মার্কিন রাজনীতিতে আবারও উত্তাপ ছড়ালেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাইডেন প্রশাসনের সময় জারি করা ৭৮টি নির্বাহী আদেশ বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ তার রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সমর্থকদের উদ্দেশে এক বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের দেশকে পুনর্গঠন করতে হলে গত প্রশাসনের ক্ষতিকর সিদ্ধান্তগুলো বাতিল করতে হবে। আমেরিকার স্বার্থসংশ্লিষ্ট সবকিছু রক্ষায় আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
বাইডেন আমলের বেশ কিছু নির্বাহী আদেশ, যা জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসননীতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে ছিল, তা ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের আওতায় এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত বাইডেন প্রশাসনের সাফল্যের ওপর একটি প্রত্যক্ষ আঘাত।
বাইডেনের সময় প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ফিরে আসার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন ট্রাম্প। তার দাবি, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।
ট্রাম্প ফের অভিবাসন নীতি কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছেন। বাইডেন আমলে শরণার্থী গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করার যে নির্দেশনা জারি হয়েছিল, সেটি বন্ধ করে নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হচ্ছে।
ওবামা-কেয়ার সম্প্রসারণে বাইডেনের নেওয়া একাধিক সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, “এটি জনগণের করের বোঝা আরও বাড়িয়ে তুলবে।”
ডেমোক্র্যাট নেতারা এই সিদ্ধান্তকে “জনগণের স্বার্থবিরোধী” এবং “রাজনৈতিক প্রতিহিংসা” বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন শুধুমাত্র রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য এই সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে।
তবে রিপাবলিকান নেতারা ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি “আমেরিকার স্বাধীনতা ও সুরক্ষার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
এমন সময় ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিলেন, যখন ২০২৪ সালের নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সমর্থকদের একাংশ মনে করছেন, বাইডেনের নীতির বিরোধিতার মাধ্যমে ট্রাম্প তার রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে চাইছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ শুধু ট্রাম্প-বাইডেন দ্বন্দ্বকে আরও তীব্র করবে না, বরং মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনকে আরও বিভক্ত করবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই উদ্যোগ মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। বাইডেন প্রশাসনের সময় নেওয়া পদক্ষেপগুলো বাতিল করে ট্রাম্প তার পুরনো নীতি ও দর্শনের প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করছেন। এটি তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
















