০৯:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

ছাত্রদলের নতুন কমিটির গুঞ্জন, নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

  • রূপম সাহা
  • প্রকাশিত : ০৫:৪৬:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • 80

ছবিঃ ফাইল ফটো

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার নতুন নেতৃত্ব গঠনকে ঘিরে সংগঠনটির সর্বস্তরে আলোচনা চলছে। চলতি বছরের ১ মার্চ বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন কমিটি কেমন হবে, কারা নেতৃত্বে আসবেন—এসব নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও প্রত্যাশা।

দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁওয়ে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার নির্দেশনা দেন। ওই বৈঠকে উপস্থিত রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি ছাত্রদলসহ অন্যান্য সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকের পর থেকেই নতুন কমিটি গঠন নিয়ে তৎপরতা বাড়ে এবং সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়।

সংগঠন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনে অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতাকে প্রাধান্য দিয়ে ২০০৮-০৯ থেকে ২০১২-১৩ সেশনের সাবেক শিক্ষার্থীদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। ২০০৮-০৯ সেশন থেকে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, সহ-সভাপতি খোরসেদ আলম সোহেল, সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, সহ-সভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক জিয়ন। একই সেশনের আরও কয়েকজন নেতা—মনজরুল আলম রিয়াদ, রিয়াদ রহমান ও এজাজুল কবির রুয়েল—নিয়ে আলোচনা চলছে।

২০০৯-১০ সেশন থেকেও নেতৃত্বের দৌড়ে রয়েছেন কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক। তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, এস এম মাহমুদুল হাসান রনি, শরিফ প্রধান শুভ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম উল্লেখযোগ্য।

অন্যদিকে ২০১০-১১ সেশনের নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস। এছাড়া এক নম্বর সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুম বিল্লাহসহ এই সেশনের একাধিক নেতা কেন্দ্রীয় শীর্ষ পদে আসতে পারেন বলে সংগঠন সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।

এছাড়া ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ সেশনের নেতাদের মধ্য থেকেও নতুন নেতৃত্ব উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই তালিকায় জাহিদ হাসান শাকিল, নাহিদুজ্জামান শিপন, নাছির উদ্দিন শাওন, মাহমুদ ইসলাম কাজল, শামিম আকতার শুভ, মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, নূর আলম ভূঁইয়া ইমন, তৌহিদুল ইসলাম ও আরিফ হাসানের নাম শোনা যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট হিসেবে বিবেচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন নেতৃত্ব নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৪ সালের পর ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া নেতাদের এবার অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। এতে করে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় কিন্তু বঞ্চিত নেতাদের সামনে আসার সুযোগ তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঢাবি শাখার সম্ভাব্য নেতৃত্বে ২০১২-১৩ ও ২০১৫-১৬ সেশনের নেতাদের নাম সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে। ২০১২-১৩ সেশন থেকে নূর আলম ভূঁইয়া ইমন, মানসূরা আলম, তৌহিদুল ইসলাম, মাহবুব আলম শাহিন, মুসাদ্দিক রহমান সৌরভ ও আরিফ হাসানের নাম আলোচনায় রয়েছে।

এছাড়া ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ সেশন থেকে আল আমিন, জসিম খান, ইমাম আল নাসের মিশুক, বিএম কাউসার, সাইফ খান ও ফেরদৌস আলম নেতৃত্বের দৌড়ে রয়েছেন। ২০১৫-১৬ সেশন থেকে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান, বজলুর রহমান বিজয় এবং দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন।

কনিষ্ঠ ব্যাচগুলোর মধ্যেও নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ২০১৭-১৮ সেশনের ইমন মিয়া, মো. মেহেদী হাসান, সৈয়দ ইমাম হাসান অনিক, মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ, রাকিবুল হাসানসহ আরও কয়েকজন তরুণ সংগঠকের নাম আলোচনায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল দেশের অন্যতম বৃহৎ ছাত্রসংগঠন হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসিরের নেতৃত্বাধীন কমিটি গত এক বছরে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন।

এদিকে নতুন কমিটি গঠনকে ঘিরে সংগঠনের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, কৌশল এবং সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা কী হবে—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও বাড়ছে আগ্রহ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসন্ন কমিটি গঠন ছাত্রদলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরানোর সুযোগ হতে পারে।

জনপ্রিয়

কোন পথে বাংলাদেশ?

ছাত্রদলের নতুন কমিটির গুঞ্জন, নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

প্রকাশিত : ০৫:৪৬:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার নতুন নেতৃত্ব গঠনকে ঘিরে সংগঠনটির সর্বস্তরে আলোচনা চলছে। চলতি বছরের ১ মার্চ বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন কমিটি কেমন হবে, কারা নেতৃত্বে আসবেন—এসব নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও প্রত্যাশা।

দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁওয়ে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার নির্দেশনা দেন। ওই বৈঠকে উপস্থিত রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি ছাত্রদলসহ অন্যান্য সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকের পর থেকেই নতুন কমিটি গঠন নিয়ে তৎপরতা বাড়ে এবং সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়।

সংগঠন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনে অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতাকে প্রাধান্য দিয়ে ২০০৮-০৯ থেকে ২০১২-১৩ সেশনের সাবেক শিক্ষার্থীদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। ২০০৮-০৯ সেশন থেকে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, সহ-সভাপতি খোরসেদ আলম সোহেল, সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, সহ-সভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক জিয়ন। একই সেশনের আরও কয়েকজন নেতা—মনজরুল আলম রিয়াদ, রিয়াদ রহমান ও এজাজুল কবির রুয়েল—নিয়ে আলোচনা চলছে।

২০০৯-১০ সেশন থেকেও নেতৃত্বের দৌড়ে রয়েছেন কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক। তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, এস এম মাহমুদুল হাসান রনি, শরিফ প্রধান শুভ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম উল্লেখযোগ্য।

অন্যদিকে ২০১০-১১ সেশনের নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস। এছাড়া এক নম্বর সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুম বিল্লাহসহ এই সেশনের একাধিক নেতা কেন্দ্রীয় শীর্ষ পদে আসতে পারেন বলে সংগঠন সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।

এছাড়া ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ সেশনের নেতাদের মধ্য থেকেও নতুন নেতৃত্ব উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই তালিকায় জাহিদ হাসান শাকিল, নাহিদুজ্জামান শিপন, নাছির উদ্দিন শাওন, মাহমুদ ইসলাম কাজল, শামিম আকতার শুভ, মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, নূর আলম ভূঁইয়া ইমন, তৌহিদুল ইসলাম ও আরিফ হাসানের নাম শোনা যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট হিসেবে বিবেচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন নেতৃত্ব নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৪ সালের পর ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া নেতাদের এবার অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। এতে করে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় কিন্তু বঞ্চিত নেতাদের সামনে আসার সুযোগ তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঢাবি শাখার সম্ভাব্য নেতৃত্বে ২০১২-১৩ ও ২০১৫-১৬ সেশনের নেতাদের নাম সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে। ২০১২-১৩ সেশন থেকে নূর আলম ভূঁইয়া ইমন, মানসূরা আলম, তৌহিদুল ইসলাম, মাহবুব আলম শাহিন, মুসাদ্দিক রহমান সৌরভ ও আরিফ হাসানের নাম আলোচনায় রয়েছে।

এছাড়া ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ সেশন থেকে আল আমিন, জসিম খান, ইমাম আল নাসের মিশুক, বিএম কাউসার, সাইফ খান ও ফেরদৌস আলম নেতৃত্বের দৌড়ে রয়েছেন। ২০১৫-১৬ সেশন থেকে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান, বজলুর রহমান বিজয় এবং দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন।

কনিষ্ঠ ব্যাচগুলোর মধ্যেও নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ২০১৭-১৮ সেশনের ইমন মিয়া, মো. মেহেদী হাসান, সৈয়দ ইমাম হাসান অনিক, মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ, রাকিবুল হাসানসহ আরও কয়েকজন তরুণ সংগঠকের নাম আলোচনায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল দেশের অন্যতম বৃহৎ ছাত্রসংগঠন হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসিরের নেতৃত্বাধীন কমিটি গত এক বছরে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন।

এদিকে নতুন কমিটি গঠনকে ঘিরে সংগঠনের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, কৌশল এবং সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা কী হবে—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও বাড়ছে আগ্রহ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসন্ন কমিটি গঠন ছাত্রদলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরানোর সুযোগ হতে পারে।