“অতীতের অনেক কথাই মনে পড়ছে। আপনার (জিয়াউর রহমান) সাথে আমার অনেক স্মৃতি আছে, অনেক মিল আছে। আপনি যুদ্ধের সময় যে ঘড়িটা ব্যবহার করতেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হয়েও সে ঘড়িটাই আপনার হাতে আছে। আমি আমার বাবার দেয়া বাড়িতেই আছি, বাবার কেনা আসবাবপত্রই ব্যবহার করছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় আপনিও এক কাপড়ে ছিলেন, আমিও এক কাপড়েই ছিলাম। তখন যুদ্ধ করা, হানাদারদের আঘাত করা, দেশের স্বাধীনতা অর্জন করা ছাড়া, অন্য কোন ব্যাপার আমাদের মাথায় ছিল না।
সে সময় ভাবীদের (জিয়াউর রহমানের মিসেস বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর দুই সন্তান) কি অবস্থা হবে, তাঁরা কোথায় থাকবে, ভারতে চলে আসবে কিনা – এসব ব্যাপার নিয়ে যখন আপনি র্বাতা বাহকের সাথে কথা বলছিলেন, তখন আমি আপনার সামনে ছিলাম। আপনি তাদেরকে (বার্তা বাহককে) বলেছিলেন –
“তাঁরা কোথায় থাকবে (বেগম খালেদা জিয়া, তারেক ও কোকো), কি করবে সে বিষয়ে ভাববার অবকাশ নেই। তাদেরকে তাদের মত করে সেভ থাকতে বলো”
পরে আমি শুনেছি , সেই সময় জেনারেল জিয়াউর রহমানের মিলিটারী সেক্রেটারী ছিলেন কর্নেল অলি। চট্টগ্রামে আমি যখন আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে বিরোধী দলের মিছিলে আক্রান্ত হয়েছি এবং আমার অবস্থা যখন সংটাপন্ন ছিল – তখন এ খবর শুনে জেনারেল জিয়া বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি কর্নেল অলিকে নির্দেশ দেন সরাসরি মেডিকেল থেকে খবরাখবর নেয়ার জন্য। যতক্ষণ পর্যন্ত আমার অপারেশন সাকসেসফুল হওয়ার খবর পাননি, ঠিক ততক্ষন পর্যন্ত জিয়াউর রহমান আমার সংবাদের জন্য জেগে ছিলেন।
ত্ররপর বেশ কিছুদিন পর জিয়াউর রহমান নিহত হলেন। জেনারেল জিয়া মারা গেলেন শুক্রবার রাতে। বৃহস্পতিবার রাতে আমরা চট্টগ্রাম ক্লাবে বসে তাস খেলছিলাম।দেখি কর্নেল (যে জিয়াউর রহমানকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন, তাঁর নাম ঠিক মনে করতে পারছি না) আমার দিকে এগিয়ে এসে বললো, “মোশাররফ ভাই, আজ তাড়াতাড়ি চলে যাচ্ছি, সুখবর আছে আপনাকে পরে জানাব।” আমি মনে করলাম তাঁর হয়তো প্রমোশন হবে, ভালো কোন জায়গায় পোস্টিং হবে। আমি উৎসাহিত হয়ে আর কোন প্রশ্ন করলাম না। আমি ঘরে ফিরে এসে চুপচাপ বসে থাকলাম অনেকক্ষণ।
জিয়াউর রহমান বিএনপি করেন, আর আমি আওয়ামী লীগের কর্মী সেটা বড় কথা নয়। জেনারেল জিয়াউর রহমান আমার যুদ্ধ কালীন বন্ধু। আমরা জীবনবাজি রেখে একদিন যুদ্ধ করেছি। তার মৃত্যুর খবর আমাকে বিশাল এক শুণ্যতার সাগরে ঠেলে দিল॥”
তথ্য সূত্র- ইঞ্জি: মোশাররফ হোসেন – “ফেলে আসা দিনগুলি”- তৃপ্তি প্রকাশ কুঠি – জুন -২০১১- পৃ: -১৪৯ -১৭২।
নিজস্ব প্রতিবেদক 















