৫ই আগস্ট ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ একটি তালেবানি রাষ্ট্রে পর্যবসিত হচ্ছে।
গত ১৫ এপ্রিল জাতীয় সংসদে মাদারীপুর-১ আসনে ধর্মান্ধ মুসলমানদের ভোটে এমপি নির্বাচিত হওয়া তালেবানি পীরজাদা হানজালা নবী মুহাম্মদকে কটুক্তিকারীদের মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতের দাবি তোলেন। সংসদের এক অধিবেশনে তিনি বলেন, যারা নবীকে কটুক্তি করে, নবীর নামে গালিগালাজ করে, তাদের মৃত্যুদণ্ডের আইন যেন এ সংসদ থেকে পাস করা হয়। এমন দাবি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং মুক্তমত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি হস্তক্ষেপ। এটি ভিন্ন মতাদর্শকে দমন করার উগ্রবাদী চিন্তার বহিঃপ্রকাশ। উল্লেখ্য, কথিত এ এমপি মৌলবাদী সংগঠন খেলাফত মজলিসের একজন রাজনৈতিক কর্মী।
কথিত তালেবান পীরজাদা হানজালা যে নবী মুহাম্মদকে নিয়ে কটুক্তি করলে ফাঁসির দাবি তুলেছেন, সে নবী আসলে কে? নবী মুহাম্মদ ছিলেন ব্যভিচারে লিপ্ত, সম্প্রতি ফাঁস হওয়া এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিভুক্ত বিকৃত যৌনকামনায় আসক্ত একজন পুরুষ। এগারোর অধিক স্ত্রী এবং যুদ্ধে বন্দিনী নারীদের যৌনসঙ্গী ছিলেন তিনি। এমনকি ছয় বছরের কিশোরী নাবালিকা আয়েশাকেও স্বপ্নে দেখতেন। নবীর স্বপ্নদোষ হতো নাবালিকা আয়েশাকে কেন্দ্র করে এবং তিনি তাকে বিয়ে করেছিলেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, ছয় বছরের এ নাবালিকা কুমারী মেয়েটিকে বিয়ের নির্দেশ নাকি স্বয়ং আল্লাহ তাঁর নবীকে দিয়েছিলেন। আল্লাহ হয়তো নবীর মনের যৌনকামনা অনুধাবন করেছিলেন; তাঁর নবী ছিলেন বর্তমান যুগের প্রাগৈতিহাসিক এপস্টিন।
তৃতীয় বিশ্বের বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রব্যবস্থায় উত্থান হওয়া এই সকল মৌলবাদীরা কথিত ভণ্ড নবী মুহাম্মদের কোন খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চায়? চৌদ্দশ বছর আগে নবী মুহাম্মদ ইসলাম প্রচারকে উদ্দেশ্য হিসেবে সামনে রেখে যে যুদ্ধগুলো সংঘটিত করেছিলেন, তার পেছনের মূল উদ্দেশ্যই ছিল নারী ও প্রভাব অর্জন এবং নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে বিভিন্ন যুদ্ধে জয়ী হওয়ার পর যুদ্ধে বন্দিনী নারীদের যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করতেন নবী মুহাম্মদ নিজেই।
নবী মুহাম্মদ ছিলেন মানসিক বিকারগ্রস্ত, নৈতিক অবক্ষয়প্রাপ্ত এবং বিকৃত যৌনলালসায় আসক্ত এক প্রাগৈতিহাসিক এপস্টিন। এমন একজনের জন্য এই উগ্রবাদী তালেবানি জঙ্গি হানজালার মতো একজন এমপি সংসদে শুধুমাত্র মুক্তমত প্রকাশের জন্য ফাঁসির দাবি তুলছেন। লজ্জা। আর এমন একজনের জন্য এ দাবি করা হচ্ছে, যিনি আইয়ামে জাহেলিয়াত এবং উগ্র জঙ্গিবাদী ইসলাম ধর্মের ধর্মব্যবসায়ী।
উল্লেখ্য, কথিত জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতো ইসলামী শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করতে চাওয়া দলগুলোর জাতীয় সংসদে উত্থান দেশের উগ্রবাদী ও জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মৌলবাদীদের উত্থানের একটি অর্থবহ ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গাজী মোহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম 

















