১০:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

এক সপ্তাহের মধ্যে কক্সবাজার সৈকতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর


কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গড়ে ওঠা সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার সৈকতকে কোনোভাবেই ‘রোহিঙ্গা বস্তির মতো’ গড়ে উঠতে দেওয়া হবে না। সৈকতের পরিবেশ, সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা রক্ষায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সব স্থাপনাই উচ্ছেদ করা হবে।

সোমবার (৯ মার্চ) কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে সমুদ্রসৈকতে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান, অস্থায়ী স্থাপনা ও বিভিন্ন অননুমোদিত কাঠামো দ্রুত অপসারণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার আমাদের দেশের গর্ব। এটিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সৈকতের পরিবেশ ও সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।

দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ দোকান, অস্থায়ী খাবারের স্টল, চেয়ার-ছাতা ভাড়া দেওয়ার নামে অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসা, সৈকতের বালুচরে স্থায়ী কাঠামো নির্মাণ এবং পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এসব অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পর্যটকদের ভোগান্তিও বাড়ছে।

সৈকতের ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে নতুন করে একটি বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠনের কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই কমিটি সৈকতের শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও পর্যটন ব্যবস্থাপনা তদারকি করবে বলে জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের অংশ হিসেবে কক্সবাজার শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনার কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, পর্যটন এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে ধাপে ধাপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং তদন্ত কার্যক্রম সহজ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা টেকনাফ স্থলবন্দর চালুর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান, পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এবং কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদসহ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল সালাহউদ্দিন আহমদের প্রথম কক্সবাজার সফর। রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে দুদিনের সফরে তিনি নিজ জেলা কক্সবাজারে আসেন।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ নির্বাচনী জেলা কক্সবাজার সফরে আসার পরপরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যখ্যাত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুরে প্রায় চার হাজার পুলিশ, র‍্যাব, এপিবিএন, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে স্মরণকালের বৃহত্তম সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে, যা এখনো অব্যাহত আছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে দুর্ভেদ্য এ অভিযানে বৃহত্তর চট্টগ্রামে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে এবং এ অভিযানে পাহাড়ের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের কলিজায় কাঁপন ধরিয়েছে।

জনপ্রিয়

জাতীয় পুনর্গঠন কৌশল (National Reconstruction Strategies)

এক সপ্তাহের মধ্যে কক্সবাজার সৈকতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ১২:০৮:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গড়ে ওঠা সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার সৈকতকে কোনোভাবেই ‘রোহিঙ্গা বস্তির মতো’ গড়ে উঠতে দেওয়া হবে না। সৈকতের পরিবেশ, সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা রক্ষায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সব স্থাপনাই উচ্ছেদ করা হবে।

সোমবার (৯ মার্চ) কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে সমুদ্রসৈকতে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান, অস্থায়ী স্থাপনা ও বিভিন্ন অননুমোদিত কাঠামো দ্রুত অপসারণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার আমাদের দেশের গর্ব। এটিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সৈকতের পরিবেশ ও সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।

দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ দোকান, অস্থায়ী খাবারের স্টল, চেয়ার-ছাতা ভাড়া দেওয়ার নামে অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসা, সৈকতের বালুচরে স্থায়ী কাঠামো নির্মাণ এবং পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এসব অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পর্যটকদের ভোগান্তিও বাড়ছে।

সৈকতের ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে নতুন করে একটি বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠনের কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই কমিটি সৈকতের শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও পর্যটন ব্যবস্থাপনা তদারকি করবে বলে জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের অংশ হিসেবে কক্সবাজার শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনার কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, পর্যটন এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে ধাপে ধাপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং তদন্ত কার্যক্রম সহজ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা টেকনাফ স্থলবন্দর চালুর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান, পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এবং কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদসহ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল সালাহউদ্দিন আহমদের প্রথম কক্সবাজার সফর। রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে দুদিনের সফরে তিনি নিজ জেলা কক্সবাজারে আসেন।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ নির্বাচনী জেলা কক্সবাজার সফরে আসার পরপরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যখ্যাত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুরে প্রায় চার হাজার পুলিশ, র‍্যাব, এপিবিএন, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে স্মরণকালের বৃহত্তম সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে, যা এখনো অব্যাহত আছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে দুর্ভেদ্য এ অভিযানে বৃহত্তর চট্টগ্রামে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে এবং এ অভিযানে পাহাড়ের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের কলিজায় কাঁপন ধরিয়েছে।