বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের কোনো দলই গণতন্ত্র হত্যাকারী আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত দেখতে চায়না। গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক সমর্থক হিসেবে আমি কমপক্ষে আগামী তিনটি জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী হিসেবে দেখতে চাইনা।
কিন্তু এটি কিভাবে সম্ভব? অবশ্যই আইনগতভাবেই এটি সম্ভব।
১. সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের দুই ধারা অনুযায়ী ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৬ সালের প্রতারণামূলক জাতীয় নির্বাচন করেছে যেখানে জনগণ ভোট দিতে পারেনি।জনগণের প্রত্যক্ষ ভোট ছাড়াই অনির্বাচিত এমপিদেরকে দিয়ে সংসদ গঠন করা হয়েছে। অর্থাৎ সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘন করেই আওয়ামী লীগ নিজ দলের প্রার্থীদেরকে একতরফা অবৈধভাবে এমপি ঘোষণা করা হয়েছে।
অতএব বারবার তিনবার সরাসরি জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোট ছাড়াই নির্বাচিত ঘোষিত কথিত এই ৯০০ এমপিকে সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে আগামী তিনটি জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ রহিত করার সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত সংবিধানের ৪৭ ধারা অনুযায়ীও সমর্থনযোগ্য।
২. আওয়ামী গণহত্যাকারী দল। আওয়ামী লীগ টাকাপাচারকারী দল। আওয়ামী লীগ বর্বর বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’ প্রতিষ্ঠাকারীদের দল। আওয়ামী লীগ সরাসরি গুম খুন অপহরণের সঙ্গে জড়িত। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক রিপোর্টেও আওয়ামী লীগের গুম খুন গণহত্যা অপহরণের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। এইসব অভিযোগে নির্বাচন কমিশনও আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল করতে পারে। এভাবেই আইনগতভাবেই আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক করে দেয়া যেতে পারে।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে কোনো রাজনৈতিক দল সরাসরি বিরোধিতা করেনি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এমন কোনো পক্ষেপ নেওয়া উচিত হবে না, যাতে রাষ্ট্র এবং রাজনীতিতে পলাতক স্বৈরাচারের দোসররা পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ পায়। জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘গণহত্যাকারীদের রাজনীতি করার অধিকার নেই’। জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের সকল রাজনৈতিক দলই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি অপ্রাসঙ্গিক করার ব্যাপারে একই ধরণের মতামত ব্যক্ত করেছে। সুতরাং, আওয়ামী লীগকে কিভাবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক করে দেয়া যায় সেই সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেই নিতে হবে, কোনো রাজনৈতিক দল নয়। কারণ সিদ্ধান্ত নেয়ার আইনগত কতৃপক্ষ সরকার কোনো রাজনৈতিক দলের নয়। সুতরাং, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ না নিয়ে ব্লেম গেইমে লিপ্ত হলে সেটি দেশের গণতন্ত্রীকামী জনগণ মেনে নেবেনা।
গাজী সাইফুল 













