এটি বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রথম থেকেই তাদের নিয়োগকর্তা হিসেবে ছাত্রদের গুরুত্ব দিয়েছেন। জাতির উদ্দেশে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেয়া প্রথম ভাষনে স্পষ্টতই উল্লেখ করে বলেন,, “ছাত্ররা আমাদের (উপদেষ্টা পরিষদের) প্রাথমিক নিয়োগকর্তা, তারা যখন বলবে, তখন তারা চলে যাবেন।” এই মন্তব্যের পর থেকেই বিএনপি এবং সরকার পক্ষের মধ্যে একের পর এক বিতর্ক তৈরি হয়েছিলো। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব নেয়ার ১৭দিনের মাথায় এসব কথা বলেন তিনি।
জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা বর্তমানে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা আসছে ফেব্রুয়ারিতেই। নেতৃত্বে থাকতে পারেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম।
জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা নতুন রাজনৈতিক গঠন করে আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রসঙ্গে ২২ জানুয়ারি বিবিসি বাংলাকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে না পারলে নির্বাচন করতে পারবেন না, এক্ষেত্রে সরকারে নিজেদের প্রতিনিধি রেখে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো বিষয়টি মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের পক্ষ থেকে বিএনপির এই অবস্থানকে সমালোচনা করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে বিএনপির ‘কথার টোন আওয়ামী লীগের সাথে মিলে যাচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেন তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিরপেক্ষ সরকারের দাবিকে আরেকটা এক–এগারো সরকার গঠনের ইঙ্গিত হিসেবেও গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন সরকারে থাকা এই উপদেষ্টা।
এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক পটভূমিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর, কারণ এটি রাজনৈতিক সংকটের গভীরতা ও তাৎপর্যকে তুলে ধরে, যেখানে একে অপরের বিরুদ্ধে কথাবার্তা, বক্তব্য ও অবস্থান পরিবর্তন রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে। দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রতিটি দলের অবস্থান এবং তাদের বক্তব্যের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য কী তা সঠিকভাবে বোঝা এবং সমঝোতা তৈরি করা। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ও স্থিতিশীলতার জন্য, সবারই উচিত স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, যাতে জনগণের স্বার্থ এবং ভোটাধিকার সুরক্ষিত থাকে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের বক্তব্য প্রসঙ্গে এবার একটি উদাহরণকে সামনে নিয়ে আসা যাক। উদাহরণটি এমন, স্বৈরিণী শেখ হাসিনা, যিনি প্রশাসনের নিয়োগকর্তা, কিছু কর্মকর্তার পদত্যাগের পর নির্বাচন করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। বিএনপি তাদের দাবি জানায়, তারা নিরপেক্ষ সরকার চায়, যাতে জনগণ প্রভাবমুক্ত এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। তবে শেখ হাসিনার প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত কঠোর, তিনি বিএনপিকে “পিন্ডির চর, জনগণের দুশমন” বলে অভিহিত করেন এবং জনগণকে সাথে নিয়ে বিরোধীদের বিতাড়িত করার হুমকি দেন। এই ধরনের বক্তব্য গণতন্ত্রের সৌন্দর্যকে ম্লান করে, কারণ গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হল ভিন্নমত ও শ্রদ্ধা। শাসক যদি এমনভাবে বিরোধী পক্ষকে অবজ্ঞা করেন, তবে তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে বিভাজন সৃষ্টি করে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিপরীত।
গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই ফুটে ওঠে, যখন সবাই একে অপরকে শ্রদ্ধা করে এবং জনগণের স্বাধীন মতামতকে গুরুত্ব দেয়।এই পরিস্থিতির মধ্যে যে রকম রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং প্রতিক্রিয়া উদ্ভূত হয়েছে এর অর্থ এবং প্রতীকের ভিন্নতা রয়েছে। শাশ্বত রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, জাতীয় নিরাপত্তা, গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার—all these can be explored within a narrative.
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে এবং এর মধ্যে কিছু ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রতীকী মিল লক্ষ্যনীয়। ছাত্র জনতার অভ্যুত্থান, যাকে অনেকেই বিপ্লব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, সেটি প্রমাণ করেছে যে দেশবাসী শুধু বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের প্রতি আগ্রহী নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যবিরোধী সংগ্রামে একত্রিত হতে প্রস্তুত। তবে, এই আন্দোলনে ছাত্রদের নেতৃত্বের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃত্বেরও ভূমিকা অব্যাহত ছিল, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের রাজনীতিতে নতুন দিক নির্দেশনা দিয়েছে।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিক্রি এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক যেমন কখনো ছিল, তেমনই বর্তমানেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে থাকা ছাত্র উপদেষ্টারা নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে গণতন্ত্র ও দেশের মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর রাজপথে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বকে শুধুমাত্র শেখ মুজিবের ওপর নির্ভরশীল মনে করে এবং তার নেতৃত্বকে অব্যাহত রাখতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করেছে, ঠিক একইভাবে আজকের পরিস্থিতিতে সমন্বয়করা নিজেকে জনগণের একমাত্র সত্যিকার প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট।
আওয়ামী লীগ যেমন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্রকে বিকৃত করেছে এবং পরে তা একতরফা ক্ষমতার বাস্তবায়নে ব্যবহার করেছে, তেমনি জুলাই আন্দোলনের ছাত্র উপদেষ্টা ও সমন্বয়করা ২০২৪ সালের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মূলমন্ত্র থেকে সরে গিয়ে নিজেদের নেতৃত্বের প্রতিষ্ঠা এবং শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এক ধরনের “সমন্বয়কবাদ” প্রচার করতে শুরু করেছে। তাদের দাবী অনুযায়ী, তারা একমাত্র জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি, অন্য কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির দেশ নিয়ে কথা বলার অধিকার নেই।
বিগত ১৬ বছর ধরে শেখ হাসিনার সরকার স্বৈরাচারের পথে যেভাবে এগিয়েছে এবং দেশের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে, বর্তমান সময়ে সেই রকম অঙ্গভঙ্গি ও টোন লক্ষ্য করা যাচ্ছে সমন্বয়কবাদের নেতাদের মধ্যে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক ভূমিকা এখন শুধুমাত্র প্রতিপক্ষ নয়, বরং ‘নির্মূলযোগ্য’ বলে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। শাসকগোষ্ঠী তাদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক মনোভাব প্রকাশ করছে এবং রাজনৈতিক বিভাজনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষভাবে লক্ষণীয় হলো, গত বছর ১৯ জুলাই নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদকে গ্রেফতার করা এবং তাদের গ্রেফতারকে গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে, ঠিক যেমন মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ মুজিবের গ্রেফতারকে ইতিহাসের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল। ডিসেম্বরে শেখ মুজিব পাকিস্তানে থাকাকালীন, তিনি যেমন নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে বলেছিলেন “শেখ মুজিব যখন সেজদায় পড়ে গেলো। উঠে পাকিস্তানে তার নিরাপত্তায় থাকা সরকারি কর্মকর্তাকে বলেন, আমাকে এখনই মিডিয়ার সামনে নিয়ে চলো আমি এক পাকিস্তানের ঘোষণা দিবো।” ঠিক একই ভাবে আওয়ামী লীগের শেখ মুজিবের মতোই ২৮ জুলাই নাহিদ ইসলাম ভিডিও বার্তায় আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। ভিডিওবার্তায় নাহিদ ইসলাম বলেন—“কোটা সংস্কার আন্দোলন ও তার প্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনেকেই অপ্রত্যাশিতভাবে আহত এবং নিহত হয়েছেন। তা ছাড়া রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় অগ্নিসংযোগসহ নানা সহিংস ঘটনা ঘটেছে। আমরা এ সকল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত বিচারের দাবি জানাচ্ছি। আমাদের প্রধান দাবি ছিল কোটার যৌক্তিক সংস্কার যা ইতোমধ্যে সরকার পূরণ করেছে। এখন শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানাই। সার্বিক স্বার্থে আমরা এই মুহূর্ত থেকে আমাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করছি।”
কিন্তু একজন রাজনৈতিক অভিভাবক হিসেবে সাধারণ ছাত্রদের পাশে থেকে ১৬ ও ১৮ জুলাই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতা-কর্মী ও জনগণকে আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। ২১ জুলাই লন্ডন থেকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “হাসিনার খুনী বাহিনী আমাদের সন্তানদেরকে রাজপথে হত্যা করছে। হাসিনার পতনের আন্দোলনে সর্বশক্তি দিয়ে চূড়ান্তভাবে মাঠে নামুন। আজ থেকে। এখন থেকে।”
এরপর ১ আগস্ট ২০২৪, তারেক রহমান আবারো এক দফা ঘোষণা দেন, যেখানে তিনি নেতা-কর্মী ও জনগণকে কোনো ধরনের নির্দেশনা ছাড়াই “স্বৈরিণী শেখ হাসিনার খুনি বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার” নির্দেশ দেন। একের পর এক ধারাবাহিক ঘোষণায় তিনি ঘোষণা করেন, “দফা এক দাবি এক: শেখ হাসিনার পদত্যাগ।” ৪ আগস্ট তিনি আরও এক বার্তা দেন, “প্রিয় দেশবাসী, ছাত্রদের ডাকে সাড়া দিয়ে যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে রাজপথে নেমে আসুন, প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। সেনাবাহিনীর প্রতি আমার আহ্বান- ‘দেশপ্রেমিক’ শব্দটির মর্যাদা রক্ষা করে ব্যারাকে ফিরে যান।”
জুলাই-আগস্ট মাসে ঘটে যাওয়া ছাত্র জনতার অভ্যুত্থান বা বিপ্লবকে যদি একটি ছাত্র—জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান হিসেবে তুলে ধরা হয়, তবে সেই অভ্যুত্থানে ছাত্রদের পাশে একজন রাজনৈতিক অভিভাবক হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিলেন, ছাত্রদের সাথে জনতার মালা গেঁথেছেন তারেক রহমান।
ছাত্ররা তাদের আন্দোলনের মূল দাবি ছিল কোটা সংস্কারের, যা সরকার পূর্ণ করেছে, কিন্তু এখন সেই দাবির সঙ্গে এক ধরনের নতুন দাবিও যুক্ত হয়েছে: দেশের রাজনৈতিক শাসনের পুনর্গঠন এবং গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা। সব মিলিয়ে, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের ছাত্র আন্দোলনকে নিছক একটি আন্দোলন হিসেবে দেখা যাবে না, এটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি বাঁক বদলের সূচনা। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই বিপ্লব শুধু ছাত্রদের নয়, বরং ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে আপোষহীন ভাবে অবস্থান করা বিএনপি সহ দেশের সকল গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তির।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের ছাত্র আন্দোলনটি ছিল কেবল একটি সাধারণ ছাত্র আন্দোলন নয়, এটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক বদলের সূচনা। প্রথমত, ছাত্ররা তাদের আন্দোলনের মূল দাবি ছিল কোটা সংস্কারের, যা সরকার পূর্ণ করেছে। তবে, সময়ের সঙ্গে তাদের দাবি আরও বিস্তৃত হয়ে উঠেছিল—এটি শুধুমাত্র কোটা সংস্কার সীমাবদ্ধ রইল না, বরং দেশের রাজনৈতিক শাসনের পুনর্গঠন এবং গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।
এটি শুধু ছাত্রদের আন্দোলন ছিল না, বরং এটি একটি রাজনৈতিক বিপ্লবের সূচনা। গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তি, যেমন বিএনপি, এই আন্দোলনে সমর্থন প্রদান করেছে এবং ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে তাদের আপোষহীন অবস্থান পরিষ্কার করেছে। ছাত্রদের এই আন্দোলন দেশের জনগণের এক ঐক্যবদ্ধ আওয়াজ হয়ে উঠেছিল, যা সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল।
অতএব, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন শুধুমাত্র একটি কোটা সংস্কারের আন্দোলন হিসেবে নয়, বরং এটি দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি দিশা নির্দেশক হিসেবে দেখা উচিত। এটি গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিধারা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গাজী সাইফুল 













