তৃতীয় বিশ্বের বাংলাদেশ নামক দেশে এ মুহূর্তে জাতীয় ও নাগরিক জীবনের খুব সাধারণ কিছু প্রশ্ন-
আমরা কোথায় যাব?
কার কাছে যাবো?
আমাদের এখন কি হবে?
এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ফিরে যেতে হবে পঞ্চাশ-ষাটের দশকে। কুসংস্কারাচ্ছন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনের দর্পণ যেখানে প্রতিফলিত হয়। একটি স্বচ্ছ অবয়বে যেখানে ব্যবচ্ছেদ করা স্পষ্টতই সম্ভব হবে প্রান্তিক একান্নবর্তী সে সময়কার ভাবধারার সামঞ্জস্যে বর্তমান প্রেক্ষাপটের পুঁজিবাদী মানুষ, সমাজ, রাষ্ট্র ও ব্যক্তি সম্পর্কের ছত্রছায়ায় পৈশাচিকতা, কপটতা, পুঁজি করে চলা একটি ধুরন্ধর রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী শ্রেণী, স্বার্থহাসিলের তাগিদে গড়ে তোলা পাপের সাম্রাজ্য তারই আলেখ্য চিত্র।
বর্তমান বাংলাদেশে গণতন্ত্রহীনতার যে বিপর্যয় এর উত্তরণে যিনি ১৮ কোটি মানুষের উত্তরণের ব্যঞ্জনাকে হৃদয়ে ধারণ করেন, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশপ্রেমিক তারেক রহমান। ৮৭ হাজার গ্রাম বেষ্টিত এই জনবহুল বাংলাদেশের সাথে মানুষটির দূরত্ব ৬ হাজার মাইল। সময়ের ব্যবধান ৬ ঘন্টা। যিনি ফিনিক্স পাখির মত দূর থেকেও দেখেন, ৭১ পরবর্তী লুণ্ঠিত স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে অহিংস সংগ্রামে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন দৃঢ়তার সাথে বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনার প্রত্যয়ে।
কিন্তু যেখানে তারেক রহমান, সেখানেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লার লালসালু। অথচ তিনি জানেন না কিছুই। একজন রাজনৈতিক নেতার খোলসের আড়ালেও তিনি রক্ত মাংসে গড়ে উঠা একজন মানুষ। পৃথিবীর সবকিছুই একটি নিয়মের অধীন, কিছু সীমাবদ্ধতা আছে সবকিছুতেই। বসন্তের বয়সও তাই হয়ত মাত্র দু-মাস। একজন ব্যক্তি মানুষ হিসেবে ঘটনাবহুল এ প্রাত্যহিক জীবনসংগ্রামে নির্ভরশীলতা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু এ সময়ের প্রেক্ষাপটে এই নির্ভরশীলতাকে কেন্দ্র করে ষাটের দশকের লালসালুতেই রূপান্তরিত হয়েছেন দেশপ্রেমিক তারেক রহমান।
আজকের এই বর্তমান অবস্থায় কারা লালসালুতে ঢেকে দিচ্ছেন এ মানুষটিকে? প্রচণ্ড রোদে মানুষ নিজের ছায়া দেখতে পায়; সন্ধ্যার নিভে যাওয়া আলোয় এই ছায়াও মানুষকে ছেড়ে যায়!
কাদের চোখ দিয়ে উনি আজকের বাংলাদেশকে দেখছেন দূর থেকে?
সে মানুষগুলো কি এই দেশপ্রেমিক মানুষটির নির্ভরশীলতাকে পুঁজি করে সঠিক বিচার করছেন? এই প্রশ্নের উওরের দায়িত্বভার সে মানুষগুলোর উপরেই ছেড়ে দিলাম।
আজকে এ দেশপ্রেমিক মানুষটিকে যারা লালসালু পড়িয়ে ভীতির সঙ্গে সুস্থ জীবনাকাঙ্ক্ষার দ্বন্দ্ব আড়াল করছেন তারা কি শুধুমাত্র একজন দেশপ্রেমিক তারেক রহমানকেই প্রতারিত করছেন? ১৮ কোটি মানুষে যার সমূহ দর্শনে সেই মানুষের অবচেতন মনের অভিশাপের সাথে ১৮ কোটি নিপীড়িত মানুষের আর্তনাদের এক একটা দীর্ঘ শ্বাসও আপনাদের বিবেককে কলুষিত করুক।
যিনি দায়িত্বের ভার কাঁধে নিয়েছেন তিনি তার দায়িত্বকে এড়াতে পারেন না, এটি যেমন সঠিক। ঠিক একই ভাবে স্রষ্ঠার সৃষ্টি একজন ব্যক্তি মানুষ হিসেবে, এই মানুষটির সর্বাবস্থায় কিছু সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও সঠিক। কিন্তু সফলতার সকল কৃতিত্ব নিজেদের সম্বোধন করে, যারা সব খারাপটা সুকৌশলে দেশপ্রেমিক তারেক রহমানের কাঁধে চাপাতে চান; এই মানুষটি যদি একটি দীর্ঘ শ্বাসও অগোচরে ফেলেন; এই বিচারের ভার মহান স্রষ্ঠার।
আজকে যারা দেশপ্রেমিক তারেক রহমানকে লালসালুতে ঢেকে স্বার্থান্বেষী, কৃপাপ্রার্থী, একচ্ছত্র আধিপত্যে, নানাবিধ ভেল্কিবাজি, প্রভাবশালী কর্তাব্যক্তি, মানবসুলভ দ্বন্দ্ব-ত্রুটিবিচ্যুতির নিজ অবয়বে কি কখনো দেখেছেন? আপনারা না দেখলেও কেউ না কেউ লক্ষ্য করছে অবশ্যই। এটিও মানুষের মনে রাখা উচিত, সময়ই তার উওরণের ব্যঞ্জনা খুঁজে নেয়।
১/১১, সংস্কারের শৃঙ্খলে নিদারুণভাবে বন্দি-অন্ধকারাচ্ছন্ন একটি গোষ্ঠী ছিলো। সেদিন কি পেয়েছিলেন এই মানুষগুলো? আজকের বর্তমান বাংলাদেশে কেমন আছেন উনারা?
মানুষ অলৌকিকত্বে গভীরভাবে বিশ্বাসী। দৈবশক্তির লীলা দেখে হয় নিদারুণ ভয় পেয়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখে কখনো, নয়তো ভক্তিতে আপ্লূত হয়। ১/১১ এর দৈবশক্তির প্রভাবে আপনাদের জীবন ঠিক কতটুকু প্রভাবিত হয়েছে? সেদিক হুইল চেয়ারে করে আপনারা দেশপ্রেমিক তারেক রহমানকে না সমগ্র বাংলাদেশটাকেই হুইল চেয়ারে উঠিয়ে দিয়েছিলেন পৈশাচিক মানুষগুলো। যে মানুষগুলোর বিএনপি’র বাহিরে নেই কোন পরিচয়।
এই সময়ে এসেও যারা তারেক রহমানের সমালোচনা করছে বিভিন্ন বিষয়ে, তাদের অতীতে কি ভূমিকা ছিলো? রেখেছেন? এবং রাখছেন?
সকল পর্যায়ের সমালোচদের উদ্দেশ্যে বলছি; আপনারা যারা রাজনীতি করেন ও যারা করেন না। যারা তারেক রহমানের সমালোচনায় মুখর আছেন। আপনারা আপনাদের পরিবার ও সন্তানদের কিভাবে মানুষ করেছেন? বড় করে তুলেছেন? আপনাদের কয়জনের সন্তান পরিবারের বাবা মায়ের স্নেহ ভালোবাসা বঞ্চিত হয়ে বড় হয়ে উঠেছেন? আপনারা আপনাদের নিজেদের সন্তানদের আপত্য স্নেহে বড় করে তুলেছেন, অনেকেরই ছেলে মেয়েরা দেশের বাহিরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশুনা করেছে ও করছে।
কিন্তু আজকের এই তারেক রহমান তা কি করতে পেরেছেন?
ছোট বেলায় পিতাকে হারিয়ে বঞ্চিত হয়েছেন পিতৃ স্নেহ থেকে। এরপর আপনারা, হা এই আপনারাই নিজেদের প্রয়োজন ও স্বার্থে গৃহবধু বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতিতে নিয়ে এসেছেন। তিনিও এই রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততায় নিজের ছেলেদেরও সময় দিয়ে পারেননি, যতটা উনি রাজনিতিতে না আসলে দিতে পারতেন। যে সময়টুকু নিজের পরিবারকে দেয়ার কথা ছিলো, সে সময়টুকু আপনাদের রাজনীতিতে দিয়েছেন। আপনাদের প্রয়োজনে ও দেশের মানুষের প্রয়োজনে। এই তারেক রহমান অনেকাংশে বঞ্চিত হয়েছেন মায়ের স্নেহ থেকেও। বড় হয়ে উঠেছেন একদম একা।
আজ আওয়ামীলীগ তারেক রহমানের সমালোচনা করে, করতেই পারে। এর দায়ভার আওয়ামীলীগের না। কিন্তু আজকে যারা বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থেকেও তারেক রহমানের সমালোচনা করছেন, এর দায়ভার আপনাদের। আপনারা কি কোনভাবে বুকে হাত রেখে বলতে পারেন এই দায়ভার আপনাদের না?
আপনারাই আপনাদের বিএনপির এই সন্তানকে চিনতে পারেন নি। যদি বলেন তারেক রহমানের ব্যর্থতা, এই ব্যর্থতা আপনাদের নিজেদেরই। কারণ এই তারেক রহমান আপনাদের বিএনপির সন্তান। আজকের তারেক রহমান মাতৃ পিতৃ স্নেহ থেকেও দূরে থেকেও সমাজের এই আপনাদেরই কারো না কারো ছেলেমেয়েদের মত যে উচ্ছন্নে যায়নি, ভুল পথে যায়নি। তিনি নিজের পারিবারিক শিক্ষা, নিজের যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে, নিজের অধ্যবসায় ও অক্লান্ত পরিশ্রমের সমন্বয়ে আজকের দেশপ্রেমিক তারেক রহমান।
আর হা, দেশনায়ক না। তারেক রহমান একজন দেশপ্রেমিক। এই দেশপ্রেম ও আপোষহীনতার জন্যই উনাকে হতে হয়েছে আজ নির্বাসিত। দেশপ্রেমিক তারেক রহমান।
তিনি তৃণমূল থেকে উঠে এসেছেন। বগুড়ার কমিটিতে প্রাথমিক সদস্য পদ দিয়ে যার যাত্রা শুরু। এরপর সময়ের পরিক্রমায় হয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান। ছুটেছেন হ্যামিলিওনের বাঁশিওয়ালা হয়ে বাংলার ৮৭ হাজার গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। মানুষ এক অদ্ভুত আবেগ ও অনুভূতি নিয়ে ছুঁতে চেয়েছে এই দেশপ্রেমিক মানুষটিকে। কখনো বিশাল সমাবেশ শেষে শহস্র মানুষের হাতের আঙুলের নখের আঁচড়ে কেটে যাওয়া হাতে ডেসিংসে অস্পস্ট শব্দে কুঁকড়ে উঠছেন। সাধারণ মানুষের এই নিখাদ ভালোবাসা আপনি কোন ফ্রেমে বন্দি করবেন?
স্বগত সংলাপ বলার চেষ্টা করছিলাম। উপলন্ধি না, নিখাদ কিছু প্রেক্ষাপট। অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে, মিথ্যার আশ্রয়ে যে/যারাই এই লালসালুর গোড়াপত্তন ঘটিয়েছেন, আপনাদের প্রতি দেশপ্রেমিক তারেক রহমানের বিশ্বাসের যেখানে জয়জয়কার; প্রতারণাকে সেখানে প্রতিস্থাপিত করেছেন, বাঙালি মুসলমান সমাজে জেঁকে বসা পীরপ্রথার ভাবধারায় দেশপ্রেমিক তারেক রহমানকে যারা লালসালু পড়িয়ে পীরের ভূমিকায়, এই মানুষটির বিশ্বাসে অংশীদারে নিজেরাই নিজেদের সাথে প্রতারণা করছেন না তো?
মানুষকে বিভ্রান্ত ও ভীতির মধ্যে রেখে শোষণের প্রক্রিয়া চালু রেখে; দেশপ্রেমিক তারেক রহমানকে লালসালুতে ঢেকে, উনার বিশ্বাসকেই আপনারা আবৃত করেননি, ঢেকে রেখেছেন নিজেদের বোধবুদ্ধি, বিকেক, দায়বদ্ধতা ও ১৮ কোটি মানুষের দীর্ঘ শ্বাসকেও।
গাজী সাইফুল
সাংবাদিক ও কথা সাহিত্যিক
নিজস্ব প্রতিবেদক 














