০১:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
ঝুঁকিতে ভিটা কৃষি জমি

আ.লীগের নেতাদের নেতৃত্বে বালু উত্তোলন


সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার প্রশাসন ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীসহ সব মহলকে ম্যানেজ করে অনেকটা দাপটের সঙ্গেই লুটের এই মহোৎসবে মেতেছেন আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী বালুদস্যুরা। অনেকটা নির্বিঘ্নেই দিনে-রাতে সমানতালে সেলু মেশিন দিয়ে চলছে ফসলি জমির বুক চিরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। এতে করে শত শত হেক্টর কৃষি জমি বিনষ্ট হচ্ছে। ফলে কমতে শুরু করেছে খাদ্য উদ্বৃত্ত।

সরেজমিনে দেখা যায়, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বুড়দেও নামক স্থানে ৮/১০ টি স্থানে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নির্বিকারে বালু উত্তোলনের চিত্র দেখা গেছে।


কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বুড়দেও নামক স্থানে ৮/১০ টি স্থানে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন। ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় ভুক্তভোগী  কৃষকদের অভিযোগ, ওই এলাকায় পাওয়া বালু নির্মাণ কাজের জন্য বিশেষ উপযোগী হওয়ায় এবং দাম কম হওয়ায় স্থানীয়ভাবে ভালো চাহিদা রয়েছে। এ জন্য প্রশাসনের ছত্রছায়ায় গ্রামের প্রভাবশালী একটি চক্র কৃষি জমি থেকে বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলন করছেন।কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বালু তোলায় কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। শঙ্কা দেখা দিয়েছে পরিবেশ বিপর্যয়ের।

এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে গত শনিবার কোম্পানীগঞ্জ থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। তবে বন্ধ হয়নি বালু উত্তোলন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় বালুর দাম কম হওয়ায় স্থানীয়ভাবে ভালো চাহিদা রয়েছে। এ জন্য ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় গ্রামের প্রভাবশালী একটি চক্র কৃষিজমি থেকে বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলন করছেন।

ড্রেজার মালিক ও বালুখেকোদের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে বিপুল সংখ্যক কৃষি জমি। সরকারি পাকারাস্তা সহ কৃষি জমি ঘেঁষা পাকারাস্তার লাগোয়া থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে গভীর করে বালু ও মাটি উত্তোলন করায় পাড় ভেঙে কৃষি জমিগুলো এখন ভাঙনের মুখে পড়েছে। এতে করে তাদের মালিকানা কৃষি জমি নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে অনেক কৃষক। ইতোমধ্যে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধসহ কৃষি জমি রক্ষায় জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী কৃষকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, গ্রামবাসী বেশ কয়েকবার অভিযুক্তদের এ কাজে বাধা দিলেও তারা উল্টো কৃষি জমির মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। তারা কৃষি জমি রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

জাতীয় পুনর্গঠন কৌশল (National Reconstruction Strategies)

ঝুঁকিতে ভিটা কৃষি জমি

আ.লীগের নেতাদের নেতৃত্বে বালু উত্তোলন

প্রকাশিত : ০৯:৪২:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ নভেম্বর ২০২৪

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার প্রশাসন ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীসহ সব মহলকে ম্যানেজ করে অনেকটা দাপটের সঙ্গেই লুটের এই মহোৎসবে মেতেছেন আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী বালুদস্যুরা। অনেকটা নির্বিঘ্নেই দিনে-রাতে সমানতালে সেলু মেশিন দিয়ে চলছে ফসলি জমির বুক চিরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। এতে করে শত শত হেক্টর কৃষি জমি বিনষ্ট হচ্ছে। ফলে কমতে শুরু করেছে খাদ্য উদ্বৃত্ত।

সরেজমিনে দেখা যায়, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বুড়দেও নামক স্থানে ৮/১০ টি স্থানে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নির্বিকারে বালু উত্তোলনের চিত্র দেখা গেছে।


কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বুড়দেও নামক স্থানে ৮/১০ টি স্থানে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন। ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় ভুক্তভোগী  কৃষকদের অভিযোগ, ওই এলাকায় পাওয়া বালু নির্মাণ কাজের জন্য বিশেষ উপযোগী হওয়ায় এবং দাম কম হওয়ায় স্থানীয়ভাবে ভালো চাহিদা রয়েছে। এ জন্য প্রশাসনের ছত্রছায়ায় গ্রামের প্রভাবশালী একটি চক্র কৃষি জমি থেকে বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলন করছেন।কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বালু তোলায় কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। শঙ্কা দেখা দিয়েছে পরিবেশ বিপর্যয়ের।

এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে গত শনিবার কোম্পানীগঞ্জ থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। তবে বন্ধ হয়নি বালু উত্তোলন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় বালুর দাম কম হওয়ায় স্থানীয়ভাবে ভালো চাহিদা রয়েছে। এ জন্য ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় গ্রামের প্রভাবশালী একটি চক্র কৃষিজমি থেকে বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলন করছেন।

ড্রেজার মালিক ও বালুখেকোদের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে বিপুল সংখ্যক কৃষি জমি। সরকারি পাকারাস্তা সহ কৃষি জমি ঘেঁষা পাকারাস্তার লাগোয়া থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে গভীর করে বালু ও মাটি উত্তোলন করায় পাড় ভেঙে কৃষি জমিগুলো এখন ভাঙনের মুখে পড়েছে। এতে করে তাদের মালিকানা কৃষি জমি নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে অনেক কৃষক। ইতোমধ্যে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধসহ কৃষি জমি রক্ষায় জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী কৃষকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, গ্রামবাসী বেশ কয়েকবার অভিযুক্তদের এ কাজে বাধা দিলেও তারা উল্টো কৃষি জমির মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। তারা কৃষি জমি রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।