গাজী মোহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, ২৭, উজান চর, কুমিল্লা— বিশ্বের উন্নত দেশ যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে এই সমকামী, উভকামী সম্প্রদায়ের অধিকারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ইতিবাচক সহকারে দেখা হয়। সেখানে এই সম্প্রদায় নিজেদের পূর্ণ স্বাধীনতা উপভোগ করেন। অথচ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে এ ধরনের গোষ্ঠীগুলোর উপর চড়াও হয় বিভিন্ন অন্যায় আইনের সুযোগ নিয়ে। ফৌজদারি দণ্ডবিধির এবং অন্যান্য আইনের প্রাসঙ্গিক ধারাগুলো বাতিলযোগ্য বিবেচনা করা উচিত, বাংলাদেশকে মধ্যযুগীয় সমাজব্যবস্থা হতে বেরোতে হলে।
বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ঢাকার রাজু ভাস্কর্যের নারীর মাথায় কালো হিজাব পরিয়ে দিতেও দেখা গেছে মৌলবাদী সম্প্রদায়কে। দেশের প্রতিটি ভাস্কর্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সংগ্রামী ইতিহাস ও ঐতিহ্য। কিন্তু গত ৫ই আগস্ট সরকার পতনের পর ছাত্র আন্দোলনে থাকা দুই সমন্বয়ক সারজিস আলম এবং হাসনাত আব্দুল্লাহকে দেখা গিয়েছে আগ্রাসী ভূমিকায়। দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সকল ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হয়েছে তাদের নেতৃত্বে। বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নিদর্শন দেয়ালচিত্রগুলো এবং শিল্পকলা পুরোপুরিভাবে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ছত্রছায়ায় থাকা এই ছাত্র সমন্বয়করা ধর্মীয় উগ্রবাদীদের মতোই পথ বেছে নিয়েছে। যে কোনো ধরনের সমালোচনা এবং বিরোধী মত দমনে রাষ্ট্রীয় শক্তির ব্যবহার করছে, বা ঝাঁপিয়ে পড়ছে বিরোধী মতামতধারীদের ওপর, যা একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে অন্তরায়।
[টিকাঃ মন্তব্যটি দৈনিক নবযুগ পত্রিকায় প্রকাশিত “আওয়ামী দুঃশাসন এর পরের অধ্যায় কী ইসলামী উগ্র মৌলবাদ?” শিরোনামে লিখায় মন্তব্য হিসেবে প্রকাশিত হয় ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৫; পরবর্তীতে দেশবার্তা নিউজ ওয়েবসাইটে পুনঃপ্রকাশ করা হলো।]
গাজী মোহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম 














