বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে “জুলাই সনদ” আজ এক বিভ্রান্তিকর প্রতীক। যারা এই সনদের নামে চিৎকার করছে, তারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকারী হিসেবে তুলে ধরলেও, বাস্তবে তারা ১৯৭১-এর পরাজিত শক্তির উত্তরসূরি। স্বাধীনতা, সংবিধান, এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছুড়ে ফেলে দিয়ে তারা রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দুর্বল করে নতুন ক্ষমতাকেন্দ্র গড়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল গণতান্ত্রিক ও ন্যায়বিচারভিত্তিক একটি গণআন্দোলন। কিন্তু “জুলাই সনদ”-কে রাজনৈতিক রূপরেখা হিসেবে প্রয়োগের অপচেষ্টা তার প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত। এই সনদ মূলত ৭১-এর পরাজিত শক্তির রাজনৈতিক পুনর্বাসনের হাতিয়ার, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত নেতৃত্বকে ছায়ায় রেখে নতুন ক্ষমতাকেন্দ্র তৈরি করার ষড়যন্ত্র চলছে। আদর্শ নয়, এটি ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্গঠনের ভণ্ডামি, যা একদলীয় শাসন, বিচারহীনতা ও প্রশাসনিক দমননীতির ভিত্তি তৈরি করছে।
আজ যারা “জুলাই সনদ”কে মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছে, তাদের অনেকেই সরাসরি ১৯৭১-এ পাকিস্তানি শাসনের পক্ষে অবস্থান করা গোষ্ঠীর উত্তরসূরি। রাজাকার, আলবদর ও পাকিস্তানপন্থী রাজনৈতিক শক্তির উত্তরসূরিরা আজ “গণতন্ত্র” ও “নাগরিক সমাজ”-এর নামে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে।
তাদের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক লবিং, মিডিয়া ও বিচারব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তার করে একটি ছদ্ম-গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা।
মুহাম্মদ ইউনুস ও তার গোষ্ঠী নিজেদের “নিরপেক্ষ শক্তি” হিসেবে তুলে ধরলেও, তাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট: রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল করা।
তারা আন্তর্জাতিক পুরস্কার, মিডিয়া এবং এনজিও নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে চায়। আদালত, নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনিক কাঠামোতে প্রভাব বিস্তার করে তারা জনগণের ক্ষমতার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক স্বার্থ ও অভিজাত শ্রেণির আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথে এগোচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ও আদর্শ পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত জরুরি। তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা, গবেষণা এবং জনসচেতনতার মাধ্যমে ৭১-এর পরাজিত শক্তির মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।
“জুলাই সনদ”-এর নামে ইতিহাস বিকৃতি রোধ করতে হলে প্রক্রিয়াগত ন্যায়বিচার, সাংবিধানিক স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনায় উজ্জীবিত করে ছদ্ম-আদর্শের ফাঁদ থেকে বের করে আনতে হবে।
“জুলাই সনদ” আজ একটি রাজনৈতিক মুখোশ, যার আড়ালে ৭১-এর পরাজিত শক্তি নতুন রূপে ফিরে এসেছে। তাদের উদ্দেশ্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধান এবং স্বাধীনতার আদর্শকে ধ্বংস করে গণতন্ত্রের নামে গণতন্ত্রহীনতা এবং ইতিহাসের নামে ইতিহাস বিকৃতি ঘটানো। এই মুখোশ উন্মোচনের জন্য আমাদের প্রয়োজন সাহস, তথ্য এবং আদর্শের প্রতি অটল নিষ্ঠা। এই লড়াই শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি বাংলাদেশের আত্মার লড়াই।
গাজী সাইফুল 














