১১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এপিএসের গাড়ি এই বিএনপি নেতার কব্জায়। বর্তমানে এমরান আহমেদ সিলেট ৬ বিয়ানীবাজার গোলাপগঞ্জ থেকে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছে। অসামাজিক কার্যকলাপেও ডুবে থাকার অভিযোগ

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমেদের যত অপকর্ম!

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত


৫ই আগস্টের রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের পর আত্মগোপনে হাসিনা সরকারকে রক্ষায় অস্ত্রহাতে মাঠে থাকা “ডেভিল”রা। সিলেটজুড়ে থাকা আওয়ামী লীগের হাজার হাজার কর্মী-সমর্থককে চরম অনিশ্চয়তায় রেখে গা ঢাকা দেন পদ-পদবীধারী নেতারা। এটা প্রতিষ্ঠিত যে, সিলেটের সরল মানুষদের গত ১৫ বছর নানাভাবে শোষণ করেছে ক্ষমতার চরম অপব্যবহারকারী এসব নেতানেত্রীরা।

এদের মধ্যে ‘কুতুব’ শ্রেণীর নেতারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে জামাই আদরে দেশ ছেড়েছেন। তবে মাঠের ‘ডেভিল’রা সেই সুযোগ পায়নি। আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ক্ষোভের আগুন থেকে বাঁচতে তারা লিয়াঁজু করে স্থানীয় বিএনপি-জামাত নেতাদের সঙ্গে।

রিপোর্ট বলছে, তাদের বেশিরভাগই ক্ষমতার সিঁড়িতে অপেক্ষমাণ বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাদের যোগসাজশে সীমান্ত পাড়ি দিয়েছে। বিনিময়ে তারা তাদের অবৈধ সম্পদ, বাড়ি, গাড়ি, অস্ত্র, অর্থকড়ি সহায়তাকারীদের জিম্মায় রেখে গেছে! বিজিতদের সম্পত্তি অর্থাৎ ‘গনিমতের মাল’ মনে করে এসব ভাগবাটোয়ারা করেছেন বিজয়ী নেতারা।

এর মধ্যে একটি গাড়ির সন্ধান মিলেছে। বিস্তৃত অনুসন্ধান এবং বিআরটিএ’র রেকর্ড বলছে, গাড়িটি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ.কে. আব্দুল মোমেনের এপিএস শফিউল আলম ওরফে জুয়েলের নামে রয়েছে এখনো। প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সহধর্মিণী সেলিনা মোমেন, তার বান্ধবী সিলেটের রহস্যময়ী হেলেন আহমেদ এবং জুয়েল গাড়িটি ব্যবহার করতেন।

এটি এখন ভাগে পেয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী। তিনি অবশ্য তা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় ব্যবহারের জন্য উপহার পেয়েছেন বলে দাবি করেন।

মিস্টার চৌধুরীর ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, ৫ই আগস্টের পর থেকে টয়োটা ক্লুজার গাড়িটি ব্যবহার করছেন তিনি। ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড লাগানো এই জিপ গাড়িটি সিলেট জেলা প্রশাসনের কাছে বেশ পরিচিত। ফলে বিএনপি নেতার জিম্মায় যাওয়ার পর থেকে গাড়িটি নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক কানাঘুষা চলছে।

জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী সাম্প্রতিক সময়ে গাড়িটি নিয়ে আদালত পাড়ায় যাতায়াত করেন। তাছাড়া গাড়িটি নিয়ে তিনি তার নির্বাচনী এলাকা সিলেট-৬ আসনও চষে বেড়াচ্ছেন। এর আগে তিনি করোলা ব্র্যান্ডের একটি প্রাইভেট কার ব্যবহার করতেন বলে নিশ্চিত করেছেন তার সহকর্মী ঘনিষ্ঠজনরা।

বিআরটিএ’র রেকর্ড এবং গাড়ির তথ্য

বিআরটিএ’র রেকর্ড মতে, গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন শফিউল আলমের নামে। টয়োটা ক্লুজার গাড়িটির নাম্বার হচ্ছে ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৬৯৩৪

গাড়িটি ২০০৫ সালে বিআরটিএতে প্রথম রেজিস্ট্রেশন হয়। তিন হাত ঘুরে এটি শফিউল আলমের নামে যায়।

কয়েকজন এক্সপার্টের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাড়িটির বাজারমূল্য ১৭ থেকে ১৮ লাখ টাকা। নতুন হলে দাম দ্বিগুণ হতো। তবে রেজিস্ট্রেশনের সময় জুয়েল গাড়িটির মূল্য কারসাজি করেছেন। ডকুমেন্টে এয়ার কন্ডিশনসহ আরও কিছু সত্য-তথ্য গোপন করেছেন।

বিআরটিএ’র দায়িত্বশীলদের দাবি, কর ফাঁকি দিতে দালালদের পরামর্শে অনেকে এমনটি করে থাকেন, যা জরিমানাযোগ্য অপরাধ। জুয়েল গাড়িটির মূল্য দেখিয়েছেন সর্বসাকুল্যে মাত্র ১ লাখ টাকা!

বিআরটিএ’র রেকর্ড বলছে, প্রথমে গাড়িটি কেনা হয় ঢাকার ২, দিলকুশা কমার্শিয়াল এরিয়ার একে এম শফিউল ইসলাম-এর কাছ থেকে। গাড়িটি কেনেন মন্ত্রীর এপিএস শফিউল আলমের ভাই মাহবুবুল আলম। তিনি তার বাবার নাম দেখিয়েছেন মৃত বশির আহমদ।

তাদের বাসা শাহজালাল উপশহরের এ ব্লক, ৪ নম্বর রোড, ১২ নম্বর বাড়ি। ২০২২ সালের ৮ই মার্চ গাড়িটি নিজের নামে নেন শফিউল আলম জুয়েল। রেজিস্ট্রেশনে তিনি পিতার নাম বশির আহমদ ঠিক রাখলেও জেলা লিখেছেন ‘কক্সবাজার’।

এটা ইচ্ছাকৃত ভুল নাকি কোনো কিছু গোপন করতে করা হয়েছে তা নিয়ে সন্দিহান বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ।

বিআরটিএ অপারেশন উইংয়ের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মীর আহমদ তারিকুল ওমরের কাছে গাড়ির ছবি ও বিআরটিএ’র ডকুমেন্টের অসঙ্গতি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন—
“সার্ভারের যে তথ্য রয়েছে, সেটিই সরবরাহ করা হয়েছে। গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের সময় কী হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখতে হবে।”

উল্লেখ্য, সিলেটের আওয়ামী নেতারা কোটি টাকার মূল্যের দামী ব্র্যান্ডের গাড়ি ব্যবহার করতেন। সীমান্ত চোরাচালান, চাঁদাবাজি, পাথর ও বালু লুট—সব কিছুর সঙ্গেই তারা সম্পৃক্ত ছিলেন। চোরাচালান রাজ্য হরিপুরে প্রায় রাতেই দেখা মিলতো কোটি টাকার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এসব গাড়ির। জাফলং, তামাবিলেও কিছু গাড়ি ছিল।

২০১৮ সালে সিলেটের রাজনীতিতে অভিষিক্ত হয়েই এমপি, মন্ত্রী হন ড. এ.কে. আব্দুল মোমেন। তার বদৌলতে সিলেটে অনেকেই মহারথী হয়ে উঠেন, টাকা কামান দুই হাতে। শফিউল আলম জুয়েল তার অন্যতম। রহস্যময়ী নারী হেলেনের সঙ্গে টিমওয়ার্ক গড়ে ড. মোমেনের রাজ্যে অধিপতি হয়ে উঠেন তারা দু’জন।

৫ই আগস্টের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে হেলেন-জুয়েল সিলেট থেকে হঠাৎ উধাও। তাদের খুঁজছিল ছাত্র-জনতা। ক্ষোভের মুখে ছিলেন তারা। এই অবস্থায় তাদের বাড়ি-গাড়ি-সম্পদ যেখানেই ছিল, সেখানে রেখে আত্মগোপনে চলে যান।

এ সময় গাড়িটিও সিলেটে রেখে প্রাণ নিয়ে ভারতে পালান জুয়েল। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন—জুয়েল ভারত হয়ে বর্তমানে লন্ডনে। তার সিনিয়র বান্ধবী হেলেনও ব্রিটেনে রয়েছেন।

এমরানের কাছে গাড়ি বদল যেভাবে

ঘনিষ্ঠজনদের মতে, কানাইঘাটের গাছবাড়ি এলাকার বাসিন্দা শফিউল আলম জুয়েল। পিতা বশির উদ্দিন অনেক আগে উপশহরের এ ব্লকে বাসা নির্মাণ করেন।

এ ব্লকের বাসিন্দা সিলেটের পরিচিত মুখ ও বৃক্ষপ্রেমী আফতাব চৌধুরী। তার ছেলে মাসুদ চৌধুরী একজন ব্যাংকার ও পুরাতন গাড়ি বিক্রেতা।

৫ই আগস্ট যখন হেলেনকে সঙ্গে নিয়ে জুয়েল দেশ ছাড়েন, তখন গাড়িটি মাসুদ চৌধুরীর কাছে রেখে যান। মাসুদের প্রতিবেশী (শাহজালাল উপশহরের বাসিন্দা) জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, দলটির প্রভাবশালী নেতা।

এমরান ইতিমধ্যে নগরের উপশহরে বিশাল অফিস খুলেছেন। মধ্যরাত অবধি তিনি সেখানে অফিস করেন। সেই অফিসে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি জাফলং, ভোলাগঞ্জের কোয়ারি থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন হওয়া পাথর ও সারি নদীর বালুর বখরা আদায়ের হিসাব-নিকেশ সংরক্ষণ করেন।

হরিপুরের চোরাকারবারিরাও সেখানে ধর্ণা দেয়। ফলে টাকার খনি খ্যাত পূর্ব সিলেটের ‘ডন রঞ্জিত’-এর ভূমিকায় এখন বিএনপি নেতা এমরান।

শফিউল আলম জুয়েলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, গাড়িটি তিনি নিজ বাসাতেই রেখে গেছেন, এটি দেখভাল করতেন মাসুদ চৌধুরী। গাড়িটিতে চোখ পড়ে এমরান চৌধুরীর। তিনি ছলে-বলে-কৌশলে গাড়িটিকে তার নিয়ন্ত্রণে নিতে কুটচাল দেন।

প্রথমে দরকষাকষি করলেও পরে এটি তিনি ব্যবহারের জন্য নিয়ে যান।

এমরান যা বললেন

নিজে ব্যবহার করলেও গাড়িটির কাগজপত্র তথা রেকর্ড সম্পর্কে জানেন না বলে দাবি করেন জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী। গাড়িটি কার, তা-ও তার জানা নেই বলে দাবি।

এক প্রশ্নের জবাবে মিস্টার চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন,
“গাড়িটি আমি কিনিনি এখনো। উপশহরের বাসিন্দা বৃক্ষপ্রেমী আফতাব চৌধুরীর ছেলে মাসুদ চৌধুরীর সঙ্গে এ নিয়ে দরকষাকষি করছি। আপাতত তিনি এটি আমাকে ব্যবহারের জন্য দিয়েছেন।”

গাড়িটি কেনার আগ্রহ রয়েছে জানিয়ে এমরান চৌধুরী বলেন,
“১৩ লাখ টাকা তিনি দাম চেয়েছেন, ফলে এখনো কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।”

এ সময় তিনি জানান, তার ব্যবহার করা পুরাতন করোলা প্রাইভেট কারটি বিক্রি করে দিয়েছেন।

বিএনপি নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, গত রমজানের বেশিরভাগ সন্ধ্যা তথা ইফতার এমরান আহমদ চৌধুরী নিজ নির্বাচনী এলাকা গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারে করেছেন। সাইরেন বাজিয়ে ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড সম্বলিত ওই জিপ নিয়েই তিনি এলাকায় চলাফেরা করেন।

এমরান কাণ্ডের দায় বর্তাচ্ছে বিএনপির ঘাড়ে

অথচ দলের হাইকমান্ড পুরোপুরি অন্ধকারে। জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় এমরান আহমদ চৌধুরীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের দায় বর্তাচ্ছে বিএনপির ঘাড়ে।

তবে দলটির চেয়ারপারসন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ এ সম্পর্কে পুরোপুরি অন্ধকারে! এক নেতার কুকীর্তি ফাঁস হলে পুরো কমিটি বিলুপ্ত বা দলে থাকা পদ-পদবী চলে যাওয়ার ভয়ে জেলা, মহানগর তথা সিলেট অঞ্চলের অন্য নেতারাও বিষয়টি হাইকমান্ডে নিতে নারাজ।

যদিও একাধিক নেতা ঘরোয়া আলাপে স্বীকার করেন যে, সেই বার্তা হাইকমান্ডে না পৌঁছানোও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত, কিন্তু তারা অসহায়।

স্মরণ করা যায়, কপালি নেতা খ্যাত এমরান চৌধুরীর ভূমিকা ৫ই আগস্টের পূর্বে অনেকটা বিতর্কিত ছিল। আন্দোলনে নিষ্ক্রিয়তা এবং দেশ ছেড়ে বছরের পর বছর লন্ডনে আয়েশী জীবনের জন্য বরাবরই তিনি দলের ভেতরে সমালোচনার মুখোমুখি হন।

অবশ্য তিনি এসব কৌশলে সামাল দেন। মাঠে নেই এমনটা বুঝতে না দিতে হোয়াটসঅ্যাপে ঘনঘন বার্তা পাঠিয়ে দলের হাইকমান্ডকে আপডেট রাখেন চতুর ওই নেতা।

ঘনিষ্ঠরা জানান, সিলেটের অন্তত ডজনখানেক আওয়ামী লীগ নেতা এখনো এমরান চৌধুরীর শেল্টারে রয়েছেন।

বিশেষ পাথর ও বালু লুট সিন্ডিকেট। জনশ্রুতি আছে—কোম্পানীগঞ্জ, বিছনাকান্দি ও জাফলং থেকে লুটের কোটি কোটি টাকার পাথর ও বালু লুটের বখরার বড় অংশ পান তিনি।

পুলিশ প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়েছেন। তার আশ্রয়ে জাফলং কোয়ারিতে পাথর লুট মিশনের নেতৃত্ব দেন জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম শাহপরান ও বহিষ্কৃত কোষাধ্যক্ষ শাহ আলম স্বপন।

৫ই আগস্ট থেকে অদ্যবধি জাফলংয়ে থেমে থেমে লুটপাট চলছে। ৮ মাসে অবৈধভাবে হাজার কোটি টাকার পাথর-বালু উত্তোলন করা হয়েছে।

পাথর লুটসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে শাহপরানকে দল থেকে বহিষ্কার করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও এমরানের দৌঁড়ঝাঁপে তা আটকে গেছে। এমরানের আশ্রয়ে শাহপরান এখন জাফলংয়ের ত্রাসে পরিণত হয়েছে।

শাহপরান এখন তামাবিল স্থলবন্দরের স্বঘোষিত সভাপতি। বন্দর থেকে কয়েক মাসে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তিনি, যার ভাগ পেয়েছেন এমরান।

জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাটের চোরাকারবারি নিয়ন্ত্রক হচ্ছেন জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ।

প্রশাসন চোরাচালান বন্ধে সক্রিয় থাকলেও এমরানের নেতৃত্বে থাকা সিন্ডিকেট প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলেছে। ফলে বিজিবি সদস্যদের ওপর চোরাকারবারিদের হামলাসহ সীমান্ত এলাকায় নানা ঘটনা ঘটছে।

এমনই এক ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়েন চোরাকারবারের নিয়ন্ত্রক আব্দুর রশিদ। ভর্তি হন নগরীর বেসরকারি একটি হাসপাতালে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাসপাতালে ছুটে যান এমরান, রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন আব্দুর রশিদের সঙ্গে।

৫ই আগস্টের পর খানিকটা থমকে যাওয়া চিনি চোরাচালান চাঙা করতে এক্টিভ এমরান। সিলেট সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার চোরাই পণ্য আসে। গত মাসে এক দিনের কেবলমাত্র জাফলং লামাপুঞ্জি বস্তি থেকে ২২ কোটি টাকার ভারতীয় চোরাই পণ্য আটক করে বিজিবি। এটাই ছিল এ যাবৎ কালের সবচেয়ে বড় চালান।

জনপ্রিয়

কোন পথে বাংলাদেশ?

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এপিএসের গাড়ি এই বিএনপি নেতার কব্জায়। বর্তমানে এমরান আহমেদ সিলেট ৬ বিয়ানীবাজার গোলাপগঞ্জ থেকে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছে। অসামাজিক কার্যকলাপেও ডুবে থাকার অভিযোগ

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমেদের যত অপকর্ম!

প্রকাশিত : ০৫:৩৯:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

৫ই আগস্টের রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের পর আত্মগোপনে হাসিনা সরকারকে রক্ষায় অস্ত্রহাতে মাঠে থাকা “ডেভিল”রা। সিলেটজুড়ে থাকা আওয়ামী লীগের হাজার হাজার কর্মী-সমর্থককে চরম অনিশ্চয়তায় রেখে গা ঢাকা দেন পদ-পদবীধারী নেতারা। এটা প্রতিষ্ঠিত যে, সিলেটের সরল মানুষদের গত ১৫ বছর নানাভাবে শোষণ করেছে ক্ষমতার চরম অপব্যবহারকারী এসব নেতানেত্রীরা।

এদের মধ্যে ‘কুতুব’ শ্রেণীর নেতারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে জামাই আদরে দেশ ছেড়েছেন। তবে মাঠের ‘ডেভিল’রা সেই সুযোগ পায়নি। আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ক্ষোভের আগুন থেকে বাঁচতে তারা লিয়াঁজু করে স্থানীয় বিএনপি-জামাত নেতাদের সঙ্গে।

রিপোর্ট বলছে, তাদের বেশিরভাগই ক্ষমতার সিঁড়িতে অপেক্ষমাণ বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাদের যোগসাজশে সীমান্ত পাড়ি দিয়েছে। বিনিময়ে তারা তাদের অবৈধ সম্পদ, বাড়ি, গাড়ি, অস্ত্র, অর্থকড়ি সহায়তাকারীদের জিম্মায় রেখে গেছে! বিজিতদের সম্পত্তি অর্থাৎ ‘গনিমতের মাল’ মনে করে এসব ভাগবাটোয়ারা করেছেন বিজয়ী নেতারা।

এর মধ্যে একটি গাড়ির সন্ধান মিলেছে। বিস্তৃত অনুসন্ধান এবং বিআরটিএ’র রেকর্ড বলছে, গাড়িটি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ.কে. আব্দুল মোমেনের এপিএস শফিউল আলম ওরফে জুয়েলের নামে রয়েছে এখনো। প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সহধর্মিণী সেলিনা মোমেন, তার বান্ধবী সিলেটের রহস্যময়ী হেলেন আহমেদ এবং জুয়েল গাড়িটি ব্যবহার করতেন।

এটি এখন ভাগে পেয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী। তিনি অবশ্য তা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় ব্যবহারের জন্য উপহার পেয়েছেন বলে দাবি করেন।

মিস্টার চৌধুরীর ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, ৫ই আগস্টের পর থেকে টয়োটা ক্লুজার গাড়িটি ব্যবহার করছেন তিনি। ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড লাগানো এই জিপ গাড়িটি সিলেট জেলা প্রশাসনের কাছে বেশ পরিচিত। ফলে বিএনপি নেতার জিম্মায় যাওয়ার পর থেকে গাড়িটি নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক কানাঘুষা চলছে।

জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী সাম্প্রতিক সময়ে গাড়িটি নিয়ে আদালত পাড়ায় যাতায়াত করেন। তাছাড়া গাড়িটি নিয়ে তিনি তার নির্বাচনী এলাকা সিলেট-৬ আসনও চষে বেড়াচ্ছেন। এর আগে তিনি করোলা ব্র্যান্ডের একটি প্রাইভেট কার ব্যবহার করতেন বলে নিশ্চিত করেছেন তার সহকর্মী ঘনিষ্ঠজনরা।

বিআরটিএ’র রেকর্ড এবং গাড়ির তথ্য

বিআরটিএ’র রেকর্ড মতে, গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন শফিউল আলমের নামে। টয়োটা ক্লুজার গাড়িটির নাম্বার হচ্ছে ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৬৯৩৪

গাড়িটি ২০০৫ সালে বিআরটিএতে প্রথম রেজিস্ট্রেশন হয়। তিন হাত ঘুরে এটি শফিউল আলমের নামে যায়।

কয়েকজন এক্সপার্টের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাড়িটির বাজারমূল্য ১৭ থেকে ১৮ লাখ টাকা। নতুন হলে দাম দ্বিগুণ হতো। তবে রেজিস্ট্রেশনের সময় জুয়েল গাড়িটির মূল্য কারসাজি করেছেন। ডকুমেন্টে এয়ার কন্ডিশনসহ আরও কিছু সত্য-তথ্য গোপন করেছেন।

বিআরটিএ’র দায়িত্বশীলদের দাবি, কর ফাঁকি দিতে দালালদের পরামর্শে অনেকে এমনটি করে থাকেন, যা জরিমানাযোগ্য অপরাধ। জুয়েল গাড়িটির মূল্য দেখিয়েছেন সর্বসাকুল্যে মাত্র ১ লাখ টাকা!

বিআরটিএ’র রেকর্ড বলছে, প্রথমে গাড়িটি কেনা হয় ঢাকার ২, দিলকুশা কমার্শিয়াল এরিয়ার একে এম শফিউল ইসলাম-এর কাছ থেকে। গাড়িটি কেনেন মন্ত্রীর এপিএস শফিউল আলমের ভাই মাহবুবুল আলম। তিনি তার বাবার নাম দেখিয়েছেন মৃত বশির আহমদ।

তাদের বাসা শাহজালাল উপশহরের এ ব্লক, ৪ নম্বর রোড, ১২ নম্বর বাড়ি। ২০২২ সালের ৮ই মার্চ গাড়িটি নিজের নামে নেন শফিউল আলম জুয়েল। রেজিস্ট্রেশনে তিনি পিতার নাম বশির আহমদ ঠিক রাখলেও জেলা লিখেছেন ‘কক্সবাজার’।

এটা ইচ্ছাকৃত ভুল নাকি কোনো কিছু গোপন করতে করা হয়েছে তা নিয়ে সন্দিহান বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ।

বিআরটিএ অপারেশন উইংয়ের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মীর আহমদ তারিকুল ওমরের কাছে গাড়ির ছবি ও বিআরটিএ’র ডকুমেন্টের অসঙ্গতি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন—
“সার্ভারের যে তথ্য রয়েছে, সেটিই সরবরাহ করা হয়েছে। গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের সময় কী হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখতে হবে।”

উল্লেখ্য, সিলেটের আওয়ামী নেতারা কোটি টাকার মূল্যের দামী ব্র্যান্ডের গাড়ি ব্যবহার করতেন। সীমান্ত চোরাচালান, চাঁদাবাজি, পাথর ও বালু লুট—সব কিছুর সঙ্গেই তারা সম্পৃক্ত ছিলেন। চোরাচালান রাজ্য হরিপুরে প্রায় রাতেই দেখা মিলতো কোটি টাকার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এসব গাড়ির। জাফলং, তামাবিলেও কিছু গাড়ি ছিল।

২০১৮ সালে সিলেটের রাজনীতিতে অভিষিক্ত হয়েই এমপি, মন্ত্রী হন ড. এ.কে. আব্দুল মোমেন। তার বদৌলতে সিলেটে অনেকেই মহারথী হয়ে উঠেন, টাকা কামান দুই হাতে। শফিউল আলম জুয়েল তার অন্যতম। রহস্যময়ী নারী হেলেনের সঙ্গে টিমওয়ার্ক গড়ে ড. মোমেনের রাজ্যে অধিপতি হয়ে উঠেন তারা দু’জন।

৫ই আগস্টের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে হেলেন-জুয়েল সিলেট থেকে হঠাৎ উধাও। তাদের খুঁজছিল ছাত্র-জনতা। ক্ষোভের মুখে ছিলেন তারা। এই অবস্থায় তাদের বাড়ি-গাড়ি-সম্পদ যেখানেই ছিল, সেখানে রেখে আত্মগোপনে চলে যান।

এ সময় গাড়িটিও সিলেটে রেখে প্রাণ নিয়ে ভারতে পালান জুয়েল। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন—জুয়েল ভারত হয়ে বর্তমানে লন্ডনে। তার সিনিয়র বান্ধবী হেলেনও ব্রিটেনে রয়েছেন।

এমরানের কাছে গাড়ি বদল যেভাবে

ঘনিষ্ঠজনদের মতে, কানাইঘাটের গাছবাড়ি এলাকার বাসিন্দা শফিউল আলম জুয়েল। পিতা বশির উদ্দিন অনেক আগে উপশহরের এ ব্লকে বাসা নির্মাণ করেন।

এ ব্লকের বাসিন্দা সিলেটের পরিচিত মুখ ও বৃক্ষপ্রেমী আফতাব চৌধুরী। তার ছেলে মাসুদ চৌধুরী একজন ব্যাংকার ও পুরাতন গাড়ি বিক্রেতা।

৫ই আগস্ট যখন হেলেনকে সঙ্গে নিয়ে জুয়েল দেশ ছাড়েন, তখন গাড়িটি মাসুদ চৌধুরীর কাছে রেখে যান। মাসুদের প্রতিবেশী (শাহজালাল উপশহরের বাসিন্দা) জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, দলটির প্রভাবশালী নেতা।

এমরান ইতিমধ্যে নগরের উপশহরে বিশাল অফিস খুলেছেন। মধ্যরাত অবধি তিনি সেখানে অফিস করেন। সেই অফিসে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি জাফলং, ভোলাগঞ্জের কোয়ারি থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন হওয়া পাথর ও সারি নদীর বালুর বখরা আদায়ের হিসাব-নিকেশ সংরক্ষণ করেন।

হরিপুরের চোরাকারবারিরাও সেখানে ধর্ণা দেয়। ফলে টাকার খনি খ্যাত পূর্ব সিলেটের ‘ডন রঞ্জিত’-এর ভূমিকায় এখন বিএনপি নেতা এমরান।

শফিউল আলম জুয়েলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, গাড়িটি তিনি নিজ বাসাতেই রেখে গেছেন, এটি দেখভাল করতেন মাসুদ চৌধুরী। গাড়িটিতে চোখ পড়ে এমরান চৌধুরীর। তিনি ছলে-বলে-কৌশলে গাড়িটিকে তার নিয়ন্ত্রণে নিতে কুটচাল দেন।

প্রথমে দরকষাকষি করলেও পরে এটি তিনি ব্যবহারের জন্য নিয়ে যান।

এমরান যা বললেন

নিজে ব্যবহার করলেও গাড়িটির কাগজপত্র তথা রেকর্ড সম্পর্কে জানেন না বলে দাবি করেন জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী। গাড়িটি কার, তা-ও তার জানা নেই বলে দাবি।

এক প্রশ্নের জবাবে মিস্টার চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন,
“গাড়িটি আমি কিনিনি এখনো। উপশহরের বাসিন্দা বৃক্ষপ্রেমী আফতাব চৌধুরীর ছেলে মাসুদ চৌধুরীর সঙ্গে এ নিয়ে দরকষাকষি করছি। আপাতত তিনি এটি আমাকে ব্যবহারের জন্য দিয়েছেন।”

গাড়িটি কেনার আগ্রহ রয়েছে জানিয়ে এমরান চৌধুরী বলেন,
“১৩ লাখ টাকা তিনি দাম চেয়েছেন, ফলে এখনো কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।”

এ সময় তিনি জানান, তার ব্যবহার করা পুরাতন করোলা প্রাইভেট কারটি বিক্রি করে দিয়েছেন।

বিএনপি নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, গত রমজানের বেশিরভাগ সন্ধ্যা তথা ইফতার এমরান আহমদ চৌধুরী নিজ নির্বাচনী এলাকা গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারে করেছেন। সাইরেন বাজিয়ে ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড সম্বলিত ওই জিপ নিয়েই তিনি এলাকায় চলাফেরা করেন।

এমরান কাণ্ডের দায় বর্তাচ্ছে বিএনপির ঘাড়ে

অথচ দলের হাইকমান্ড পুরোপুরি অন্ধকারে। জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় এমরান আহমদ চৌধুরীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের দায় বর্তাচ্ছে বিএনপির ঘাড়ে।

তবে দলটির চেয়ারপারসন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ এ সম্পর্কে পুরোপুরি অন্ধকারে! এক নেতার কুকীর্তি ফাঁস হলে পুরো কমিটি বিলুপ্ত বা দলে থাকা পদ-পদবী চলে যাওয়ার ভয়ে জেলা, মহানগর তথা সিলেট অঞ্চলের অন্য নেতারাও বিষয়টি হাইকমান্ডে নিতে নারাজ।

যদিও একাধিক নেতা ঘরোয়া আলাপে স্বীকার করেন যে, সেই বার্তা হাইকমান্ডে না পৌঁছানোও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত, কিন্তু তারা অসহায়।

স্মরণ করা যায়, কপালি নেতা খ্যাত এমরান চৌধুরীর ভূমিকা ৫ই আগস্টের পূর্বে অনেকটা বিতর্কিত ছিল। আন্দোলনে নিষ্ক্রিয়তা এবং দেশ ছেড়ে বছরের পর বছর লন্ডনে আয়েশী জীবনের জন্য বরাবরই তিনি দলের ভেতরে সমালোচনার মুখোমুখি হন।

অবশ্য তিনি এসব কৌশলে সামাল দেন। মাঠে নেই এমনটা বুঝতে না দিতে হোয়াটসঅ্যাপে ঘনঘন বার্তা পাঠিয়ে দলের হাইকমান্ডকে আপডেট রাখেন চতুর ওই নেতা।

ঘনিষ্ঠরা জানান, সিলেটের অন্তত ডজনখানেক আওয়ামী লীগ নেতা এখনো এমরান চৌধুরীর শেল্টারে রয়েছেন।

বিশেষ পাথর ও বালু লুট সিন্ডিকেট। জনশ্রুতি আছে—কোম্পানীগঞ্জ, বিছনাকান্দি ও জাফলং থেকে লুটের কোটি কোটি টাকার পাথর ও বালু লুটের বখরার বড় অংশ পান তিনি।

পুলিশ প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়েছেন। তার আশ্রয়ে জাফলং কোয়ারিতে পাথর লুট মিশনের নেতৃত্ব দেন জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম শাহপরান ও বহিষ্কৃত কোষাধ্যক্ষ শাহ আলম স্বপন।

৫ই আগস্ট থেকে অদ্যবধি জাফলংয়ে থেমে থেমে লুটপাট চলছে। ৮ মাসে অবৈধভাবে হাজার কোটি টাকার পাথর-বালু উত্তোলন করা হয়েছে।

পাথর লুটসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে শাহপরানকে দল থেকে বহিষ্কার করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও এমরানের দৌঁড়ঝাঁপে তা আটকে গেছে। এমরানের আশ্রয়ে শাহপরান এখন জাফলংয়ের ত্রাসে পরিণত হয়েছে।

শাহপরান এখন তামাবিল স্থলবন্দরের স্বঘোষিত সভাপতি। বন্দর থেকে কয়েক মাসে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তিনি, যার ভাগ পেয়েছেন এমরান।

জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাটের চোরাকারবারি নিয়ন্ত্রক হচ্ছেন জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ।

প্রশাসন চোরাচালান বন্ধে সক্রিয় থাকলেও এমরানের নেতৃত্বে থাকা সিন্ডিকেট প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলেছে। ফলে বিজিবি সদস্যদের ওপর চোরাকারবারিদের হামলাসহ সীমান্ত এলাকায় নানা ঘটনা ঘটছে।

এমনই এক ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়েন চোরাকারবারের নিয়ন্ত্রক আব্দুর রশিদ। ভর্তি হন নগরীর বেসরকারি একটি হাসপাতালে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাসপাতালে ছুটে যান এমরান, রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন আব্দুর রশিদের সঙ্গে।

৫ই আগস্টের পর খানিকটা থমকে যাওয়া চিনি চোরাচালান চাঙা করতে এক্টিভ এমরান। সিলেট সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার চোরাই পণ্য আসে। গত মাসে এক দিনের কেবলমাত্র জাফলং লামাপুঞ্জি বস্তি থেকে ২২ কোটি টাকার ভারতীয় চোরাই পণ্য আটক করে বিজিবি। এটাই ছিল এ যাবৎ কালের সবচেয়ে বড় চালান।