রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে এক শ্রমিক দল নেতার বিরুদ্ধে অবৈধ মদের ব্যবসা ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে, আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও ক্লিপ নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে মো. সুমন মোল্লা (৪৫), যিনি ‘চাঁদাই’ নামেও পরিচিত, বাংলা মদের ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি উপজেলা শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি এবং গোয়ালন্দ ইমামবাড়া শরীফের কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
শনিবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে মোঃ মকিম মন্ডল নামের এক আইনজীবীর সঙ্গে কথোপকথনে সুমন মোল্লা তার বিয়ার ব্যবসার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এর আগে ওই আইনজীবী ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সুমনের বিরুদ্ধে বিয়ার ব্যবসা, ইয়াবা পাচার, বাড়ি দখলসহ নানা অভিযোগ তোলেন।
অডিওতে নিজের বক্তব্যে সুমন মোল্লা বিয়ার ব্যবসার কথা স্বীকার করলেও অন্যান্য অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি আরও দাবি করেন, এ ব্যবসায় তার সঙ্গে আরও তিনজন জড়িত থাকলেও তাদের নাম প্রকাশ করেননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে দৌলতদিয়া এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় হয়েছে, যার সঙ্গে সুমন মোল্লাও যুক্ত। তারা বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে দখল, অনিয়ম ও অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। পল্লীতে কোনো বিরোধ দেখা দিলে তারা বিচার সালিশের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে সাধারণ যৌনকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা চাপে রয়েছেন।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পল্লীর সাবেক প্রভাবশালী নেত্রী ঝুমুরের একটি বাড়ি কম মূল্যে কিনে নিয়েছেন সুমন মোল্লা। ওই বাড়িতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের দিয়ে দেহব্যবসা চালানোর অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা, যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গোয়ালন্দ উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. সরোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, “সুমনের বিয়ার ব্যবসার বিষয়টি আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। দলে কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে রাখা হবে না। জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সুমন মোল্লা বিয়ার ব্যবসার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তিনি সরাসরি সাক্ষাতে কথা বলতে চান বলে জানান।
রাজবাড়ী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু আব্দুল্লাহ জাহিদ বলেন, “বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেনেছি। বিয়ার অবৈধ মাদকদ্রব্য। এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।”
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “যৌনপল্লীতে মাদক থাকার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করা যায় না। ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপটি আমরা দেখেছি। এর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিজস্ব প্রতিবেদক 













