১২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

চাকরির বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া উইংয়ের দুই কর্মকর্তা বিতর্কে

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি। ছবি: সংগৃহীত


সরকারি চাকরির বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া উইংয়ের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। নিয়োগ শর্তে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তারা একাধিক পেশায় যুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মহলের।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদ্যমান সব ধরনের কর্ম-সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাগ করতে হবে। সাধারণত স্বার্থের সংঘাত এড়ানো এবং দাপ্তরিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ ধরনের শর্ত আরোপ করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, বাস্তবে এই শর্ত যথাযথভাবে প্রতিপালন করা হচ্ছে না। ফলে তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া ও বর্তমান কর্মকাণ্ড নিয়ে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আতিকুর রহমান রুমন এখনো দৈনিক দিনকাল-এর সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে বহাল রয়েছেন বলে জানা গেছে। পত্রিকার প্রিন্টার্স লাইনে নিয়মিত তার নাম প্রকাশিত হচ্ছে, যা সরাসরি সরকারি চাকরির বিধিমালার লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। একসময় বগুড়া জেলা দিনকাল-এর ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করা রুমন বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া উইংয়ের অন্যতম প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে একই সঙ্গে দুই ধরনের পেশায় সক্রিয় থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক মহলে।

অন্যদিকে, উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এখনো জাতীয় প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য পদে বহাল রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত ৫ আগস্টের পর তিনি জোরজবরদস্তির মাধ্যমে ওই পদটি দখল করেন এবং এখনো সেই অবস্থান থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছেন। সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এ ধরনের সংগঠনের নির্বাহী পদে বহাল থাকা নিয়োগ শর্ত ও প্রচলিত বিধিমালার পরিপন্থী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

সরকারি চাকরির শর্ত অনুযায়ী দ্বৈত পেশায় সম্পৃক্ততা শুধু নীতিগতভাবেই নয়, আইনি দিক থেকেও প্রশ্নবিদ্ধ। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মতো স্পর্শকাতর দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এ ধরনের অনিয়ম প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে ব্যাহত করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয়

জাতীয় পুনর্গঠন কৌশল (National Reconstruction Strategies)

চাকরির বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া উইংয়ের দুই কর্মকর্তা বিতর্কে

প্রকাশিত : ১০:৩২:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

সরকারি চাকরির বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া উইংয়ের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। নিয়োগ শর্তে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তারা একাধিক পেশায় যুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মহলের।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদ্যমান সব ধরনের কর্ম-সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাগ করতে হবে। সাধারণত স্বার্থের সংঘাত এড়ানো এবং দাপ্তরিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ ধরনের শর্ত আরোপ করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, বাস্তবে এই শর্ত যথাযথভাবে প্রতিপালন করা হচ্ছে না। ফলে তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া ও বর্তমান কর্মকাণ্ড নিয়ে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আতিকুর রহমান রুমন এখনো দৈনিক দিনকাল-এর সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে বহাল রয়েছেন বলে জানা গেছে। পত্রিকার প্রিন্টার্স লাইনে নিয়মিত তার নাম প্রকাশিত হচ্ছে, যা সরাসরি সরকারি চাকরির বিধিমালার লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। একসময় বগুড়া জেলা দিনকাল-এর ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করা রুমন বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া উইংয়ের অন্যতম প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে একই সঙ্গে দুই ধরনের পেশায় সক্রিয় থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক মহলে।

অন্যদিকে, উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এখনো জাতীয় প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য পদে বহাল রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত ৫ আগস্টের পর তিনি জোরজবরদস্তির মাধ্যমে ওই পদটি দখল করেন এবং এখনো সেই অবস্থান থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছেন। সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এ ধরনের সংগঠনের নির্বাহী পদে বহাল থাকা নিয়োগ শর্ত ও প্রচলিত বিধিমালার পরিপন্থী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

সরকারি চাকরির শর্ত অনুযায়ী দ্বৈত পেশায় সম্পৃক্ততা শুধু নীতিগতভাবেই নয়, আইনি দিক থেকেও প্রশ্নবিদ্ধ। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মতো স্পর্শকাতর দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এ ধরনের অনিয়ম প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে ব্যাহত করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।