০৭:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে কিছুই অর্জন করা যায় না: প্রধানমন্ত্রী

দেশ বার্তা ডেস্ক

মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সকালে ঢাকা সেনানিবাসস্থ শিখা অনির্বাণে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন তিনি। সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের’ অবসান ঘটিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট চেতনায় ফিরবে—এ আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশের মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে কিছুই অর্জন করা যায় না, এটা অন্যায়। কোনও কিছু অর্জন করতে হলে জনগণের শক্তির প্রয়োজন। সে জন্য অগ্নিসন্ত্রাসের পথ পরিহার করে এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করার এবং তাদের পাশে থাকা প্রয়োজন।’

অগ্নিসন্ত্রাসের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন ‘অগ্নিসন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে। আমি জানি না, একজন মানুষ কীভাবে আরেকটা জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারে। এমনটি দেখেছিলাম একাত্তর সালে। তখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বস্তিতে আগুন দিতো। আর মানুষ বেরিয়ে এলে সঙ্গে সঙ্গে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারতো। দুঃখের বিষয়, এরপর ২০১৩-১৪ সালে এবং এখন ইদানীং সেই অগ্নিসন্ত্রাস শুরু করেছে। পোড়া মানুষগুলোর ক্ষতবিক্ষত দেহ এবং তাদের আর্তচিৎকার ও পরিবারগুলো কী অবস্থায় আছে!’

তিনি বলেন, সরকারে আসার পর থেকেই আমার প্রচেষ্টা ছিল দলমত নির্বিশেষে যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, তাদের সম্মানিত করা। তাদের ভাতা দেওয়া। তারা যেন গর্বের সঙ্গে বলতে পারেন আমরা মুক্তিযোদ্ধা। ভাতার টাকাগুলো সরাসরি অ্যাকাউন্টে চলে যায়। এ ছাড়াও চিকিৎসাভাতা, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিচ্ছি। তিন কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পায়। এর বাইরেও আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের লক্ষ্যটাই হচ্ছে- এদেশে কোনো ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবে না। আমরা ভূমিহীনদের ঘর, মুক্তিযোদ্ধাদের বীর নিবাস করে দিচ্ছি। মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোকে স্মরণীয় করে রাখতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। সবাইকে মনে রাখতে হবে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। যে কাজই করি না কেন, আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা বীরের জাতি।

তিনি বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী শুধু দেশে নয়, বিদেশে শান্তিরক্ষা মিশনে বিরাট অবদান রেখে যাচ্ছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ইতোমধ্যে অনেকে জীবন দিয়েছেন। তাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ইতিহাস থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে এবং ভবিষ্যতের দিকে আমরা এগিয়ে যাবো। জ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে আমরা শিক্ষাদীক্ষায় এগিয়ে যাবো। বিজয়ী জাতি হিসেবে বিশ্বে আমাদের স্থান করে নেবো।’

‘বিগত ১৫ বছরে বাংলাদেশের অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। আজকের বাংলাদেশ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। কারণ, আমাদের উন্নয়ন শহর কেন্দ্রিক নয়, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যায় পর্যন্ত আমরা উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দিতে পেরেছি।’ সরকার নানা ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই দেশকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা এনে দিতে পেরেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

জাতীয় পুনর্গঠন কৌশল (National Reconstruction Strategies)

মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে কিছুই অর্জন করা যায় না: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০৪:৩৮:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০২৩

দেশ বার্তা ডেস্ক

মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সকালে ঢাকা সেনানিবাসস্থ শিখা অনির্বাণে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন তিনি। সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের’ অবসান ঘটিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট চেতনায় ফিরবে—এ আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশের মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে কিছুই অর্জন করা যায় না, এটা অন্যায়। কোনও কিছু অর্জন করতে হলে জনগণের শক্তির প্রয়োজন। সে জন্য অগ্নিসন্ত্রাসের পথ পরিহার করে এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করার এবং তাদের পাশে থাকা প্রয়োজন।’

অগ্নিসন্ত্রাসের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন ‘অগ্নিসন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে। আমি জানি না, একজন মানুষ কীভাবে আরেকটা জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারে। এমনটি দেখেছিলাম একাত্তর সালে। তখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বস্তিতে আগুন দিতো। আর মানুষ বেরিয়ে এলে সঙ্গে সঙ্গে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারতো। দুঃখের বিষয়, এরপর ২০১৩-১৪ সালে এবং এখন ইদানীং সেই অগ্নিসন্ত্রাস শুরু করেছে। পোড়া মানুষগুলোর ক্ষতবিক্ষত দেহ এবং তাদের আর্তচিৎকার ও পরিবারগুলো কী অবস্থায় আছে!’

তিনি বলেন, সরকারে আসার পর থেকেই আমার প্রচেষ্টা ছিল দলমত নির্বিশেষে যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, তাদের সম্মানিত করা। তাদের ভাতা দেওয়া। তারা যেন গর্বের সঙ্গে বলতে পারেন আমরা মুক্তিযোদ্ধা। ভাতার টাকাগুলো সরাসরি অ্যাকাউন্টে চলে যায়। এ ছাড়াও চিকিৎসাভাতা, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিচ্ছি। তিন কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পায়। এর বাইরেও আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের লক্ষ্যটাই হচ্ছে- এদেশে কোনো ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবে না। আমরা ভূমিহীনদের ঘর, মুক্তিযোদ্ধাদের বীর নিবাস করে দিচ্ছি। মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোকে স্মরণীয় করে রাখতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। সবাইকে মনে রাখতে হবে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। যে কাজই করি না কেন, আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা বীরের জাতি।

তিনি বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী শুধু দেশে নয়, বিদেশে শান্তিরক্ষা মিশনে বিরাট অবদান রেখে যাচ্ছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ইতোমধ্যে অনেকে জীবন দিয়েছেন। তাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ইতিহাস থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে এবং ভবিষ্যতের দিকে আমরা এগিয়ে যাবো। জ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে আমরা শিক্ষাদীক্ষায় এগিয়ে যাবো। বিজয়ী জাতি হিসেবে বিশ্বে আমাদের স্থান করে নেবো।’

‘বিগত ১৫ বছরে বাংলাদেশের অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। আজকের বাংলাদেশ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। কারণ, আমাদের উন্নয়ন শহর কেন্দ্রিক নয়, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যায় পর্যন্ত আমরা উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দিতে পেরেছি।’ সরকার নানা ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই দেশকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা এনে দিতে পেরেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।