০৬:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ সহ বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা তারেক রহমানের

ছবি: বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

নিজস্ব প্রতিবেদক


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পবিত্র ঈদুল আজহার ত্যাগের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে ‘ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এবারের ঈদুল আযহায় হোক এই অঙ্গীকার— রুখতে হবে স্বৈরাচার’ স্লোগানে দেশের সকল স্তরের জনগণের প্রতি সাম্য—সম্প্রীতির পরিবর্তে রাষ্ট্র এবং সমাজে এখন পাহাড়সম বৈষম্য দূরীকরণে একাতাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

আগামীকাল দেশে উদযাপিত হবে মুসলমানদের উৎসব ঈদুল আজহা। ঈদুল-আজহার প্রাক্কালে তিনি বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মুসলমানদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান। একই সাথে অব্যাহত সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য কামনা করেন।

তিনি বলেন, আত্মশুদ্ধি, আত্মতৃপ্তি আর আত্মত্যাগের সুমহান বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে আবারো এলো পবিত্র ঈদুল আযহা। তবে ঈদ এলেও দেশের অধিকাংশ মানুষের মনেই নেই ঈদের অমলিন আনন্দ আর উচ্ছাস। জনগণ এখন এক কঠিন সময় পার করছে। গণতন্ত্রকামী জনগণের ত্যাগের রাজনীতির বিপরীতে চলছে ক্ষমতাসীন মাফিয়া সিন্ডিকেটের ভোগের রাজনীতি। তাবেদার অপশক্তির অবৈধ ক্ষমতা লোভের কারণে রাষ্ট্র ও সমাজে নীতি, নৈতিকতা, ধর্মীয় এবং সামাজিক মূল্যবোধের চূড়ান্ত অবক্ষয় ঘটেছে। সাম্য—সম্প্রীতির পরিবর্তে রাষ্ট্র এবং সমাজে এখন পাহাড়সম বৈষম্য। একদিকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় চলছে মাফিয়া চক্রের সদস্যদের বেপরোয়া লুটপাট, দুর্নীতি, টাকাপাচার। অপরদিকে বিরাজ করছে নীরব দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি। মাফিয়া চক্রের হাত থেকে দেশকে উদ্ধার করতে হবে। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এবারের ঈদুল আযহায় হোক এই অঙ্গীকার— রুখতে হবে স্বৈরাচার।

তারেক রহমান আরও বলেন, ত্যাগের উৎসব হলো ঈদুল আযহা। ঈদুল আযহার উৎসবের একটি অঙ্গ হচ্ছে কুরবানী। কুরবানী হলো চিত্তশুদ্ধি ও পবিত্রতার একটি মাধ্যম। ধৈর্য্য ও বিশ্বাসের পরীক্ষার ঐতিহ্যের ধারা বেয়েই কোরবানী মুসলমানদের জন্য অপরিহার্য করা হয়েছে। ঈদুল আযহার ত্যাগের চেতনা সমাজে ঐক্য, সংহতি ও সম্প্রীতির মেলবন্ধন সৃষ্টি করে। কোরবানীর যে মূল শিক্ষা তা আমরা যদি নিজ জীবনে প্রতিফলিত করে মানব কল্যাণে ব্রতী হই তাহলে নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ রাব্বুল আল আমিনের সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ করতে পারবো। বিশ্বাসীদের সে চেষ্টায় আত্মনিবেদিত থাকতে হবে।

কোরবানী ঈদ বিশ্ববাসী মুসলমানদের সবচেয়ে বড় দুটো ধর্মীয় উৎসবের দ্বিতীয়টি। উৎসব হলো সর্বজনীন, এর প্রাঙ্গণে সব মানুষের ঠাঁই। মানুষকে পরস্পরের সাথে শুভেচ্ছাবোধে উদ্বুদ্ধ করে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সকলের পক্ষে ঈদের আনন্দ যথাযথভাবে উপভোগ করা কঠিন হবে। একদিকে অধিকারহীন দেশবাসী শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় দিনযাপন করছে, অন্যদিকে বিত্তবিলাসে মত্ত রয়েছে কতিপয় সুবিধাভোগী ক্ষমতাঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী। বিরোধী গণতান্ত্রিক শক্তির ওপর চলছে হামলা—মামলা—গুম—গ্রেফতারের মতো নির্দয় নিপীড়ণ। এদিকে খাদ্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি এবং পানি, জ্বালানী তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটে জনজীবনে অসহনীয় দুর্দশা বিরাজমান। ঈদের আনন্দের দিনে কেউ যাতে অভুক্ত না থাকে—সেদিকে আমাদের সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। ঈদের আনন্দের উৎসব ভাগ করে নিতে হবে এক কাতারে সবাইকে ।

ঈদুল আযহা সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ—শান্তি ও সমৃদ্ধি, সমাজে সৃষ্টি হোক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মেলবন্ধন, মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে এই প্রার্থনা জানাই।


 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

জাতীয় পুনর্গঠন কৌশল (National Reconstruction Strategies)

বাংলাদেশ সহ বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা তারেক রহমানের

প্রকাশিত : ০৯:৩৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পবিত্র ঈদুল আজহার ত্যাগের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে ‘ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এবারের ঈদুল আযহায় হোক এই অঙ্গীকার— রুখতে হবে স্বৈরাচার’ স্লোগানে দেশের সকল স্তরের জনগণের প্রতি সাম্য—সম্প্রীতির পরিবর্তে রাষ্ট্র এবং সমাজে এখন পাহাড়সম বৈষম্য দূরীকরণে একাতাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

আগামীকাল দেশে উদযাপিত হবে মুসলমানদের উৎসব ঈদুল আজহা। ঈদুল-আজহার প্রাক্কালে তিনি বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মুসলমানদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান। একই সাথে অব্যাহত সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য কামনা করেন।

তিনি বলেন, আত্মশুদ্ধি, আত্মতৃপ্তি আর আত্মত্যাগের সুমহান বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে আবারো এলো পবিত্র ঈদুল আযহা। তবে ঈদ এলেও দেশের অধিকাংশ মানুষের মনেই নেই ঈদের অমলিন আনন্দ আর উচ্ছাস। জনগণ এখন এক কঠিন সময় পার করছে। গণতন্ত্রকামী জনগণের ত্যাগের রাজনীতির বিপরীতে চলছে ক্ষমতাসীন মাফিয়া সিন্ডিকেটের ভোগের রাজনীতি। তাবেদার অপশক্তির অবৈধ ক্ষমতা লোভের কারণে রাষ্ট্র ও সমাজে নীতি, নৈতিকতা, ধর্মীয় এবং সামাজিক মূল্যবোধের চূড়ান্ত অবক্ষয় ঘটেছে। সাম্য—সম্প্রীতির পরিবর্তে রাষ্ট্র এবং সমাজে এখন পাহাড়সম বৈষম্য। একদিকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় চলছে মাফিয়া চক্রের সদস্যদের বেপরোয়া লুটপাট, দুর্নীতি, টাকাপাচার। অপরদিকে বিরাজ করছে নীরব দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি। মাফিয়া চক্রের হাত থেকে দেশকে উদ্ধার করতে হবে। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এবারের ঈদুল আযহায় হোক এই অঙ্গীকার— রুখতে হবে স্বৈরাচার।

তারেক রহমান আরও বলেন, ত্যাগের উৎসব হলো ঈদুল আযহা। ঈদুল আযহার উৎসবের একটি অঙ্গ হচ্ছে কুরবানী। কুরবানী হলো চিত্তশুদ্ধি ও পবিত্রতার একটি মাধ্যম। ধৈর্য্য ও বিশ্বাসের পরীক্ষার ঐতিহ্যের ধারা বেয়েই কোরবানী মুসলমানদের জন্য অপরিহার্য করা হয়েছে। ঈদুল আযহার ত্যাগের চেতনা সমাজে ঐক্য, সংহতি ও সম্প্রীতির মেলবন্ধন সৃষ্টি করে। কোরবানীর যে মূল শিক্ষা তা আমরা যদি নিজ জীবনে প্রতিফলিত করে মানব কল্যাণে ব্রতী হই তাহলে নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ রাব্বুল আল আমিনের সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ করতে পারবো। বিশ্বাসীদের সে চেষ্টায় আত্মনিবেদিত থাকতে হবে।

কোরবানী ঈদ বিশ্ববাসী মুসলমানদের সবচেয়ে বড় দুটো ধর্মীয় উৎসবের দ্বিতীয়টি। উৎসব হলো সর্বজনীন, এর প্রাঙ্গণে সব মানুষের ঠাঁই। মানুষকে পরস্পরের সাথে শুভেচ্ছাবোধে উদ্বুদ্ধ করে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সকলের পক্ষে ঈদের আনন্দ যথাযথভাবে উপভোগ করা কঠিন হবে। একদিকে অধিকারহীন দেশবাসী শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় দিনযাপন করছে, অন্যদিকে বিত্তবিলাসে মত্ত রয়েছে কতিপয় সুবিধাভোগী ক্ষমতাঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী। বিরোধী গণতান্ত্রিক শক্তির ওপর চলছে হামলা—মামলা—গুম—গ্রেফতারের মতো নির্দয় নিপীড়ণ। এদিকে খাদ্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি এবং পানি, জ্বালানী তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটে জনজীবনে অসহনীয় দুর্দশা বিরাজমান। ঈদের আনন্দের দিনে কেউ যাতে অভুক্ত না থাকে—সেদিকে আমাদের সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। ঈদের আনন্দের উৎসব ভাগ করে নিতে হবে এক কাতারে সবাইকে ।

ঈদুল আযহা সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ—শান্তি ও সমৃদ্ধি, সমাজে সৃষ্টি হোক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মেলবন্ধন, মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে এই প্রার্থনা জানাই।