ রাখা হয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব জানিয়েছেন, ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন, স্টেশনভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণ এবং অপেক্ষমাণ যাত্রীদের জন্য বাড়তি ব্যবস্থাসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শেষ মুহূর্তে জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীদের বৈধ টিকিট নিশ্চিত করতে সীমিত আকারে স্টেশন থেকেই তাৎক্ষণিক টিকিট দেওয়া হবে।

ঈদকে সামনে রেখে ট্রেনের ছাদে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ ঠেকাতে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে তিন স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। বিনা টিকিটে স্টেশনে প্রবেশেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি কালোবাজারি প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানো, ওয়াশরুম উন্নয়ন এবং যাত্রীদের অপেক্ষার পরিবেশ আরও আরামদায়ক করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার কবির হোসেন বলেন, ঈদ সামনে রেখে যাত্রীচাপ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সকাল থেকেই একের পর এক আন্তঃনগর ট্রেন ছেড়ে গেছে। তিনি জানান, টিকিট ছাড়া কাউকে স্টেশনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং ছাদে যাত্রা ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, যাত্রীদের সুবিধার্থে সর্বনিম্ন শ্রেণিতে মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট রাখা হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৪৫ হাজার আসনের টিকিট বিক্রি হচ্ছে। স্ট্যান্ডিং টিকিট যুক্ত হলে এই সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজারে পৌঁছাবে।

প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, রেলওয়ের সক্ষমতার তুলনায় যাত্রীর চাপ কয়েক গুণ বেশি। প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকোমোটিভ ও কোচের ঘাটতি থাকলেও বিদ্যমান সম্পদ দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে। প্রযুক্তিগত ত্রুটিযুক্ত লোকোমোটিভ দ্রুত মেরামত করে পুনরায় চলাচলে আনার কাজও অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ ও কোরবানির পশু পরিবহন করায় ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে জনগণের সচেতনতা এবং অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এবার স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষে পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বিভিন্ন রুটে চলবে চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল, তিস্তা ঈদ স্পেশাল, শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল ও পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল। এছাড়া কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য চালু করা হয়েছে বিশেষ ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন। শুক্রবার থেকেই এসব বিশেষ ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।

জনপ্রিয়

জাতীয় পুনর্গঠন কৌশল (National Reconstruction Strategies)

ঈদযাত্রা শুরু, স্টেশন থেকেই মিলবে তাৎক্ষণিক টিকিট

প্রকাশিত : ০৬:১২:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শনিবার থেকে শুরু হয়েছে ট্রেনের ঈদযাত্রা। যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে ২৭ মে পর্যন্ত আগাম টিকিট বিক্রি করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। একই সঙ্গে ফিরতি যাত্রার টিকিটও অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। এবার নতুন সুবিধা হিসেবে জরুরি প্রয়োজনে স্টেশন থেকে সীমিত পরিসরে তাৎক্ষণিক টিকিট সংগ্রহের সুযোগ রাখা হয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব জানিয়েছেন, ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন, স্টেশনভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণ এবং অপেক্ষমাণ যাত্রীদের জন্য বাড়তি ব্যবস্থাসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শেষ মুহূর্তে জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীদের বৈধ টিকিট নিশ্চিত করতে সীমিত আকারে স্টেশন থেকেই তাৎক্ষণিক টিকিট দেওয়া হবে।

ঈদকে সামনে রেখে ট্রেনের ছাদে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ ঠেকাতে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে তিন স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। বিনা টিকিটে স্টেশনে প্রবেশেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি কালোবাজারি প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানো, ওয়াশরুম উন্নয়ন এবং যাত্রীদের অপেক্ষার পরিবেশ আরও আরামদায়ক করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার কবির হোসেন বলেন, ঈদ সামনে রেখে যাত্রীচাপ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সকাল থেকেই একের পর এক আন্তঃনগর ট্রেন ছেড়ে গেছে। তিনি জানান, টিকিট ছাড়া কাউকে স্টেশনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং ছাদে যাত্রা ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, যাত্রীদের সুবিধার্থে সর্বনিম্ন শ্রেণিতে মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট রাখা হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৪৫ হাজার আসনের টিকিট বিক্রি হচ্ছে। স্ট্যান্ডিং টিকিট যুক্ত হলে এই সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজারে পৌঁছাবে।

প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, রেলওয়ের সক্ষমতার তুলনায় যাত্রীর চাপ কয়েক গুণ বেশি। প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকোমোটিভ ও কোচের ঘাটতি থাকলেও বিদ্যমান সম্পদ দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে। প্রযুক্তিগত ত্রুটিযুক্ত লোকোমোটিভ দ্রুত মেরামত করে পুনরায় চলাচলে আনার কাজও অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ ও কোরবানির পশু পরিবহন করায় ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে জনগণের সচেতনতা এবং অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এবার স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষে পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বিভিন্ন রুটে চলবে চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল, তিস্তা ঈদ স্পেশাল, শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল ও পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল। এছাড়া কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য চালু করা হয়েছে বিশেষ ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন। শুক্রবার থেকেই এসব বিশেষ ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।