১০:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের লবিং, সাবেক রাষ্ট্রদূত জেমস মোরিয়ার্টিসহ গুরুত্বপূর্ণ মহলের সঙ্গে বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে তৎপরতা: তারেক রহমানের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা শিথিলে কূটনৈতিক উদ্যোগ

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফরের পথে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। এ লক্ষ্যে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রগুলো জানায়, এই সফরের অংশ হিসেবে তারা যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগের চেষ্টা করছেন এবং ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মোরিয়ার্টি-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এছাড়া তারা এফবিআই-এর এক কর্মকর্তা ডেবোরাহর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ৩ নভেম্বর ওয়াশিংটন থেকে পাঠানো এক বার্তায় মোরিয়ার্টি তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেছিলেন। ওই বার্তায় তাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

জেমস এফ মোরিয়ার্টি ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনে তিনি নেপালে রাষ্ট্রদূত এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে এশীয় বিষয়ক সিনিয়র পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি প্যাসিফিক ফোরামে সিনিয়র উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত আছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, সরকার পরিবর্তনের পরও কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা, যেমন প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তুজা, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তারা তারেক রহমানের ভাবমূর্তি উন্নয়নে কাজ করছেন। দাবি করা হচ্ছে, দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন ইতোমধ্যেই তার জন্য একটি বড় শাস্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

এদিকে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক বৈধতা ও জনসমর্থন অর্জন করেছেন বলেও প্রচার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মুহাম্মদ ইউনুস সংশ্লিষ্ট লবিস্টরাও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তারেক রহমানের গ্রহণযোগ্যতা অনেকটাই নির্ভর করবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক চুক্তির ওপর—জিএসওএমআইএ (GSOMIA) এবং এসিএসএ (ACSA)। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে তাদের নিরাপত্তা নীতির অংশ হিসেবে সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আগ্রহী।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক চীনবিরোধী সামরিক জোটে অন্তর্ভুক্ত করার প্রচেষ্টাও চালাচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান-এর যুক্তরাষ্ট্র সফরও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জানা গেছে, তিনি সশস্ত্র বাহিনীর ‘কমান্ডার-ইন-চিফ’ হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন চেয়েছেন।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আগামী ৭ এপ্রিল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি সফর করবেন। সেখানে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পররাষ্ট্র সচিব মিশ্রির সঙ্গে বৈঠক করবেন।

সূত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক চুক্তি চূড়ান্ত করতে ভারতের সমর্থন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

জনপ্রিয়

জাতীয় পুনর্গঠন কৌশল (National Reconstruction Strategies)

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের লবিং, সাবেক রাষ্ট্রদূত জেমস মোরিয়ার্টিসহ গুরুত্বপূর্ণ মহলের সঙ্গে বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে তৎপরতা: তারেক রহমানের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা শিথিলে কূটনৈতিক উদ্যোগ

প্রকাশিত : ০৭:০৯:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফরের পথে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। এ লক্ষ্যে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রগুলো জানায়, এই সফরের অংশ হিসেবে তারা যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগের চেষ্টা করছেন এবং ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মোরিয়ার্টি-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এছাড়া তারা এফবিআই-এর এক কর্মকর্তা ডেবোরাহর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ৩ নভেম্বর ওয়াশিংটন থেকে পাঠানো এক বার্তায় মোরিয়ার্টি তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেছিলেন। ওই বার্তায় তাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

জেমস এফ মোরিয়ার্টি ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনে তিনি নেপালে রাষ্ট্রদূত এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে এশীয় বিষয়ক সিনিয়র পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি প্যাসিফিক ফোরামে সিনিয়র উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত আছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, সরকার পরিবর্তনের পরও কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা, যেমন প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তুজা, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তারা তারেক রহমানের ভাবমূর্তি উন্নয়নে কাজ করছেন। দাবি করা হচ্ছে, দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন ইতোমধ্যেই তার জন্য একটি বড় শাস্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

এদিকে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক বৈধতা ও জনসমর্থন অর্জন করেছেন বলেও প্রচার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মুহাম্মদ ইউনুস সংশ্লিষ্ট লবিস্টরাও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তারেক রহমানের গ্রহণযোগ্যতা অনেকটাই নির্ভর করবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক চুক্তির ওপর—জিএসওএমআইএ (GSOMIA) এবং এসিএসএ (ACSA)। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে তাদের নিরাপত্তা নীতির অংশ হিসেবে সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আগ্রহী।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক চীনবিরোধী সামরিক জোটে অন্তর্ভুক্ত করার প্রচেষ্টাও চালাচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান-এর যুক্তরাষ্ট্র সফরও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জানা গেছে, তিনি সশস্ত্র বাহিনীর ‘কমান্ডার-ইন-চিফ’ হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন চেয়েছেন।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আগামী ৭ এপ্রিল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি সফর করবেন। সেখানে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পররাষ্ট্র সচিব মিশ্রির সঙ্গে বৈঠক করবেন।

সূত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক চুক্তি চূড়ান্ত করতে ভারতের সমর্থন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।