পবিত্র মুহাররাম মাসে আমরা আরেক কারবালা দেখলাম। সারাদেশে শহীদের লাশের সারি আর আহতদের কান্নায় বাংলাদেশ যেন আজ এক রক্তাক্ত কারবালা প্রান্তর। খুনি হাসিনার খুনি বাহিনী সারাদেশকে রক্তাক্ত কারবালায় পরিণত করেছে।
সারাদেশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোটা বিরোধী চলমান ছাত্র আন্দোলন নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে এক ভিডিও বার্তা দেন।
তারেক রহমান তার ভিডিও বার্তায় বলেন, ছাত্র ছাত্রীদের প্রতি হাসিনার কেন এতো আক্রোশ? কোনো শিক্ষার্থীদেরকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হলো ? কেন দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল? কেন দশ হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রীকে নির্মমভাবে আহত করা হলো? কি ছিল তাদের অপরাধ ? এই ছাত্র ছাত্রিরা তো হাসিনার ৪০০ কোটি টাকার পিয়ন হওয়ার সুযোগ চায়নি। এই ছাত্র ছাত্রিরা তো বিনাভোটের এমপি হতে চায়নি কিংবা হাসিনার অবৈধ ক্ষমতার ভাগও চায়নি। তারা শুধু ন্যায্য চাকুরীবিধি চেয়েছিলো। কোটা সংস্কার চেয়েছিলো। স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাধিকার এবং সম্মান নিয়ে সচ্ছলভাবে বাঁচার সুযোগ চেয়েছিলো। অথচ ছাত্রছাত্রীদেরকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদেরকে অপবাদ-অপমান অপদস্থ করা হয়েছে। নিরস্ত্র সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশের ইউনফর্ম পরিয়ে ছাত্রলীগ যুবলীগের সন্ত্রাসীদেরকে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে। এই খুনিরা আবু সাঈদের চিতানো বুকে গুলি করতে দ্বিধা করেনি। খুনিদের বন্দুকের নল থেকে নরসিংদীর কিশোর তামিমও রেহাই পায়নি ।
তিনি আরও বলেন, রক্তের হোলিখেলা চালিয়ে খুনি হাসিনা এখন নাকি সংলাপ করতে রাজি। হাসিনার রাজি -নারাজিতে এখন আর কিছু যায় আসেনা। শহীদদের রক্ত মাড়িয়ে ছাত্রছাত্রীরাই খুনি হাসিনার সঙ্গে এখন আর সংলাপ করতে রাজি নয়। ছাত্র-জনতা খুনি হাসিনার কাছে হত্যাকাণ্ডেরও বিচার চায়না। ছাত্র-জনতা খুনির কাছে কিসের খুনের বিচার চাইবে? হাসিনা নিজেই ঠান্ডা মাথার খুনি। হাসিনা ঠান্ডা মাথায় অসংখ্য শিক্ষার্থীকে হত্যা করেছে। সুতরাং, এই শহীদদের রক্তের দাবি মেটাতে বরং এই মুহূর্তে ই দফা একটাই -একটাই দাবি। দফা এক দাবি এক-খুনি হাসিনার পদত্যাগ।
তিনি ভিডিও বার্তায় উল্লেখ করেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের বীর শহীদদের রক্ত বৃথা যাবেনা। বৃথা যেতে পারেনা। বৃথা যেতে দেয়া হবেনা। দেশ এখন সম্পূর্ণ দুইভাগে বিভক্ত। একদিকে ছাত্র-ছাত্রী কৃষক শ্রমিক পেশাজীবীসহ অধিকারহারা গণতন্ত্রকামী জনগণ অন্যদিকে হাসিনা আর তার অলিগার্ক। সুতরাং, একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে একজন সামরিক কর্মকতার সন্তান হিসেবে আমি সেনাবাহিনী কিংবা বিজিবির উদ্দেশ্যে একটি কথা বলতে চাই. দেশের আপামর জনসাধারণ কিংবা আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা আপনাদের শত্রু নয়। অরক্ষিত সীমান্তে আপনাদের শত্রু। সুতরাং, নিজেকে যদি দেশপ্রেমিক মনে করেন, যদি আত্মমর্যাদা উপলব্ধি করেন, পারলে তাহলে অরক্ষিত সীমান্তে গিয়ে সাহসী ভূমিকা রাখুন। আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা আমার-আপনার-আমাদের কারো ভাই, বোন-সন্তান কিংবা স্বজন। সুতরাং, ছাত্রছাত্রীদের বুকে গুলি করা কিংবা তাদের সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত হওয়া আপনাদের কাজ নয়।
তিনি আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর উদ্দেশ্যে বলেন, একজন ব্যক্তি কিংবা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের হীন রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা আপনাদের দায়িত্ব নয়। আমি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলতে চাই, ছাত্রছাত্রীদের বুকে আর একটি গুলি চালাবেন না। অতি উৎসাহী হয়ে নিজের বিপদ ডেকে আনবেন না। মনে রাখবেন, হাসিনার সময় ফুরিয়ে গেছে। কারণ, আবু সাইয়িদরা এখন আর বুকে পেতে গুলি নিতে ভয় করেন। সুতরাং, মানুষ খুন করে হাসিনাকে আর টিকিয়ে রাখা যাবেনা।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে সারাদেশে ছাত্র ছাত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ৫২, ৭১ কিংবা ৯০ প্রতিবারই বিজয়ের ইতিহাস রচনা করতে তরুণ যুবক ছাত্রছাত্রীরাই রাজপথে সামনের কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। চলমান আন্দোলনেও ছাত্রছাত্রীরাই বীরের ভূমিকা পালন করে চলেছে। বুকের তাজা রক্ত দিয়ে গড়তে চলেছে বিজয়ের নতুন ইতিহাস। সময়ের সাহসী সন্তান শিক্ষার্থীদের বুক চিতানো প্রতিরোধের মুখে খুনি হাসিনা জনগণের কাছে আত্মসমর্পনের দ্বারপ্রান্তে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। চলমান আন্দোলনের বীর শহীদদের রক্ত আর ছাত্রছাত্রীদের সীমাহীন সাহস- ত্যাগ তিতিক্ষার পথ ধরে তাই শুধু কোটা সংস্কারই নয় অচিরেই কাঙ্খিত রাষ্ট্র সংস্কারের পথও রচিত হতে যাচ্ছে।
তারেক রহমান অভিভাবকবৃন্দদের উদ্দেশ্য করে বলেন, গত দু’দিনে এ পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় অর্ধশত ছাত্রছাত্রী শহীদ হয়েছে। আমি মহান আল্লাহর দরবারে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। এবার আর কেবল শোক প্রকাশ নয়। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে শহীদদের রক্তের বদলা নেয়ার এখনই শ্রেষ্ঠ সময়। আপনি কি শহীদদের রক্তের বদলা নিতে চান? একজন অভিভাবক হিসেবে আপনি কি আপনার ভাই-বোন সন্তান-স্বজনের নির্মম হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চান? তাহলে কিশোর ফারহানের মায়ের আহবানে সাড়া দিন। রাজপথের দখল নিন। ধানমন্ডির কিশোর ফারহানের বয়স মাত্র ১৭। নরসিংদীর তামিমের বয়স মাত্র ১৫। অথচ এই শিশু কিশোররাও হাসিনার খুনীবাহিনী হাত থেকে বাঁচতে পারেনি। হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে নারী পুরুষ শিশু কিশোর কেউ নিরাপদ নয়। ০তাবেদার হাসিনার বন্দুকের ভয়ে চুপ করে থাকলে আমাদের ভাই বোন সন্তান স্বজনদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা যাবেনা। তাই সন্তানের একজন পিতা হিসেবে সম্মানিত সকল অভিভাবকদের কাছে আমার বিনীত আহবান, আপনারা রাজপথে নেমে আসুন। ভাই-বোন- সন্তান-স্বজনদের আন্দোলেনের পাশে এসে দাঁড়ান। তাদেরকে সহযোগিতা করুন। সাহস দিন।
তারেক রহমান আরও বলেন, তাবেদার হাসিনার ক্ষমতা লোভের কারণে বর্তমানে গার্মেন্টস কর্মী থেকে শুরু করে নোবেল জয়ী প্রত্যেকটি শ্রেণী পেশার মানুষ লাঞ্চিত অপমানিত অধিকার বঞ্চিত। এখন আর বসে থাকার সময় নয়। আপনি শিক্ষক? আপনার দাবি আদায়ের জন্য আপনাকে ছাত্রলীগের হেলমেট বাহিনীর সঙ্গে আপোষ করতে হচ্ছে । শিক্ষকের সম্মান ফিরে পেতে চাইলে রাজপথে নেমে আসুন। আপনি পেশাজীবী? আপনি অধিকার বঞ্চিত? লুটেরা দুর্নীতিবাজ চক্র আপনার প্রাপ্য অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আসুন রাজপথে নেমে আসুন। অধিকার আদায়ের সংগ্রামে যোগ দিন। স্লোগান তুলুন, ফেরত চাইলে অধিকার-রুখতে হবে দখলদার। ফয়সালা নয় আদালতে -ফয়সালা হবে রাজপথে। ইনশাআল্লাহ, যেদিন বাংলাদেশ থেকে গণভবন থেকে মাফিয়া চক্রকে বিতাড়ন করে ছাত্রছাত্রীরা তবেই ঘরে ফিরবে বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি।
ডেস্ক নিউজ 















