রাজধানীর মিরপুরের আহমেদ নগর এলাকায় Salvation Islamic School and College-এর ঠিক পাশেই অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে বহুতল ভবন নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে। রাজউক কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত নোটিশ দিয়ে নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপের দেখা মিলছে না। এরই মধ্যে নিচতলায় “Flat For Sale” সাইনবোর্ড টাঙিয়ে প্রকাশ্যেই ফ্ল্যাট বিক্রি চলছে।
রাজউকের নোটিশ অনুযায়ী, ভবনটি Town Improvement Act, 1953 এবং ভবন নির্মাণ বিধিমালা ২০০৮-এর একাধিক ধারা লঙ্ঘন করছে। অনুমোদিত নকশার সেটব্যাক লঙ্ঘন করে সামনে, পেছনে এবং পাশে অনুমোদিত সীমা অতিক্রম করে নির্মাণ চলছে। এছাড়া ভবনটি বিপজ্জনকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইনের ঠিক নিচে এবং সংকীর্ণ রাস্তার পাশ ঘেঁষে তোলা হচ্ছে, যা জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
রাজউকের ৩ নাম্বার জোনাল অফিস থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর ও নভেম্বর মাসে কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং চূড়ান্ত নোটিশ প্রদান করা হয় ভবনের মালিক মেহেরা ইসলাম গং-এর নামে। সেখানে উল্লেখ করা হয়—
সেটব্যাক লঙ্ঘন: সামনের ৩.৫১ মিটার অনুমোদিত জায়গার স্থলে ১.৩৭ মিটার নির্মাণ, পেছনে ৩ মিটার স্থলে ১.২২ মিটার, ডান পাশে ৪.০৫ মিটার স্থলে ১.১০ মিটার।
অবৈধ দখল: পূর্ব ও পশ্চিম পাশে যাতায়াতের কোনো রাস্তা নেই।
সীমানা লঙ্ঘন: পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তর পাশে সীমারেখা অতিক্রম করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকি: বিদ্যুৎ লাইনের মাত্র ৩ মিটার দূরত্বে বহুতল ভবন নির্মিত হচ্ছে যেখানে ন্যূনতম ১০ মিটার দূরত্ব প্রয়োজন।
রাজউকের নোটিশের ৭ মাস পরও ভবনটির পাঁচতলা পর্যন্ত নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং কাজ চলছেই। নিচতলায় বড় ব্যানারে ফ্ল্যাট বিক্রির ঘোষণা ঝুলছে। আশপাশের এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই অবৈধ ভবনের কারণে সূর্যের আলো-বাতাস বন্ধ হয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন নিয়ে তারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। সংকীর্ণ রাস্তা ও বিপজ্জনক অবস্থানের কারণে কোনো অগ্নিকাণ্ড বা ভূমিকম্প হলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
রাজউকের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী শেগুফতার শারমিন আশরাফ জানান, “বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করা হয়েছে, মন্তব্য করতে পারছি না।”
রাজউক চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “রাজনৈতিক চাপ ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”
পরিবেশ আইনজীবী সমিতির একজন সদস্য বলেন, “এই অবৈধ নির্মাণ জননিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য চরম বিপদ ডেকে আনছে।”
বুয়েটের একজন অধ্যাপক জানান, “সেটব্যাক লঙ্ঘন ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা দুর্বল করে, বিশেষত ভূমিকম্পের সময় ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে।”
মিরপুরের এই অবৈধ ভবন নির্মাণ কেবল একটি isolated ঘটনা নয়। এটি ঢাকার পরিকল্পনাহীন নগরায়ণ, কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা এবং সুশাসনের ঘাটতির প্রতীক। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এর পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ।
বিশেষ প্রতিনিধি 















