০৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
মামলা তুলে নিতে বাদীকে অপহরণ

নরসিংদী জেলা বিএনপি’র মনজুর এলাহীর বিরুদ্ধে ১১ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ

নরসিংদী জেলা বিএনপি'র সদস্য সচিব মনজুর এলাহী। ছবিঃ সংগৃহীত।


নরসিংদী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনজুর এলাহীর হুমকিতে  শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি ও শিল্পপতিদের নামে ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে’ শিক্ষার্থী হত্যা সহ বিভিন্ন অভিযোগে আদালতে মামলা করার কয়েক ঘণ্টা যেতে না যেতেই সেই মামলার অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয় বাদিপক্ষ।

এ ঘটনায় নরসিংদীজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তাদের একজন হলেন নরসিংদীর শিবপুরের সাবেক সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা বিশিষ্ট শিল্পপতি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা এবং অপরজন হলেন থামেক্স গ্রুপের মালিক বিশিষ্ট শিল্পপতি আব্দুল কাদির মোল্লা।

এই দুই শীর্ষ ব্যক্তির নামে ২৮ আগস্ট (গত সপ্তাহের বুধবার) সকাল থেকেই আদালতপাড়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এর কারণ হলো- তাদের নামে সকালে হত্যামামলাসহ আগুন দিয়ে গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।

সূত্রমতে, দায়ের হওয়া মামলা তুলে নেয়ার পেছনে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনজুর এলাহীর সরাসরি ভূমিকা রয়েছে। ১১ কোটি টাকা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে মামলার বাদীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃত্বের সাথে নিজের ব্যবসা পরিচালনায় সখ্যতার বিষয়টিও উঠে আসে বিভিন্ন সূত্রে।



মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে বাদী আরিফ আহমেদ জানান, মামলা দায়েরের পর আমি অনেকটা আত্মগোপনে চলে যাই। কিন্তু পনেরো থেকে ষোল জন অপরিচিত লোক আমাকে খুঁজে বের করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। আমাকে জোরকরে আদালতে উপস্থিত করে মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়। একই সাথে সেসময় আদালতে নরসিংদী জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব মনজুর এলাহীর উপস্থিত থাকা এবং নিরবতার বিষয়টিও জানান। কিন্তু এই বিষয়ে কোন কথা বলতে চায়নি মামলার বাদী।

আদালতে উপস্থিত আইনজীবীদের একটি সূত্র নিশ্চিত করে, এই ঘটনায় যথেষ্ট চাঞ্চল্য তৈরি হয় আদালত চত্বরে। পরিচয় না প্রকাশ শর্তে এক আইনজীবী দেশবার্তাকে নিশ্চিত করে, বাদীকে যখন আদালতে উপস্থিত করা হয় নরসিংদী জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব মনজুর এলাহী স্বয়ং আদালতে উপস্থিত থেকে মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে। এরপর দ্রুতই আদালত চত্বর ত্যাগ করে চলে যান।

উল্লেখ্য মামলার বাদী শিবপুরের ভরতেরকান্দী এলাকার আরিফ আহমেদ।  শিল্পপতি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, সাবেক এমপি আওয়ামী লীগ নেতা জহিরুল হক ভূঁইয়া মোহন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ নরসিংদীর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদধারী ৪৫ জনকে আসামি করে নরসিংদীর শিবপুর সিআর আমলী আদালতে একটি মামলার এজাহার দাখিল করেন। শিল্পপতি আব্দুল কাদির মোল্লার নামে অপর একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন মাধবদীর রুবিনা আক্তার নামে এক মহিলা। এ মামলায় আরো একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছিলো।

জনপ্রিয়

জাতীয় পুনর্গঠন কৌশল (National Reconstruction Strategies)

মামলা তুলে নিতে বাদীকে অপহরণ

নরসিংদী জেলা বিএনপি’র মনজুর এলাহীর বিরুদ্ধে ১১ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ

প্রকাশিত : ১০:৩৪:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪

নরসিংদী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনজুর এলাহীর হুমকিতে  শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি ও শিল্পপতিদের নামে ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে’ শিক্ষার্থী হত্যা সহ বিভিন্ন অভিযোগে আদালতে মামলা করার কয়েক ঘণ্টা যেতে না যেতেই সেই মামলার অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয় বাদিপক্ষ।

এ ঘটনায় নরসিংদীজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তাদের একজন হলেন নরসিংদীর শিবপুরের সাবেক সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা বিশিষ্ট শিল্পপতি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা এবং অপরজন হলেন থামেক্স গ্রুপের মালিক বিশিষ্ট শিল্পপতি আব্দুল কাদির মোল্লা।

এই দুই শীর্ষ ব্যক্তির নামে ২৮ আগস্ট (গত সপ্তাহের বুধবার) সকাল থেকেই আদালতপাড়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এর কারণ হলো- তাদের নামে সকালে হত্যামামলাসহ আগুন দিয়ে গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।

সূত্রমতে, দায়ের হওয়া মামলা তুলে নেয়ার পেছনে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনজুর এলাহীর সরাসরি ভূমিকা রয়েছে। ১১ কোটি টাকা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে মামলার বাদীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃত্বের সাথে নিজের ব্যবসা পরিচালনায় সখ্যতার বিষয়টিও উঠে আসে বিভিন্ন সূত্রে।



মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে বাদী আরিফ আহমেদ জানান, মামলা দায়েরের পর আমি অনেকটা আত্মগোপনে চলে যাই। কিন্তু পনেরো থেকে ষোল জন অপরিচিত লোক আমাকে খুঁজে বের করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। আমাকে জোরকরে আদালতে উপস্থিত করে মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়। একই সাথে সেসময় আদালতে নরসিংদী জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব মনজুর এলাহীর উপস্থিত থাকা এবং নিরবতার বিষয়টিও জানান। কিন্তু এই বিষয়ে কোন কথা বলতে চায়নি মামলার বাদী।

আদালতে উপস্থিত আইনজীবীদের একটি সূত্র নিশ্চিত করে, এই ঘটনায় যথেষ্ট চাঞ্চল্য তৈরি হয় আদালত চত্বরে। পরিচয় না প্রকাশ শর্তে এক আইনজীবী দেশবার্তাকে নিশ্চিত করে, বাদীকে যখন আদালতে উপস্থিত করা হয় নরসিংদী জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব মনজুর এলাহী স্বয়ং আদালতে উপস্থিত থেকে মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে। এরপর দ্রুতই আদালত চত্বর ত্যাগ করে চলে যান।

উল্লেখ্য মামলার বাদী শিবপুরের ভরতেরকান্দী এলাকার আরিফ আহমেদ।  শিল্পপতি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, সাবেক এমপি আওয়ামী লীগ নেতা জহিরুল হক ভূঁইয়া মোহন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ নরসিংদীর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদধারী ৪৫ জনকে আসামি করে নরসিংদীর শিবপুর সিআর আমলী আদালতে একটি মামলার এজাহার দাখিল করেন। শিল্পপতি আব্দুল কাদির মোল্লার নামে অপর একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন মাধবদীর রুবিনা আক্তার নামে এক মহিলা। এ মামলায় আরো একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছিলো।