হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ লোকড়া-মাদনা সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই জেলার কয়েক হাজার মানুষ। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও ভাঙন তৈরি হয়েছে। এতে যাত্রী ও যানবাহনচালকদের কাছে সড়কটি এখন ‘মরণফাঁদ’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।
লাখাই উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের অন্তত ১৩টি গ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জ জেলার ৮ থেকে ১০টি গ্রামের মানুষের জেলা শহর হবিগঞ্জে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই পথে চলাচল করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদনা বাজার থেকে ভুমাপুর পর্যন্ত সড়কের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। সরেজমিনে দেখা গেছে, পাকা ও ঢালাই সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। অনেক স্থানে সড়কের ভেতরের রড বের হয়ে আছে। কোথাও রডগুলো সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কোথাও হেলে রয়েছে। এতে যানবাহনের চাকা পাংচার হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীরা। মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া অনেক সময় সম্ভব হয় না।
এ ছাড়া এই পথে ৮ থেকে ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি উচ্চবিদ্যালয়, একটি কলেজ এবং একাধিক ক্লিনিকে যাতায়াত করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সড়কের কারণে তাদের প্রায়ই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিলম্বে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, প্রায়ই সিএনজি, মোটরসাইকেল, টমটম ও অটোরিকশা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অভিযোগ, ভাঙাচোরা সড়কের কারণে শিক্ষার্থীরা সময়মতো স্কুল-কলেজে পৌঁছাতে পারছে না। বর্ষা মৌসুমে অনেককে বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে নৌপথ ব্যবহার করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।
মাদনা বাজারে পুলিশের ফাঁড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও সড়কের এমন জীর্ণ অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত লোকড়া-মাদনা সড়ক সংস্কার করে জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 













