নরসিংদী শহরের জেলখানার মোড়ে স্থাপিত “তাহমিদ চত্ত্বর”-এর নামফলক ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি শহীদ তাহমিদ তামিমের নামে স্থাপিত ওই চত্ত্বরের ফলকটি অপসারণ করে সেখানে নিজেদের দলীয় ব্যানার টাঙিয়েছেন বিএনপি নেতারা। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।
শহীদ তাহমিদ তামিম ছিলেন নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর এলাকার পল্লী চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার বড় ছেলে। তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় তামিম ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিলেন। তিনি একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়তেন এবং সর্বশেষ নরসিংদী কাদির মোল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদী শহরের জেলখানার মোড়ে আন্দোলন চলাকালে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন তাহমিদ তামিম।
তাহমিদের লাশ স্ট্রেচারে রেখে আন্দোলনকারীরা যখন স্লোগান দিচ্ছিলেন, তখনও পুলিশ গুলি চালায়। সেই গুলির একটি তাহমিদের নিথর দেহে লাগে। প্রায় ১০০ গজ দূরে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য অসহায়ের মতো দেখছিলেন তাহমিদের বাবা রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। পরে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের সহায়তায় তিনি ছেলের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন।
তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে “তাহমিদ চত্ত্বর” নামটি দ্রুতই নরসিংদীজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠে। ফলে সেখানে নামফলক ছিঁড়ে দলীয় ব্যানার টাঙানোর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নরসিংদী প্রতিনিধি 











