০১:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

ইসলামে যথাসময়ে নামাজ আদায়ের গুরুত্ব

  • ধর্ম ডেস্ক
  • প্রকাশিত : ০৩:০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৪
  • 142

নামাজ ইসলাম ধর্মের ৫টি রোকনের মধ্যে দ্বিতীয় রোকন। মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলা মুমিন নারী-পুরুষের ওপর ৫ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ এবং সময় নির্ধারণ করেছেন। ইচ্ছাকৃত ফরজ নামাজ না পড়া কবিরা গুনাহ বা বড় পাপ। কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরানে এরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় করার জন্য মুমিনদের ওপর ফরজ করা হয়েছে।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১০৩)

আল্লাহ তাআলার কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমল এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভে শক্তিশালী মাধ্যম হলো তাঁর ফরজগুলো যথাযথ আদায় করা। ফরজসমূহ যেভাবে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেভাবে আদায় করাই উত্তম।

আল্লাহ তাআলা কর্তৃক ফরজ করা আমলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পছন্দীয় ও গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ওয়াক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নামাজ আদায় করা। এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে-

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে জানতে চাইলাম, আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমল কোনটি? তিনি (প্রিয়নবি) বললেন, ‘নামাজকে তার ওয়াক্তের (সময়মতো) মধ্যে আদায় করা।’ (বুখারি)

আরেকটি হাদীসে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করলাম, ‘আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমল কোনটি?’ তিনি বললেন, ‘যথাসময়ে নামাজ আদায় করা।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘তারপর কোনটি?’ তিনি বললেন, ‘মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘তারপর কোনটি?’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদ করা।’ তিনি আমাকে এ কথাগুলো বললেন। যদি আমি আরও প্রশ্ন করতাম তাহলে তিনি আরও অতিরিক্ত বিষয়ে বলতেন।’ (মুসলিম, হাদিস: ১৫৫)

নামাজের শুরুর সময়ে নামাজ পড়া উত্তম। শুরুর সময়ে নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে অলসতা করা যাবে না। দেরি করে নামাজ আদায় করলে বিপুল সওয়াব থেকে বঞ্চিত হতে হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) শুরুর সময়ে নামাজ আদায়ের কথা বলেছেন। সওয়াবের সুসংবাদ দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শুরুর ওয়াক্তে নামাজ পড়লে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায় আর শেষ ওয়াক্তে নামাজ পড়লে আল্লাহর ক্ষমা পাওয়া যায়।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১৭২)। এখানে ‘আল্লাহর ক্ষমা পাওয়া যায়’ কথাটির অর্থ হলো, নামাজের যে বিধান তার ওপর ছিল সেটা থেকে মাফ পাওয়া যায়। কিন্তু শুরুর ওয়াক্তে পড়লে আল্লাহর যে সন্তুষ্টি লাভ হওয়ার কথা ছিল সেটা পাওয়া যায় না।

নামাজের ওয়াক্ত শুরু হয়ে গেলে দেরি করা উচিত নয়। নবিজি (সা.) সাহাবিদের প্রথম ওয়াক্তে নামাজ পড়ার তাগিদ দিয়েছেন। আলি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বলেছেন, ‘হে আলি, তিনটি ব্যাপারে দেরি করো না- ১. যখন নামাজের ওয়াক্ত হয়ে যায় তখন নামাজ পড়তে দেরি করো না। ২. যখন জানাজা উপস্থিত হয়ে যায় তখন জানাজা পড়তে দেরি করো না। ৩. সন্তান যখন বিয়ের উপযুক্ত হয়ে যায় এবং উপযুক্ত সঙ্গী পাওয়া যায় তখন বিয়ে দিতে দেরি করো না।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১৭১)

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

জাতীয় পুনর্গঠন কৌশল (National Reconstruction Strategies)

ইসলামে যথাসময়ে নামাজ আদায়ের গুরুত্ব

প্রকাশিত : ০৩:০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৪

নামাজ ইসলাম ধর্মের ৫টি রোকনের মধ্যে দ্বিতীয় রোকন। মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলা মুমিন নারী-পুরুষের ওপর ৫ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ এবং সময় নির্ধারণ করেছেন। ইচ্ছাকৃত ফরজ নামাজ না পড়া কবিরা গুনাহ বা বড় পাপ। কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরানে এরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় করার জন্য মুমিনদের ওপর ফরজ করা হয়েছে।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১০৩)

আল্লাহ তাআলার কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমল এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভে শক্তিশালী মাধ্যম হলো তাঁর ফরজগুলো যথাযথ আদায় করা। ফরজসমূহ যেভাবে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেভাবে আদায় করাই উত্তম।

আল্লাহ তাআলা কর্তৃক ফরজ করা আমলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পছন্দীয় ও গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ওয়াক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নামাজ আদায় করা। এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে-

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে জানতে চাইলাম, আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমল কোনটি? তিনি (প্রিয়নবি) বললেন, ‘নামাজকে তার ওয়াক্তের (সময়মতো) মধ্যে আদায় করা।’ (বুখারি)

আরেকটি হাদীসে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করলাম, ‘আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমল কোনটি?’ তিনি বললেন, ‘যথাসময়ে নামাজ আদায় করা।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘তারপর কোনটি?’ তিনি বললেন, ‘মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘তারপর কোনটি?’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদ করা।’ তিনি আমাকে এ কথাগুলো বললেন। যদি আমি আরও প্রশ্ন করতাম তাহলে তিনি আরও অতিরিক্ত বিষয়ে বলতেন।’ (মুসলিম, হাদিস: ১৫৫)

নামাজের শুরুর সময়ে নামাজ পড়া উত্তম। শুরুর সময়ে নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে অলসতা করা যাবে না। দেরি করে নামাজ আদায় করলে বিপুল সওয়াব থেকে বঞ্চিত হতে হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) শুরুর সময়ে নামাজ আদায়ের কথা বলেছেন। সওয়াবের সুসংবাদ দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শুরুর ওয়াক্তে নামাজ পড়লে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায় আর শেষ ওয়াক্তে নামাজ পড়লে আল্লাহর ক্ষমা পাওয়া যায়।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১৭২)। এখানে ‘আল্লাহর ক্ষমা পাওয়া যায়’ কথাটির অর্থ হলো, নামাজের যে বিধান তার ওপর ছিল সেটা থেকে মাফ পাওয়া যায়। কিন্তু শুরুর ওয়াক্তে পড়লে আল্লাহর যে সন্তুষ্টি লাভ হওয়ার কথা ছিল সেটা পাওয়া যায় না।

নামাজের ওয়াক্ত শুরু হয়ে গেলে দেরি করা উচিত নয়। নবিজি (সা.) সাহাবিদের প্রথম ওয়াক্তে নামাজ পড়ার তাগিদ দিয়েছেন। আলি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বলেছেন, ‘হে আলি, তিনটি ব্যাপারে দেরি করো না- ১. যখন নামাজের ওয়াক্ত হয়ে যায় তখন নামাজ পড়তে দেরি করো না। ২. যখন জানাজা উপস্থিত হয়ে যায় তখন জানাজা পড়তে দেরি করো না। ৩. সন্তান যখন বিয়ের উপযুক্ত হয়ে যায় এবং উপযুক্ত সঙ্গী পাওয়া যায় তখন বিয়ে দিতে দেরি করো না।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১৭১)