আজকে ফিলিস্তিন ইস্যুতে ছাত্র, জনতা, পুলিশ প্রশাসনের সকল মুসলমান যদি এক হতে পারেন তাহলে কোন দাজ্জালের ফেৎনা আমাদেরকে আলাদা করে রেখেছে ? আসুন ভাইয়ে ভাইয়ের সকল দ্বন্দ্ব ও বিবাদ ভুলে গিয়ে একটি মুসলিম ইউনিটি গড়ে তুল ।
আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে সকল ইসরায়েলী পণ্যের একটা লিস্ট বের করা ( কোল্ড ডিংস, প্রসাধনী, মেডিসিন ইত্যাদি যা যা আছে ) এবং প্রত্যেকটি ওয়ার্ড পর্যায়ে ০৫ জন ১০ জন করে টিম গঠন করে দায়িত্ব নিয়ে এই পণ্যগুলোর তালিকা সকল মুসলিমদের দোকানে ঝুলিয়ে দেওয়া এবং এই পণ্য কেউ ক্রয় – বিক্রয় করবেনা সেই অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া । যেহেতু সাধারণ মানুষ এই পণ্য সম্পর্কে ততটা জানেনা তাই আমাদের উচিৎ সকল মুসলিম দোকানদারদের পক্ষ থেকে বয়কট করা । প্রাথমিকভাবে দোকানগুলো থেকে বয়কট শুরু হলে এদেরকোম্পানি এমনিতেই তলানিতে যাওয়া শুরু করবে এরপরে আরো উদ্যোগ রয়েছে যা সময়ের সাথে সাথে পাবে।
যেহেতু একজনের পক্ষে সম্ভব নয় তাই এই পণ্যের লিফলেট বা তালিকা তৈরী করার জন্য যে খরচ যায় সেটা ঐ দোকানদারকে তালিকা দিয়ে হাদিয়াটুকো চেয়ে নেওয়া, কেউ দিতে না চাইলে তার সাথে জোর না করা এবং দোকানদারের নাম, ঠিকানা, স্বাক্ষর, তারিখ, মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে রাখা । ভবিষ্যতে যাতে বলতে না পারে যে সে এই বিষয়ে জানেনা । লিফলেট দেওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েলী যত পণ্য আছে সেগুলো বিক্রি ও সরিয়ে ফেলতে হবে এবং এর পরে এদের আর কোনো পণ্য রাখবেনা এই ওয়াদা দিতে হবে । দোকানের ভিতরে এবং বাহিরে এই লিস্ট লাগিয়ে রাখুন । এরপরে যদি তাদের পণ্য কোনো দোকানে পাওয়া যায় সেগুলো নষ্ট করে দেওয়ার পাশাপাশি দোকানদারকে জরিমানা আরোপ করা হবে কিন্তু ওয়ার্ডপর্যায়ের কতৃপক্ষের লোক ছাড়া কেউ আইন হাতে তুলে নিবেননা, ওয়ার্ড পর্যায়ের লোকেরা কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবেন।
অমুসলিমদেরকে বাধা দেওয়ার জন্য যেহেতু আইনগত কোনো বিধি আমাদের নেই তাই তাদের যার যার দোকানে ইসরায়েলী পণ্য পাওয়া যাবে সেইসব দোকান বয়কট করতে হবে অথবা সম্ভব হলে এইসব দোকান থেকে অন্যান্য পণ্যও ক্রয় বন্ধ করতে থাকুন এবং বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করুন, একটু কষ্ট হবে কিন্তু তা হবে আল্লাহর জন্য।
যেসব দেশ ইসরায়েলকে সমর্থন করেনা তাদের পণ্যের উপর শুল্ক কমিয়ে তাদের থেকে প্রচুর পরিমাণে আমদানি বাড়াতে হবে আর যেসব দেশ ইসরায়েলকে সমর্থন দেয় তাদের দেশের পণ্যের উপরে শুল্ক বাড়াতে হবে এবং তাদের থেকে পণ্য আমদানি কমাতে হবে ।
সকল মুসলিম দেশে এই পদ্ধতি অবলম্বন করলে আশাকরি ওদের অর্থনীতিতে ধ্বস নামতে শুরু করবে ।
মুসলিমদেরকে শক্তিশালী করতে হলে বিকল্প ব্যবস্থা তৈরী করে ওদের কোম্পানি থেকে মুসলিমদের সরিয়ে আনতে হবে । মুসলিম উম্মাহকে রক্ষা করতে মুসলিম শ্রমিকদের পারিশ্রমিক হয়তো কিছুটা কম পাবে কিন্তু এই ত্যাগ মুসলমানদের অস্তিত্ব রক্ষার ও আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার।
পৃথিবীর প্রায় সবকিছুই হচ্ছে মন নির্ভর, ওটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে দুনিয়ার প্রায় সব নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তাই ইসরায়েল বিরোধী দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বাড়াতে হবে এবং সেই দেশের শাসকদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।
মুসলমানদের আদি ও প্রথম কেবলা বায়তুল আকসা তাই এটা রক্ষার দায়িত্ব সকল মুসলিমদের । বর্তমানে সকল মুসলিমরা যেহেতু কেবলামূখী হয়ে সেজদা দেয় সেহেতু সেই দেশের যিনি শাসক তার দায়িত্ব হচ্ছে মুসলিম উম্মাহকে একত্রিত করার জন্য বিশ্বের সব মুসলিম শাসকদেরককে সৌদি আরবে একটি কনফারেন্সের জন্য ডাক দেওয়া এবং মুসলিম ইউনিটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য জরুরী পরামর্শে বসা । পাশাপাশি মুসলিমদের যে বন্ধু দেশগুলো রয়েছে সেই শাসকগুলোকে একত্রিত করে ইহুদীবাদ ও তাদের সহচরদের ধ্বংস করে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কর ।
ইসরায়েল ও তাদের সমর্থিত দেশগুলোতে তেল ও ওদের যেসব পণ্য জরুরী সেগুলো রপ্তানি কমিয়ে দেওয়া ও চড়া দামে বিক্রি করা।
প্রত্যেক বাজার, মার্কেট, হাট ঘাটে বড় ব্যানারে এদের পণ্যের লিস্ট ঝুলিয়ে দেওয়া এবং দোকানের সামনে বড় করে লিখে দেওয়া যে, এই দোকানে ইসরায়েলের কোনো পণ্য ক্রয় কিংবা বিক্রয় করা হয়না । আপনার কেউ অনুমানের বশবর্তী হয়ে কারো ক্ষতি করবেননা । শতভাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এমন কোনো কাজ করবেননা যার জন্য অনুশোচনা করতে হয়।
প্রত্যেকটি মুসলিম দেশে এভাবে মুসলিমদের ভেতরে ঐক্য গড়ে তুলে এভাবে প্রাথমিক উদ্যোগ নিয়ে তাদের ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে আঘাত করতে হবে।
আব্দুর রহমান রনি 














