একসময় যার স্বপ্ন ছিল জাতীয় দলের হয়ে ক্রিকেট খেলা, তিনিই আজ বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী ক্রীড়াঙ্গনের এক অনন্য পথিকৃৎ। মো: ইসলাম উদ্দিন নামটা অনেকের কাছে অপরিচিত হলেও, মাঠের পেছনে থেকে যিনি গত এক দশকে দেশের ক্রিকেটে অবদান রেখে চলেছেন নীরবে-নিভৃতে।
১৯৯৯ সালে বিকেএসপিতে ভর্তি হয়ে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নে পা বাড়ান মোঃ ইসলাম উদ্দিন। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের উপস্থিতি জানান দিলেও তিনি থেমে থাকেননি কেবল খেলোয়াড় পরিচয়ে। পাশাপাশি চালিয়ে গেছেন লেখাপড়াও। সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করেছেন দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, সর্বশেষ ২০১৩ সালে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া ২০১৮ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ব্যাচেলর অব ফিজিক্যাল এডুকেশন সম্পন্ন করেন।

তবে মো: ইসলাম উদ্দিন–এর আসল গল্প শুরু হয় ক্রিকেট কোচিং দিয়ে। ২০১৪ সালে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ব্রাদার্স ইউনিয়নের সহকারী কোচ হিসেবে যাত্রা শুরু। এরপর ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব, খুলনা বিভাগ, ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোনের মতো দলেও কাজ করেছেন স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ হিসেবে। জাতীয় নারী দলের ট্রেইনার হিসেবে ২০১৬ সালে কাজ করার অভিজ্ঞতা, আর বিপিএলে রংপুর রাইডার্স, বরিশাল বুলস, সিলেট সিক্সার্স ও সিলেট সানরাইজার্সের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজির সাথেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
কিন্তু তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তৈরি হয় ২০১৭ সালে। সেই বছর বাংলাদেশ হুইলচেয়ার ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হিসেবে দলের নেতৃত্ব দেন এশিয়া কাপে। নজরকাড়া পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ দল জায়গা করে নেয় আন্তর্জাতিক মানচিত্রে। এরপর থেকেই প্রতিবন্ধী ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজকে জীবনের অন্যতম মিশনে পরিণত করেন মো: ইসলাম উদ্দিন।
২০২২ সালে স্পেশাল অলিম্পিক বাংলাদেশ দলের কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এই সময়কালে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সঙ্গে কাজ করার জন্য তিনি পেয়েছেন সেরা কোচ এর স্বীকৃতি।

শুধু কোচ হিসেবেই নয়, বিভিন্ন সময়ে সিলেকশন প্যানেলের সদস্য, আশুলিয়া ক্রিকেট একাডেমির হেড কোচ, বিশেষ ক্রীড়া সংগঠন দেশি স্পোর্টস ডিরেক্টর, এমনকি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন মো: ইসলাম উদ্দিন। তার স্বপ্ন একটাই—বিশ্ব ক্রিকেটকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানবিক ও প্রশিক্ষণভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাওয়া।
আজকের ক্রিকেট বিশ্বে যেখানে তারকাদের আলোয় ঢেকে যায় পেছনের মানুষের অবদান, সেখানে মো: ইসলাম উদ্দিন যেন এক সাহসী ব্যতিক্রম। যিনি প্রমাণ করেছেন, ক্রিকেট কেবল মাঠেই নয়, মনের সাহস, বিশ্বাস আর শ্রমের গল্পও বটে।
ক্রীড়া প্রতিবেদক 















