ম্যাচ জয়ের অর্ধেক কাজ ব্যাটাররা করেছিলেন দলের ব্যাটিং পর্বে। বাকি অর্ধেক কাজ সম্পন্ন করলো বোলাররা বোলিংয়ের ধাপে। ব্যাটে- বলে সমান দাপট দেখিয়ে বাংলাদেশ জিতলো সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। জয়ের ব্যবধানে ৬৮ রানে। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে সমতা নিয়ে এলো বাংলাদেশ।
শারজার মাঠে ওয়ানডেতে এটিই বাংলাদেশের প্রথম কোনো ওয়ানডে ম্যাচ জয়। পেছনের ২৯ বছরে এই মাঠে বাংলাদেশ টানা ৬টি ওয়ানডে ম্যাচে হেরেছিল। সাত নম্বর ম্যাচে এসে হাসলো প্রথমবারের মতো জয়ের হাসি। টসে জিতে বাংলাদেশ ২৫২ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে। শারজার উইকেটে এই রানকে নিরাপদ স্কোর বলাই যায়। বাংলাদেশের বোলাররা সেই প্রমাণই রাখলেন।
ম্যাচের মাঝপথে পথ হারালো আফগানিস্তান। আর দিশা ফিরে পেল না। শুরুতে চ্যালেঞ্জিং স্কোর এবং পরে পরিকল্পিত বোলিং-এই দুইয়ের সম্মিলিত চেষ্টায় বাংলাদেশ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতলো ৬৮ রানে। বাংলাদেশের ২৫২ রানের জবাবে আফগানিস্তান গুটিয়ে গেল ১৮৪ রানে। ব্যাটে-বলে দৃঢ়তা দেখিয়ে সিরিজ ১-১ করলো বাংলাদেশ।
১১ নভেম্বর তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে হবে সিরিজের ট্রফি জেতার সমাধান। শারজায় তিন ম্যাচের এই ওয়ানডের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছিল ৯২ রানে। পরের ম্যাচেই সেই দুঃখ ভুলে সিরিজে ফিরলো।
আগের ম্যাচের বাজে ব্যাটিংয়ের দুঃখও ভুলল বাংলাদেশ এই ম্যাচে। ওপেনার সৌম্য সরকার উইকেটে সেট হয়ে আউটের বাজে অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি এই ম্যাচেও। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ব্যাট হাতে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে দলের সর্বোচ্চ স্কোরার। ৭৬ রানের তার হাফসেঞ্চুরি বাংলাদেশকে বড় রানের পথে রাখে। মিডলঅর্ডারে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও তাওহীদ হৃদয় এই ম্যাচেও ব্যর্থ। তবে জীবনের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে খেলতে নেমে জাকের আলী অনিক ও দলে ফেরা নাসুম আহমেদ সপ্তম উইকেটে ৪৬ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের স্কোরকে দুশোর ওপরে নিয়ে যান।
আড়াই’শ উর্ধ্ব এই রানের বড় কৃতিত্বের দাবিদার অধিনায়ক শান্ত এবং শেষের দিকে জাকের আলী ও নাসুম আহমেদের সপ্তম উইকেটের জুটি। শান্ত হাফসেঞ্চুরি করেন। জাকের ও নাসুম আহমেদ সপ্তম উইকেটে মাত্র ৪১ বলে ৪৬ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের স্কোরকে চ্যালেঞ্জিং পর্যায় পৌছে দেন। অভিষেক ওয়ানডেতে তিন ছক্কা ও ১ বাউন্ডারিতে জাকের আলী ২৭ বলে অপরাজিত ৩৭ রানের ইনিংস খেলেন।

জয়ের জন্য ২৫৩ রানের পিছু তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তান তাদের ইনিংসের মাঝ পথ পর্যন্ত জয়ের সম্ভাবনায় ছিল। কিন্তু অধিনায়ক হাসমাতউল্লাহ শহিদি পেসার মুস্তাফিজুরের বলে হুক শট খেলতে খেয়ে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ দিয়ে ফেরার পরই বদলে যায় ম্যাচের মোড়। স্পিনার নাসুম নতুন ব্যাটার ওমরজাইকে শূন্য রানে বিদায় করেন। সেই ওভারেই গুলবুদ্দিন নাইমের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হন রহমত শাহ। ৫২ রান করে
আফগানিস্তানকে জয়ের পথে রেখেছিলেন রহমত শাহ। এই রান আউটই আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়ের কোমর ভেঙ্গে দেয়। মেহেদি হাসান মিরাজ তার শেষের বোলিং স্পেলে এসে টপাটপ দুই উইকেট তুলে নিলে বাংলাদেশকে জয়ের স্বপ্ন দেখান।
২৯ ওভারে ২ উইকেটে ১১৮ রান তোলা আফগানিস্তান হঠাৎ গুটিয়ে যায় ১৮৪ রানে। শেষ ৮ উইকেট হারায় আফগানিস্তান মাত্র ৬৬ রানে। ম্যাচ হারে ৬৮ রানের বড় ব্যবধানে। সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস এবং হারের সঙ্গে আফগানিস্তানের হারের এই প্যাটার্নটা মিলে যাচ্ছে বেশ।
স্পোর্টস ডেস্ক 

























