কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জি থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলার গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, ফেঞ্চুগঞ্জ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, ফেঞ্চুগঞ্জসহ বেশ কিছু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে গোয়াইনঘাট-রাধানগর রাস্তা দিয়ে পানি উপচে পড়ছে। এ অবস্থায় পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
গোয়াইনঘাট উপজেলার রাধানগর গ্রামের বাসিন্দা আমির উদ্দিন বলেন, সকালের পর থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। নিম্নাঞ্চলের হাওর পানিতে টইটুম্বুর হয়ে পড়েছে। পানি রাস্তার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
ফেঞ্চুগঞ্জ কচুয়াবহর এলাকার বাসিন্দা শাহরিয়া নাঈম বলেন, কুশিয়ারা নদীর পানি উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। নদী সংলগ্ন এলাকাতে হু হু করে পানি বাড়ছে। তাছাড়া ফেঞ্চুগঞ্জ বাজারের আবারও পানি প্রবেশ করেছে। এতে এসব এলাকার বাসিন্দারা ভয়ে-আতঙ্কে দিন যাপন করছেন। অনেকে আশ্রয়ের খোঁজে রয়েছেন। দফা দফা বন্যায় এসব এলাকার বাসিন্দারা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলেও তিনি জানান।
সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ অমর চন্দ্র বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ৩৬ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৪ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় সিলেটে ভারী থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এদিকে ভারতের আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জিতে ৩০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিকেল ৩টার তথ্য অনুযায়ী ওই পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর শেরপুর পয়েন্টেও পানি বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাছাড়া সুরমা, কুশিয়ারা, সারি, সারি গোয়াইন, ডাউকি, ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি বলেন, সিলেটে ও ভারতের উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পাহাড়ি ঢল নামা শুরু হয়েছে এতে করে নিম্নাঞ্চল এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। আমাদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো আবারও খোলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি উদ্ধার কাজের জন্য নৌকা প্রস্তুত রয়েছে। আমাদের প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বেচ্ছাসেবক সবাইকে প্রস্তুত থাকার জন্য বলা হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, উপজেলার সকল নির্বাহী কর্মকর্তাকে বন্যা পরিস্থিতির উপর নজর রাখার জন্য বলা হয়েছে। বিশেষ করে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক যারা রয়েছেন তারাও যেন প্রস্তুতি থাকেন সে বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হবে।
















