ডেভিলহান্ট অপারেশন চলমান থাকা সত্ত্বেও সিলেট শহরের বুকে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ফ্যাসিবাদের দোসর, আওয়ামী লীগ নেতা ডেভিল উস্তার মিয়া। পুলিশের নাকের ডগায় থেকেও তিনি বহাল তবিয়তে নিজের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
উস্তার মিয়া একসময় প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের ভাতিজার ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন। সেখান থেকেই প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে, যা আজও অটুট রয়েছে।
জানা যায়, উস্তার মিয়ার পৈতৃক নিবাস সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলায়। তবে তিনি বসবাস করেন সিলেট নগরীর শাহপরান থানাধীন শিবগঞ্জ লামাপাড়ার মোহিনী-৭৩ নম্বর বাসায়, যেখানে পুলিশের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বসবাস করেন। এই ঘনিষ্ঠতার সুবাদে তিনি প্রশাসনের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করেছেন।
উস্তার মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি পুলিশের পোস্টিং, পদোন্নতি ও সাজা মওকুফের বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। মামলার চার্জশিট ও ফাইনাল রিপোর্ট প্রভাবিত করতেও তার জুরি নেই। স্থানীয়দের দাবি, তিনি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে বহু নিরীহ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করেছেন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, উস্তার মিয়া তার বাসায় উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য প্রায়ই অবৈধ নাচ-গানের আয়োজন করতেন। এছাড়া, প্রশাসনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অর্জিত অবৈধ অর্থ তার কাছেই জমা থাকত। তার মাধ্যমে অনেক কর্মকর্তা বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করতেন, ফলে প্রশাসনের “অঘোষিত ক্যাশিয়ার” হিসেবেও পরিচিত তিনি।
সিলেটের বন্দরবাজার সিটিহার্ট মার্কেটে উস্তার মিয়ার একটি আবাসিক হোটেল রয়েছে, যেখানে অসংখ্য অবৈধ কার্যকলাপ চলে। সম্প্রতি ওই হোটেল থেকে এক খদ্দেরসহ এক নারীকে আটক করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে পতিতা ব্যবসা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপরাধীদের আর্থিক লেনদেন হয়।
এছাড়া, নগরীর শিবগঞ্জে এসএমপির ডিবি অফিস যে ভবনে অবস্থিত, সেটির মালিকানা দাবি করলেও প্রকৃত মালিক তার ভায়রা (স্ত্রীর বোনের স্বামী)। পুলিশের প্রভাব খাটিয়ে তিনি ওই ভবন নিজের নামে চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই বিষয়ে উস্তার মিয়া বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে আমাকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
তবে স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনের ছত্রছায়ায় উস্তার মিয়া একের পর এক অবৈধ কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন দেখার বিষয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয় কি না।
নিজস্ব প্রতিবেদক 















