সিলেট সীমান্তে আবারও সক্রিয় হয়েছে চোরাকারবারি চক্র। কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ফের গোয়াইনঘাট ও জাফলং সীমান্ত দিয়ে শুরু হয়েছে ভারতীয় পণ্য, অস্ত্র ও মাদক পাচার। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের পৃষ্ঠপোষকতায় এই চোরাচালান পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হরিপুরে সেনাবাহিনীর অভিযানের পর কিছুদিন বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি জাফলং সীমান্তে ফের সক্রিয় হয়েছে চোরাকারবারিরা। একসময় আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এই অবৈধ ব্যবসা এখন নিয়ন্ত্রণ করছে বিএনপি ও যুবদলের একাংশের নেতারা। তারা প্রতিরাতেই ভারতীয় পণ্যসহ অস্ত্র ও মাদক পাচার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, জেলার পুলিশ, ডিবি ও বিট পুলিশকে ম্যানেজ করেই এসব চালান সীমান্ত পেরিয়ে দেশে প্রবেশ করছে। ভারতীয় পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে গরু-মহিষ, চিনি, শাড়ি, ত্রিপিস, কসমেটিকস, কীটনাশকসহ বিভিন্ন সামগ্রী। এসব পণ্য সিলেট-তামাবিল সড়ক হয়ে জৈন্তাপুর, দক্ষিণ সুরমা হয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে।
সূত্র জানায়, একটি ‘লাইনম্যান গ্রুপ’ নিয়ন্ত্রণ করছে ভারতীয় এসব চোরাচালান। গ্রুপটির সদস্য যুবদল নেতা আবুল কাশেম, সাহেদুর রহমান লিটন ওরফে বাবলাসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। তারা বিজিবি, জেলা ডিবি ও বিট পুলিশকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে প্রতিরাতে বড় আকারে চালান পাচার করছে। ভারত থেকে সীমান্তের বিভিন্ন গুদামে পণ্য মজুদ করে পরদিন ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যানে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, জেলা পুলিশের কিছু কর্মকর্তা মাসিক ভাগের বিনিময়ে চোরাচালানের ট্রাক চলাচলে সহায়তা করছেন। এমনকি জেলার এক ডিবি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভাগের টাকা সংগ্রহে মাঠে থাকার অভিযোগও উঠেছে।
এ বিষয়ে যুবদল নেতা সাহেদুর রহমান লিটন ওরফে বাবলার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এপর্যন্ত বহু নিউজ হয়েছে, এতে কিছুই হয়নি। তোমরা যা পারো কর, শত শত নিউজ করো — কোনো সমস্যা নাই।”
সহকারী পুলিশ সুপার (অপারেশন্স অ্যান্ড ট্রাফিক) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে স্টাফ অফিসার টু ডিআইজি, সিলেট রেঞ্জ মো. রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “চোরাচালান প্রতিরোধ করা পুলিশের নিয়মিত দায়িত্ব। কোনো থানার তৎপরতা নিষ্ক্রিয় থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক বলেন, “সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান এবং গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।”
স্থানীয়রা বলছেন, বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধের পর জীবিকার বিকল্প হিসেবে কিছু শ্রমিক চোরাচালানে যুক্ত হয়েছে। ফলে সীমান্ত অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 















