রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত জাকারিয়া ইন্টারন্যাশনাল রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে ভিআইপি রুম না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে যুবদল নেতা মনির হোসেনের নেতৃত্বে একদল অনুসারী হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলার সময় নারীদের লাঞ্ছিত করা, কর্মচারীদের মারধর এবং নগদ অর্থ ও বিদেশি মদ লুটের ঘটনাও ঘটেছে।
গত মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক জানান, হামলার ঘটনায় রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের করেছে। মামলার বাদী রেস্টুরেন্টের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার আবু বকর সিদ্দিক।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার আগের দিন মনির হোসেন নিজেকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা পরিচয় দিয়ে রেস্টুরেন্টের ভিআইপি রুম দাবি করেন। রুম খালি না থাকায় তাকে সাধারণ টেবিলে বসানো হয়। খাবার শেষে বিলের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হলেও মনির হোসেন ক্ষুব্ধ হয়ে হুমকি দিয়ে রেস্টুরেন্ট ত্যাগ করেন।
পরদিন রাতে মনির হোসেনের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি দল রেস্টুরেন্টে ঢুকে টিভি, চেয়ার, টেবিল, সিসিটিভি ক্যামেরা, মনিটর, ল্যাপটপ, গ্লাসসহ বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুর করে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি করে। পাশাপাশি কাউন্টার থেকে ৭০ হাজার টাকা ও স্টোর থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকার বিদেশি মদ লুট করে নিয়ে যায়। হামলাকারীরা কর্মচারীদের মারধর করে এবং রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়।
হামলার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আতঙ্কিত নারীরা বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাদের লাঞ্ছিত করে। বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বনানী থানার এসআই এমদাদুল হক বলেন, “নারী লাঞ্ছনার অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
ঘটনার পর যুবদল এক বিবৃতিতে জানায়, মনির হোসেনকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনের আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তার প্রাথমিক সদস্যপদও বাতিল করা হয়েছে। যুবদল জানিয়েছে, “দল থেকে বহিষ্কৃত কারও আচরণের দায় দল নেবে না। নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়রা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 















