১২:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামে ৮ দলের বিভাগীয় সমাবেশে আমীরে জামায়াত: “আমরা ৮ দলের নয়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই”


আন্দোলনরত ৮ দলের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৫ ডিসেম্বর (শুক্রবার) দুপুর ২টায় চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বৃহৎ বিভাগীয় সমাবেশ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডসহ পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বানে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা ৮ দলের বিজয় চাই না, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। সেই বিজয় হবে কুরআনের মাধ্যমে। চট্টগ্রাম থেকেই ইসলামের বিজয়ের বাঁশি বাজবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে কুরআনের বাংলাদেশ।”তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত সরকার দেশের সম্পদ লুটে বিদেশে ব্যবসা শুরু করেছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরীহ মানুষকে হত্যার দায় কখনো মুছে যাবে না।

তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও দেশ এখনও ফ্যাসিবাদমুক্ত নয়। জনগণের ওপর চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি চলছে। ৫ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের আন্দোলন চলবে।” ইসলামী দলগুলোর ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রয়োজনে আবারও ৫ আগস্টের মতো গণঅভ্যুত্থানের ইঙ্গিত দেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ গরিব-দুঃখী মানুষের রক্তে গড়া। বনেদি শ্রেণির আধিপত্য আর চলবে না। ইসলামী শক্তির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে জনতার বিজয় আসবেই।” তিনি দলীয় প্রতীকে ভোটের পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, “স্বাধীনতার পর বৈষম্য দূর হয়নি। আগামীতে আবারও চাঁদাবাজ-জালেমদের বিরুদ্ধে আন্দোলন হবে। ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলে বৈষম্য থাকবে না।” তিনি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করে সুষ্ঠু নির্বাচন দাবি করেন।

জামায়াতের নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, “চট্টগ্রাম ইসলামের ঘাঁটি। ৮ দলের শক্তি ক্ষমতায় গেলে এ দেশের শাসন হবে জনগণের হাতে।” তিনি একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশে ৮ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন জেলা ও মহানগরের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। এতে খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাগপা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ শেষে জানানো হয়, পাঁচ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয়

জাতীয় পুনর্গঠন কৌশল (National Reconstruction Strategies)

চট্টগ্রামে ৮ দলের বিভাগীয় সমাবেশে আমীরে জামায়াত: “আমরা ৮ দলের নয়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই”

প্রকাশিত : ০৬:৫১:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

আন্দোলনরত ৮ দলের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৫ ডিসেম্বর (শুক্রবার) দুপুর ২টায় চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বৃহৎ বিভাগীয় সমাবেশ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডসহ পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বানে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা ৮ দলের বিজয় চাই না, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। সেই বিজয় হবে কুরআনের মাধ্যমে। চট্টগ্রাম থেকেই ইসলামের বিজয়ের বাঁশি বাজবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে কুরআনের বাংলাদেশ।”তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত সরকার দেশের সম্পদ লুটে বিদেশে ব্যবসা শুরু করেছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরীহ মানুষকে হত্যার দায় কখনো মুছে যাবে না।

তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও দেশ এখনও ফ্যাসিবাদমুক্ত নয়। জনগণের ওপর চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি চলছে। ৫ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের আন্দোলন চলবে।” ইসলামী দলগুলোর ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রয়োজনে আবারও ৫ আগস্টের মতো গণঅভ্যুত্থানের ইঙ্গিত দেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ গরিব-দুঃখী মানুষের রক্তে গড়া। বনেদি শ্রেণির আধিপত্য আর চলবে না। ইসলামী শক্তির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে জনতার বিজয় আসবেই।” তিনি দলীয় প্রতীকে ভোটের পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, “স্বাধীনতার পর বৈষম্য দূর হয়নি। আগামীতে আবারও চাঁদাবাজ-জালেমদের বিরুদ্ধে আন্দোলন হবে। ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলে বৈষম্য থাকবে না।” তিনি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করে সুষ্ঠু নির্বাচন দাবি করেন।

জামায়াতের নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, “চট্টগ্রাম ইসলামের ঘাঁটি। ৮ দলের শক্তি ক্ষমতায় গেলে এ দেশের শাসন হবে জনগণের হাতে।” তিনি একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশে ৮ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন জেলা ও মহানগরের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। এতে খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাগপা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ শেষে জানানো হয়, পাঁচ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।