০৪:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
কমপ্লিট শাটডাউন অব্যাহত থাকবে

শেখ হাসিনা ও তার সরকারের পদত্যাগ দাবি আন্দোলনকারীদের


সারাদেশে কোটা বাতিলের দাবীতে আন্দোলনে সহিংসতায় সরকারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের সংখ্যা তিনশতাধিক পেরিয়েছে। আহত হয়েছে ২০ হাজারেরও বেশি আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রী। 

আজ রবিবার (২১জুলাই) উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করেছে। একই সঙ্গে কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা, ১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও ১ শতাংশ তৃতীয় লিঙ্গের জন্য রাখার রায় দিয়েছে। ফলে ৯৩ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের কথা রায়ে বলা হয়েছে।

এদিকে রায়ের পর একাধিক রাজনৈতিক দল ও ছাত্র জোট সর্বাত্মক আন্দোলনের ডাক দিয়েছে, যার একমাত্র দাবি হচ্ছে শেখ হাসিনা ও তার সরকারের পদত্যাগ। শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে পদত্যাগের দাবী আন্দোলনকারীদের। হাসিনার পদত্যাগ ছাড়া ঘরে ফিরে যাবেন না বলেও জানান তারা।

আন্দোলকারী ছাত্রছাত্রীরা বলেন, প্রতিটি রক্তের ফোঁটার, প্রতিটি আঘাতের হিসাব নেয়া হবে। সবকিছু মনে রাখা হবে। এতোগুলো হত্যার পর, এতো আঘাতের পর খুনি সরকারের পদত্যাগ ছাড়া ঘরে ফিরে যাওয়া মানে সহযোদ্ধাদের রক্তের সাথে বেঈমানি।

খুনি ও নিপীড়ক সরকারের পতন ছাড়া এই অচলাবস্থার নিরসন হবে না। শিক্ষার্থী এবং দেশের মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না। এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে উদ্ভূত পরিস্থিতির কোন সমাধান সম্ভব নয়। আমরা সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনার অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছি। এই রক্তাক্ত চেয়ারে তার থাকার আর কোন অধিকার নেই।

আপিল বিভাগের রায় ঘোষণার পর সংগঠনটির ৫৯ জন সমন্বয়ক ও সহসমন্বয়ক এক যৌথ বিবৃতিতে রবিবার বলেন, কমপ্লিট শাটডাউন অব্যাহত থাকবে। আদালতের এই রায় পক্ষপাতদুষ্ট পরবর্তীতে সরকার এই রায়কে যথেচ্ছা ব্যবহার করতে পারবে।

সমন্বয়ক আবদুল কাদের স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে ৯ দফা উল্লেখ করে বলা হয়েছে সরকারকে এই দাবীগুলো মেনে নিতে হবে অবিলম্বে। এতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সব হত্যার দায় নিয়ে প্রকাশ্যে জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করতে। দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে। বিভিন্ন স্থানে হামলা ও হত্যার দায়ে ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার ও পুলিশ সুপারদের বরখাস্ত করতে হবে। অবিলম্বে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হল খুলে দিতে হবে। ঢাবি, জাবি রাবির উপাচার্য ও প্রক্টরদের পদত্যাগ করতে হবে। ছাত্র জনতার উপর হামলা করে হত্যার সঙ্গে জড়িত পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ কর্মীদের আটক করে হত্যা মামলা দায়ের করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার করতে হবে। শহীদ ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপুরণ প্রদান করতে হবে। ঢাবি, জাবি, রাবি ও চবিতে ছাত্রলীগে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে চিহ্নিত করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে কোনো ধরনের হয়নারি করা যাবে না।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন আরেক বিবৃতিতে জানিয়েছে,  হামলায় নিহতদের স্মরণে সোমবার বাদ জোহর সারাদেশে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত ছাত্র সমাজ পিছু হটবে না বলে তারা মন্তব্য করেন।

জনপ্রিয়

জাতীয় পুনর্গঠন কৌশল (National Reconstruction Strategies)

কমপ্লিট শাটডাউন অব্যাহত থাকবে

শেখ হাসিনা ও তার সরকারের পদত্যাগ দাবি আন্দোলনকারীদের

প্রকাশিত : ০৭:১৬:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪

সারাদেশে কোটা বাতিলের দাবীতে আন্দোলনে সহিংসতায় সরকারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের সংখ্যা তিনশতাধিক পেরিয়েছে। আহত হয়েছে ২০ হাজারেরও বেশি আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রী। 

আজ রবিবার (২১জুলাই) উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করেছে। একই সঙ্গে কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা, ১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও ১ শতাংশ তৃতীয় লিঙ্গের জন্য রাখার রায় দিয়েছে। ফলে ৯৩ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের কথা রায়ে বলা হয়েছে।

এদিকে রায়ের পর একাধিক রাজনৈতিক দল ও ছাত্র জোট সর্বাত্মক আন্দোলনের ডাক দিয়েছে, যার একমাত্র দাবি হচ্ছে শেখ হাসিনা ও তার সরকারের পদত্যাগ। শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে পদত্যাগের দাবী আন্দোলনকারীদের। হাসিনার পদত্যাগ ছাড়া ঘরে ফিরে যাবেন না বলেও জানান তারা।

আন্দোলকারী ছাত্রছাত্রীরা বলেন, প্রতিটি রক্তের ফোঁটার, প্রতিটি আঘাতের হিসাব নেয়া হবে। সবকিছু মনে রাখা হবে। এতোগুলো হত্যার পর, এতো আঘাতের পর খুনি সরকারের পদত্যাগ ছাড়া ঘরে ফিরে যাওয়া মানে সহযোদ্ধাদের রক্তের সাথে বেঈমানি।

খুনি ও নিপীড়ক সরকারের পতন ছাড়া এই অচলাবস্থার নিরসন হবে না। শিক্ষার্থী এবং দেশের মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না। এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে উদ্ভূত পরিস্থিতির কোন সমাধান সম্ভব নয়। আমরা সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনার অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছি। এই রক্তাক্ত চেয়ারে তার থাকার আর কোন অধিকার নেই।

আপিল বিভাগের রায় ঘোষণার পর সংগঠনটির ৫৯ জন সমন্বয়ক ও সহসমন্বয়ক এক যৌথ বিবৃতিতে রবিবার বলেন, কমপ্লিট শাটডাউন অব্যাহত থাকবে। আদালতের এই রায় পক্ষপাতদুষ্ট পরবর্তীতে সরকার এই রায়কে যথেচ্ছা ব্যবহার করতে পারবে।

সমন্বয়ক আবদুল কাদের স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে ৯ দফা উল্লেখ করে বলা হয়েছে সরকারকে এই দাবীগুলো মেনে নিতে হবে অবিলম্বে। এতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সব হত্যার দায় নিয়ে প্রকাশ্যে জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করতে। দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে। বিভিন্ন স্থানে হামলা ও হত্যার দায়ে ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার ও পুলিশ সুপারদের বরখাস্ত করতে হবে। অবিলম্বে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হল খুলে দিতে হবে। ঢাবি, জাবি রাবির উপাচার্য ও প্রক্টরদের পদত্যাগ করতে হবে। ছাত্র জনতার উপর হামলা করে হত্যার সঙ্গে জড়িত পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ কর্মীদের আটক করে হত্যা মামলা দায়ের করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার করতে হবে। শহীদ ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপুরণ প্রদান করতে হবে। ঢাবি, জাবি, রাবি ও চবিতে ছাত্রলীগে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে চিহ্নিত করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে কোনো ধরনের হয়নারি করা যাবে না।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন আরেক বিবৃতিতে জানিয়েছে,  হামলায় নিহতদের স্মরণে সোমবার বাদ জোহর সারাদেশে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত ছাত্র সমাজ পিছু হটবে না বলে তারা মন্তব্য করেন।