০৯:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

কুমিল্লাসহ আশপাশের জেলায় ভয়াবহ লোডশেডিং, হিমাগার ও কৃষি খাতে বড় শঙ্কা

কুমিল্লাসহ আশপাশের কয়েকটি জেলায় টানা লোডশেডিংয়ে হিমাগার, কৃষি ও শিল্পখাতে চরম বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দিনে গড়ে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় আলু ও বীজ সংরক্ষণে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছেন হিমাগার মালিক ও সংশ্লিষ্টরা।

কুমিল্লা সদর উপজেলার আমতলী এলাকার হক অ্যান্ড সন্স কোল্ড স্টোরেজের কমপ্রেশার মেশিন অপারেটর মো. বাবুল সরকার জানান, জেলার ২০টিরও বেশি হিমাগার আলু ও বীজে পূর্ণ থাকলেও নিয়মিত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় সংরক্ষণ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। তার ভাষায়, “দিনে গড়ে পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে আলু ও বীজ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।”

তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় রাখা না গেলে পচনশীল আলু দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং বীজ আলুর ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হয়।

একই ধরনের সংকটের কথা জানান জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার আর বি কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক সেলিম হোসেন। তিনি বলেন, “প্রতিদিন গড়ে ছয় ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। এতে মাসে অতিরিক্ত প্রায় ১৫ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে হিমাগার খাতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।”

এদিকে কুমিল্লা অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, জেলার প্রায় সব উপজেলায় একই অবস্থা বিরাজ করছে এবং প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যে থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কুমিল্লা অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী শেখ ফিরোজ কবির জানান, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও লক্ষ্মীপুর জেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় ঘাটতি রয়েছে। গড়ে প্রায় ২০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কুমিল্লা বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহীদুল ইসলাম জানান, কুমিল্লা শহরে সরাসরি ত্রিপুরা গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ হওয়ায় তুলনামূলকভাবে লোডশেডিং কম হলেও গ্রামীণ ও অন্যান্য উপজেলায় পরিস্থিতি ভিন্ন। জেলার মোট চাহিদার বিপরীতে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি থাকায় নিয়মিত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিভিন্ন জোন থেকেও জানানো হয়েছে, প্রতিদিন গড়ে ৩০ শতাংশের বেশি বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং রাখতে হচ্ছে। এতে সেচ কার্যক্রম, কৃষি উৎপাদন এবং শিল্পখাত ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

কৃষকরা জানিয়েছেন, বোরো মৌসুমে নিয়মিত সেচ না পাওয়ায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। একই সঙ্গে ডিজেল সংকটের কারণে বিকল্প ব্যবস্থাও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

কুমিল্লা বিসিক শিল্পনগরীতেও লোডশেডিংয়ের প্রভাবে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রায় ১৪১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ নির্ভর হওয়ায় নিয়মিত উৎপাদন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কুমিল্লা অঞ্চলে কৃষি, শিল্প ও সাধারণ জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

জনপ্রিয়

কোন পথে বাংলাদেশ?

কুমিল্লাসহ আশপাশের জেলায় ভয়াবহ লোডশেডিং, হিমাগার ও কৃষি খাতে বড় শঙ্কা

প্রকাশিত : ১১:২১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

কুমিল্লাসহ আশপাশের কয়েকটি জেলায় টানা লোডশেডিংয়ে হিমাগার, কৃষি ও শিল্পখাতে চরম বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দিনে গড়ে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় আলু ও বীজ সংরক্ষণে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছেন হিমাগার মালিক ও সংশ্লিষ্টরা।

কুমিল্লা সদর উপজেলার আমতলী এলাকার হক অ্যান্ড সন্স কোল্ড স্টোরেজের কমপ্রেশার মেশিন অপারেটর মো. বাবুল সরকার জানান, জেলার ২০টিরও বেশি হিমাগার আলু ও বীজে পূর্ণ থাকলেও নিয়মিত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় সংরক্ষণ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। তার ভাষায়, “দিনে গড়ে পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে আলু ও বীজ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।”

তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় রাখা না গেলে পচনশীল আলু দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং বীজ আলুর ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হয়।

একই ধরনের সংকটের কথা জানান জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার আর বি কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক সেলিম হোসেন। তিনি বলেন, “প্রতিদিন গড়ে ছয় ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। এতে মাসে অতিরিক্ত প্রায় ১৫ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে হিমাগার খাতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।”

এদিকে কুমিল্লা অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, জেলার প্রায় সব উপজেলায় একই অবস্থা বিরাজ করছে এবং প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যে থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কুমিল্লা অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী শেখ ফিরোজ কবির জানান, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও লক্ষ্মীপুর জেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় ঘাটতি রয়েছে। গড়ে প্রায় ২০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কুমিল্লা বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহীদুল ইসলাম জানান, কুমিল্লা শহরে সরাসরি ত্রিপুরা গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ হওয়ায় তুলনামূলকভাবে লোডশেডিং কম হলেও গ্রামীণ ও অন্যান্য উপজেলায় পরিস্থিতি ভিন্ন। জেলার মোট চাহিদার বিপরীতে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি থাকায় নিয়মিত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিভিন্ন জোন থেকেও জানানো হয়েছে, প্রতিদিন গড়ে ৩০ শতাংশের বেশি বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং রাখতে হচ্ছে। এতে সেচ কার্যক্রম, কৃষি উৎপাদন এবং শিল্পখাত ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

কৃষকরা জানিয়েছেন, বোরো মৌসুমে নিয়মিত সেচ না পাওয়ায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। একই সঙ্গে ডিজেল সংকটের কারণে বিকল্প ব্যবস্থাও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

কুমিল্লা বিসিক শিল্পনগরীতেও লোডশেডিংয়ের প্রভাবে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রায় ১৪১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ নির্ভর হওয়ায় নিয়মিত উৎপাদন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কুমিল্লা অঞ্চলে কৃষি, শিল্প ও সাধারণ জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।