১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

দলের নির্দেশনা অমান্য করে যুবদল নেতাদের মোটর শোভাযাত্রা

আন্দোলন-সংগ্রামের নানা ধাপ পেরিয়ে গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার সফল অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়েছেন শেখ হাসিনা। গত ১৭ বছর ধরে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটাতে রাজপথে সোচ্চার ছিল বিএনপি। সেই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ আওয়ামী শাসনামলে সবচেয়ে বেশি নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

এরপরই ৮ সেপ্টেম্বর দেশের চলমান পরিস্থিতিতে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা দেয় বিএনপি। দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটি, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও তৃণমূল পর্যায়ে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়।

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এতদ্বারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি এবং এর সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য নির্দেশক্রমে জানানো যাচ্ছে যে, আপনাদের অধীনস্থ কোনও ইউনিটে সাংগঠনিক কাজের উদ্দেশে সফরকালে কোনও ধরণের মোটরসাইকেল বহর ও কারসহ অন্য কোনও যানবাহনে শোভাযাত্রা পরিহার করতে হবে। এই সমস্ত শোভাযাত্রার কারণে পাশ দিয়ে চলাচলরত সাধারণ মানুষের যানবাহন বা পথচারীদের যাতায়াতে ভয়ানক বিঘ্ন ঘটে। যে এলাকায় সাংগঠনিক সভা, কর্মীসভা অথবা জনসভা অনুষ্ঠিত হয় সেই এলাকায় ঊর্ধ্বতন নেতাদের আগমন ঘটলে শোভাযাত্রার কারণে প্রচণ্ড যানযটের সৃষ্টি হয় এবং মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়-যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যেহেতু বিএনপি গণসম্পৃক্ত একটি রাজনৈতিক দল সেহেতু জনগণকে দুর্ভোগের মধ্যে না ফেলে মোটরসাইকেল বহর বা অন্য কোনও যানবাহনের শোভাযাত্রা পরিহার করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।

চিঠিতে এ-ও বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ঢাকাসহ সারাদেশে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে রঙ-বেরঙয়ের পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন প্রদর্শন করতে। এটি অত্যন্ত দৃষ্টিকটু, অনভিপ্রেত এবং দলের শৃঙ্খলা পরিপন্থী। দলের অতি উৎসাহী কতিপয় নেতৃবৃন্দ নিজেদের ছবি সম্বলিত পোস্টার প্রকাশ করছেন এবং ফেস্টুন ও ব্যানার ঝুলিয়ে রাখছেন। এহেন পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন প্রদর্শন করা থেকে নেতাকর্মীদের বিরত থাকার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হচ্ছে।

এদিকে দলের এই নির্দেশনা অমান্য করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদ্য বিদায়ী সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম নিরব এর নির্দেশে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার অন্তর্গত ২৪ নং ওয়ার্ডের যুবদলের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম রিপন,যুগ্ন আহবায়ক ইয়াসিন আরাফাত সোহাগ,সদস্য আবদুল কুদ্দুস শুভ ও ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব বাতেন বিপ্লব এর নেতৃত্বে ৮ অক্টোবর রাতে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করা হয়। যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে ওঠে সমালোচনার ঝড়। এ বিষয়ে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার নেতেৃত্বে থাকা নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

জনপ্রিয়

জাতীয় পুনর্গঠন কৌশল (National Reconstruction Strategies)

দলের নির্দেশনা অমান্য করে যুবদল নেতাদের মোটর শোভাযাত্রা

প্রকাশিত : ০৬:৫৭:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৪

আন্দোলন-সংগ্রামের নানা ধাপ পেরিয়ে গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার সফল অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়েছেন শেখ হাসিনা। গত ১৭ বছর ধরে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটাতে রাজপথে সোচ্চার ছিল বিএনপি। সেই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ আওয়ামী শাসনামলে সবচেয়ে বেশি নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

এরপরই ৮ সেপ্টেম্বর দেশের চলমান পরিস্থিতিতে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা দেয় বিএনপি। দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটি, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও তৃণমূল পর্যায়ে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়।

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এতদ্বারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি এবং এর সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য নির্দেশক্রমে জানানো যাচ্ছে যে, আপনাদের অধীনস্থ কোনও ইউনিটে সাংগঠনিক কাজের উদ্দেশে সফরকালে কোনও ধরণের মোটরসাইকেল বহর ও কারসহ অন্য কোনও যানবাহনে শোভাযাত্রা পরিহার করতে হবে। এই সমস্ত শোভাযাত্রার কারণে পাশ দিয়ে চলাচলরত সাধারণ মানুষের যানবাহন বা পথচারীদের যাতায়াতে ভয়ানক বিঘ্ন ঘটে। যে এলাকায় সাংগঠনিক সভা, কর্মীসভা অথবা জনসভা অনুষ্ঠিত হয় সেই এলাকায় ঊর্ধ্বতন নেতাদের আগমন ঘটলে শোভাযাত্রার কারণে প্রচণ্ড যানযটের সৃষ্টি হয় এবং মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়-যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যেহেতু বিএনপি গণসম্পৃক্ত একটি রাজনৈতিক দল সেহেতু জনগণকে দুর্ভোগের মধ্যে না ফেলে মোটরসাইকেল বহর বা অন্য কোনও যানবাহনের শোভাযাত্রা পরিহার করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।

চিঠিতে এ-ও বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ঢাকাসহ সারাদেশে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে রঙ-বেরঙয়ের পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন প্রদর্শন করতে। এটি অত্যন্ত দৃষ্টিকটু, অনভিপ্রেত এবং দলের শৃঙ্খলা পরিপন্থী। দলের অতি উৎসাহী কতিপয় নেতৃবৃন্দ নিজেদের ছবি সম্বলিত পোস্টার প্রকাশ করছেন এবং ফেস্টুন ও ব্যানার ঝুলিয়ে রাখছেন। এহেন পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন প্রদর্শন করা থেকে নেতাকর্মীদের বিরত থাকার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হচ্ছে।

এদিকে দলের এই নির্দেশনা অমান্য করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদ্য বিদায়ী সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম নিরব এর নির্দেশে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার অন্তর্গত ২৪ নং ওয়ার্ডের যুবদলের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম রিপন,যুগ্ন আহবায়ক ইয়াসিন আরাফাত সোহাগ,সদস্য আবদুল কুদ্দুস শুভ ও ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব বাতেন বিপ্লব এর নেতৃত্বে ৮ অক্টোবর রাতে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করা হয়। যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে ওঠে সমালোচনার ঝড়। এ বিষয়ে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার নেতেৃত্বে থাকা নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।