যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ গ্রহণ করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক মেয়াদের বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়া ট্রাম্প তার প্রতিপক্ষদের পরাজিত করে আবারও বিশ্বের শীর্ষ ক্ষমতাধর দেশটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল ভবনে আড়ম্বরপূর্ণ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শপথ নেন। এতে উপস্থিত ছিলেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ ও তার স্ত্রী প্রিসিলা চ্যান, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস ও তার সঙ্গী লরেন সানচেজ। শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইলন মাস্কসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।
২৪৮ বছরের মার্কিন ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা। এর আগে কেবল গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড এমন নজির স্থাপন করেছিলেন। ট্রাম্পের নেতৃত্বে রিপাবলিকান পার্টি শুধু প্রেসিডেন্সি নয়, সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণও অর্জন করেছে, যা তার বিজয়কে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
নভেম্বর থেকে জানুয়ারি: ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের যাত্রাপথ
নভেম্বর ৬:
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্লোরিডায় উল্লাসমুখর সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাদের এক নজিরবিহীন ও শক্তিশালী ম্যান্ডেট দিয়েছে আমেরিকা।”
নভেম্বর ৭:
তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন এবং শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন।
নভেম্বর ৮-১৪:
ট্রাম্প মন্ত্রিসভার বাছাই শুরু করেন। প্রথমেই সীমান্ত জার হিসাবে টম হোমনকে মনোনীত করেন। একই সময়ে ইলন মাস্ককে নতুন দক্ষতা বিভাগের সহ-প্রধান এবং মার্কো রুবিওকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে মনোনয়ন দেন। এছাড়া প্রতিনিধি ম্যাট গেটজকে অ্যাটর্নি জেনারেল পদে বেছে নেওয়া হয়।
নির্বাচনের পর প্রথম জনসম্মুখে বক্তৃতা দেন ট্রাম্প। ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে অনুষ্ঠিত এক গালা নাইটে তিনি তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের বাছাই প্রসঙ্গে দিকনির্দেশনা দেন।
নভেম্বর ২০-২৩:
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের সঙ্গে একাধিক সভা করেন ট্রাম্প। একই সময়ে মেক্সিকো, কানাডা এবং চীনের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
জানুয়ারি ৬ ও ১০:
কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ইলেক্টোরাল কলেজের ভোট গণনা শেষে ট্রাম্পের বিজয় নিশ্চিত করা হয়। এর মধ্যেই একটি আইনি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেও তাকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি
শপথ গ্রহণের পর ট্রাম্প বলেন, “আমেরিকার শক্তি পুনর্নির্মাণ এবং নতুন ভবিষ্যত গড়াই আমার লক্ষ্য। আমরা অভ্যন্তরীণ শিল্প পুনরুজ্জীবিত করবো এবং বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরও বাড়াবো।” তিনি অর্থনীতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি, চীনের প্রতি কঠোর নীতি বজায় রাখা এবং অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থান বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক, জেফ বেজোসসহ শীর্ষ ব্যক্তিদের উপস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি কর্পোরেট বিশ্বের আস্থার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্পের এ শপথগ্রহণ শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং রিপাবলিকান পার্টিরও ঐতিহাসিক অর্জন। এটি একাধারে তার বিরোধীদের জন্য চ্যালেঞ্জ এবং তার সমর্থকদের জন্য উদ্দীপনা।
বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে আছে তার দ্বিতীয় মেয়াদে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক রাজনীতি নতুন দিকে পরিচালিত হয়।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

























