প্রাক্তন ও কর্মরত সরকারি কর্মচারী, আমলার একের পর দুর্নীতির ঘটনা সামনে আসা, তাঁদের বিপুল ধন-সম্পত্তির খবর জানাজানি হওয়ায় বিগত কয়েক মাস যাবত বাংলাদেশের রাজনীতির ময়দান বেশ তপ্ত। দুর্নীতির দমন কমিশন (দুদক) লাগাতার অভিযানে ব্যস্ত। এই পরিস্থিতিতে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে নতুন মাত্রা যোগ করলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর সরকারি বাসভবনে একটা কর্মরত এক পিওনের বিপুল বৈভবের কাহিনি। হাসিনা বলেন, আমার বাসায় কাজ করে গেছে পিওন সে এখন চারশো কোটি টাকার মালিক। হেলিকপ্টার ছাড়া চলে না।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানতে পারা মাত্র ব্যবস্থা নিয়েছি। তার যাবতীয় সরকারি নথিপত্র, পরিচয়পত্র ইত্যাদি বাজেয়াপ্ত করে দিয়েছি যাতে বেআইনি টাকা ছুঁতে না পারে।’
প্রধানমন্ত্রীর মুখে এই কথা শোনার পর দেশে দুর্নীতি বিরোধী জনমত আরও জোরদার হয়ে উঠেছে। ছড়িয়েছে উদ্বেগও। শুধু সাম্প্রতিককালেই প্রাক্তন ও বর্তমান মিলিয়ে অন্তত চারজন প্রাক্তন ও বর্তমান আমলা এবং সাধারণ কর্মচারীর বেআইনি পথে বিপুল অর্থ উপার্জনের ঘটনা সামনে এসেছে। তবে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর অফিসের পিওন পদে চাকরি করে চারশো কোটি টাকা রোজগারের ঘটনা সবাইকে অবাক করে দিয়েছে।
গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অফিস ও বাড়ি। তাঁর একাধিক পিওন আছেন। তিনি অভিযুক্ত পিওনের নাম মুখে আনেননি। এই অনিয়ম কবে সামনে এসেছে সে বিষয়টিও স্পষ্ট করেননি। গণভবনের সাংবাদিক সম্মেলনে বিষয়টি প্রকাশ্যে জানান।
অনিয়মের ঘটনায় যাঁদের নাম জড়িয়েছে তাঁদের একজন মতিউর রহমান বাংলাদেশে রাজস্ব বোর্ডের সদস্য ছিলেন। গত ঈদে তাঁর ছেলে ১৬ লাখ টাকায় একটি ছাগল কিনে বিপাকে ফেলে দেয়। ছেলের ছাগল কেনার সুবাদে মতিউরের বেআইনি সম্পত্তির খোঁজ মেলে। জানা যায়, দুই স্ত্রীর পৃথক সরকার চালানোর পরও একাধিক বাড়ি-গাড়ি মিলিয়ে বিপুল টাকার মালিক রাজস্ব বোর্ডের ওই সদস্য, গত তিরিশ বছরে যাঁকে একবার বদলি হতে হয়নি।
এদিকে মাস দুই হল দুর্নীতি ও রাজনীতি সংক্রান্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দেশটির পুলিশ বাহিনীর সাবেক প্রধান বেনজির আহমেদ। ঢাকার একটি সংবাদপত্রে অবসরপ্রাপ্ত ওই পুলিশ কর্তার বিপুল সম্পত্তির বিষয়টি জানাজানি হতেই তিনি বেপাত্তা। এখনও পর্যন্ত জমি-বাড়ি-ফ্ল্যাট, ব্যাঙ্ক এবং শেয়ার বাজারে জমা অর্থ যোগ করে বেনজিরের নামে-বেনামে হাজার কোটি টাকার বেশি সম্পদের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। স্ত্রী ও দুই কন্যাকে নিয়ে তিনি দেশে আছেন নাকি বিদেশে পালিয়েছেন, সে ব্যাপারে বাংলাদেশের পুলিশ-প্রশাসন থেকে মন্ত্রী-আমলা, সকলেই মুখে কুলুপ এঁটেছেন।
কর্মরত অবস্থাতেই নানা অনিয়নমের অভিযোগে নাম জড়িয়েছিল বাংলাদেশের সাবেক সেনা প্রধান আজিজ আহমেদের। অবসর গ্রহণের পর তাঁর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন প্রশাসন। এই নিষেধাজ্ঞার অর্থ আজিজ বা তাঁর পরিবারের কেউ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন না এবং সে দেশে তাঁদের কোনও সম্পত্তি থাকলে তা বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে। আজিজ এবং বেনজিরের ক্ষেত্রেও রাজনীতিকদের প্রশ্রয়, আশ্রয়ের কথাই সামনে এসেছে। দেশটিতে ২০০৯ থেকে ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লিগ। তাৎপর্যপূর্ণ হল হালে নানা অনিয়নে নাম জড়ানো প্রাক্তন ও বর্তমান আমলারা বিএনপি জমানাতেও সমান সক্রিয় ছিলেন এবং তখনও দুর্নীতি, অনিয়মে নাম জড়ায় তাঁদের।
পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের চক্র নিয়ে রাজনীতিতে তোলপাড় চলছে। ওই ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত হিসাবে যাকে গ্রেফতার করেসে সেইল সৈয়দ আবেদ আলি দেশটির পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়ি চালক। তদন্তে জানা গিয়েছে ঘুষের টাকায় বিপুল সম্পত্তি করেছে একদা কুলির কাজ করা সাদেক আলি। এখনও পর্যন্ত শুধু ঢাকাতেই তাঁর পঞ্চাশ কোটি টাকার সম্পত্তির হদিস পেয়েছেন গোয়েন্দারা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 















