০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

খ্রিষ্টান বলে আগষ্টিন চক্র কি আইনের ঊর্ধ্বে?


আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলেও কিছু ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হত্যাকাণ্ডসহ গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের দোসর এবং ফ্যাসিস্ট সরকারে বিশেষ সুবিধাভোগী কুখ্যাত “ফিফ্থ ক্রিমিনাল” চক্রের সদস্যরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

বিশেষত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কসাই খ্যাত আসাদুজ্জামান খান কামালের ঘনিষ্ঠ সহোচর আগষ্টিন পিউরিফিকেশন, নির্মল রোজারিও, বাবু মার্কুইস গমেজ, পঙ্কজ গিলবার্ট কস্তা ও হেমন্ত কোড়াইয়া এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। অথচ তাদের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে এবং তারা আওয়ামী শাসনামলে নানা অনিয়ম ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল।

এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুধু হত্যাকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ নয়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতীয় সমবায় সংগঠন দি কোঅপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লীগ অব বাংলাদেশ (কালব) অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে এই চক্র। তাদের দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখতে নিরীহ মুসলিম সমবায়ীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অপকর্ম বাস্তবায়নে বিশেষভাবে সক্রিয় রয়েছেন এসবি ইন্সপেক্টর নাজমুল হক।

বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মগুরু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছেন যাতে “রাজনৈতিক মামলায়” খ্রিষ্টানদের হয়রানি না করা হয়। এই চিঠির সুবাদে ফিফ্থ ক্রিমিনাল চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে আইন কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে এই ধর্মগুরুর অবস্থান নিয়ে খ্রিষ্টান সমাজের ভেতরেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সচেতন অংশের দাবি, খ্রিষ্টান পরিচয়ের দোহাই দিয়ে হত্যা মামলার আসামিদের রক্ষা করা যাবে না। সাধারণ খ্রিষ্টানদের সঙ্গে এই অপরাধীদের এক লাইনে ফেলা অযৌক্তিক।

বাংলাদেশ খ্রিষ্টান এসোসিয়েশনের সভাপতি আলবার্ট পি কস্তা ইতোমধ্যেই লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং এই অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে উসকানি ও অর্থায়নের অভিযোগে অভিযুক্ত এই চক্র বর্তমানে সরকারবিরোধী কার্যক্রমেও সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে।

সচেতন খ্রিষ্টান সমাজ এবং ভুক্তভোগী সমবায়ীগণ এই চক্রের দ্রুত গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তারা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “খ্রিষ্টান পরিচয়ের দোহাই দিয়ে একজন অপরাধীকেও রক্ষা করা যাবে না।”

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার অনুযায়ী, সরকার কি এই চক্রকে বিচারের মুখোমুখি করবে? নাকি আগষ্টিন চক্র খ্রিষ্টান পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাবে? দেশবাসী এখন সেই জবাবের অপেক্ষায়!

জনপ্রিয়

জাতীয় পুনর্গঠন কৌশল (National Reconstruction Strategies)

খ্রিষ্টান বলে আগষ্টিন চক্র কি আইনের ঊর্ধ্বে?

প্রকাশিত : ০২:৪৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫

আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলেও কিছু ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হত্যাকাণ্ডসহ গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের দোসর এবং ফ্যাসিস্ট সরকারে বিশেষ সুবিধাভোগী কুখ্যাত “ফিফ্থ ক্রিমিনাল” চক্রের সদস্যরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

বিশেষত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কসাই খ্যাত আসাদুজ্জামান খান কামালের ঘনিষ্ঠ সহোচর আগষ্টিন পিউরিফিকেশন, নির্মল রোজারিও, বাবু মার্কুইস গমেজ, পঙ্কজ গিলবার্ট কস্তা ও হেমন্ত কোড়াইয়া এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। অথচ তাদের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে এবং তারা আওয়ামী শাসনামলে নানা অনিয়ম ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল।

এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুধু হত্যাকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ নয়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতীয় সমবায় সংগঠন দি কোঅপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লীগ অব বাংলাদেশ (কালব) অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে এই চক্র। তাদের দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখতে নিরীহ মুসলিম সমবায়ীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অপকর্ম বাস্তবায়নে বিশেষভাবে সক্রিয় রয়েছেন এসবি ইন্সপেক্টর নাজমুল হক।

বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মগুরু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছেন যাতে “রাজনৈতিক মামলায়” খ্রিষ্টানদের হয়রানি না করা হয়। এই চিঠির সুবাদে ফিফ্থ ক্রিমিনাল চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে আইন কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে এই ধর্মগুরুর অবস্থান নিয়ে খ্রিষ্টান সমাজের ভেতরেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সচেতন অংশের দাবি, খ্রিষ্টান পরিচয়ের দোহাই দিয়ে হত্যা মামলার আসামিদের রক্ষা করা যাবে না। সাধারণ খ্রিষ্টানদের সঙ্গে এই অপরাধীদের এক লাইনে ফেলা অযৌক্তিক।

বাংলাদেশ খ্রিষ্টান এসোসিয়েশনের সভাপতি আলবার্ট পি কস্তা ইতোমধ্যেই লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং এই অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে উসকানি ও অর্থায়নের অভিযোগে অভিযুক্ত এই চক্র বর্তমানে সরকারবিরোধী কার্যক্রমেও সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে।

সচেতন খ্রিষ্টান সমাজ এবং ভুক্তভোগী সমবায়ীগণ এই চক্রের দ্রুত গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তারা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “খ্রিষ্টান পরিচয়ের দোহাই দিয়ে একজন অপরাধীকেও রক্ষা করা যাবে না।”

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার অনুযায়ী, সরকার কি এই চক্রকে বিচারের মুখোমুখি করবে? নাকি আগষ্টিন চক্র খ্রিষ্টান পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাবে? দেশবাসী এখন সেই জবাবের অপেক্ষায়!