০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

মনে এখনও পঁচিশের যৌবন, শরীরেও তাই ছিল বছর খানিক আগে : তসলিমা নাসরিন

তসলিমা নাসরিন। ছবি: সংগৃহীত


সাহিত্য আমার কাছে একা আসেনি। সাহিত্যের সঙ্গে সঙ্গীত, নৃত্য, সিনেমা, নাটক, শিল্প, স্থাপত্য সব হুড়মুড় করে এসেছিল সেই ছোটবেলায়। একসঙ্গে এত কিছুর প্রতি অনুরাগ খুব বেশি মানুষের নেই। তাই যাঁদের সঙ্গে সিনেমা নিয়ে গল্প করি, তাঁদের সঙ্গে পেইন্টিংস নিয়ে পারি না। যাঁদের সঙ্গে বিজ্ঞান নিয়ে কথা বলি, তাঁদের সঙ্গে সংস্কৃতি নিয়ে পারি না। আমার জগতটা একা আমার হয়ে ওঠে।

যদিও মনে এখনও পঁচিশের যৌবন, শরীরেও তাই ছিল বছর খানিক আগে, (ক্রাইম সার্জারিটি হওয়ার আগে), বেশ বুঝি যে সময় দ্রুত ফুরোচ্ছে। ঘরে কয়েক হাজার বই। এত বইএর কটি আর পড়ার সময় পাবো! সিনেমাটা তাই বেশি দেখা হয় আজকাল। অবশ্য খুবই বেছে। ধরা যাক, কোনও উপন্যাস অবলম্বনে একটি অসাধারণ সিনেমা বানানো হয়েছে। আমি উপন্যাস না পড়ে সিনেমাটি দেখবো। কারণ সিনেমাটি দেখতে খরচ হবে দু’ঘণ্টা, বইটি পড়তে দু’দিন।

জীবনকে উপভোগ করছি, বললে অনেকে মনে করে মদ সিগারেট খাচ্ছি, পুরুষ মানুষের সঙ্গে শুচ্ছি, পার্টিতে যাচ্ছি, নাচছি। না, আমি এসবের কিছুই করি না। কিন্তু জীবন উপভোগ করি। কী করে করি? বই পড়ে, গান শুনে, সিনেমা দেখে, নাটক দেখে, চিত্রশিল্প দেখে, ভাস্কর্য দেখে, নাচ দেখে। উপভোগ করি ভ্রমণ করে, প্রকৃতির রূপ আস্বাদন করে, সুস্বাদু খাদ্য খেয়ে। উপভোগ করি লিখে, বিভিন্ন বিষয়ে নিজের মত প্রকাশ করে।

কিছুদিনের মধ্যে কয়েকটি সিনেমা দেখা হয়ে গেছে। কিলার অব দ্য ফ্লাওয়ার মুন, নেপোলিয়ন, দ্য আর্চিজ, টুয়েলফথ ফেইল, জোরাম, ফেয়ার প্লে …। এই সিনেমাগুলোর মধ্যে কিলার অব দ্য ফ্লাওয়ার মুন আর জোরামের দৃশ্য বার বারই মনে ভাসছে। ভাবছি সিনেমা নিয়ে একটি পেইজ করবো। চিত্রালি, সিনেমা ইত্যাদি কাগজে সিনেমার রিভিউ লিখতে শুরু করেছিলাম মাত্র ১৪ বছর বয়সে। বড় হয়ে বড় পত্রিকায় মাঝে মাঝে লিখেছি বটে, তবে সেগুলো ফরমাইয়েশি ছিল। সিনেমা নিয়ে লিখতেই পারবো, আর কিছু তো পারবো না। সিনেমা বানানোর প্রতিভা নিয়ে তো জন্মাইনি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

মনে এখনও পঁচিশের যৌবন, শরীরেও তাই ছিল বছর খানিক আগে : তসলিমা নাসরিন

প্রকাশিত : ০৩:৩৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩

সাহিত্য আমার কাছে একা আসেনি। সাহিত্যের সঙ্গে সঙ্গীত, নৃত্য, সিনেমা, নাটক, শিল্প, স্থাপত্য সব হুড়মুড় করে এসেছিল সেই ছোটবেলায়। একসঙ্গে এত কিছুর প্রতি অনুরাগ খুব বেশি মানুষের নেই। তাই যাঁদের সঙ্গে সিনেমা নিয়ে গল্প করি, তাঁদের সঙ্গে পেইন্টিংস নিয়ে পারি না। যাঁদের সঙ্গে বিজ্ঞান নিয়ে কথা বলি, তাঁদের সঙ্গে সংস্কৃতি নিয়ে পারি না। আমার জগতটা একা আমার হয়ে ওঠে।

যদিও মনে এখনও পঁচিশের যৌবন, শরীরেও তাই ছিল বছর খানিক আগে, (ক্রাইম সার্জারিটি হওয়ার আগে), বেশ বুঝি যে সময় দ্রুত ফুরোচ্ছে। ঘরে কয়েক হাজার বই। এত বইএর কটি আর পড়ার সময় পাবো! সিনেমাটা তাই বেশি দেখা হয় আজকাল। অবশ্য খুবই বেছে। ধরা যাক, কোনও উপন্যাস অবলম্বনে একটি অসাধারণ সিনেমা বানানো হয়েছে। আমি উপন্যাস না পড়ে সিনেমাটি দেখবো। কারণ সিনেমাটি দেখতে খরচ হবে দু’ঘণ্টা, বইটি পড়তে দু’দিন।

জীবনকে উপভোগ করছি, বললে অনেকে মনে করে মদ সিগারেট খাচ্ছি, পুরুষ মানুষের সঙ্গে শুচ্ছি, পার্টিতে যাচ্ছি, নাচছি। না, আমি এসবের কিছুই করি না। কিন্তু জীবন উপভোগ করি। কী করে করি? বই পড়ে, গান শুনে, সিনেমা দেখে, নাটক দেখে, চিত্রশিল্প দেখে, ভাস্কর্য দেখে, নাচ দেখে। উপভোগ করি ভ্রমণ করে, প্রকৃতির রূপ আস্বাদন করে, সুস্বাদু খাদ্য খেয়ে। উপভোগ করি লিখে, বিভিন্ন বিষয়ে নিজের মত প্রকাশ করে।

কিছুদিনের মধ্যে কয়েকটি সিনেমা দেখা হয়ে গেছে। কিলার অব দ্য ফ্লাওয়ার মুন, নেপোলিয়ন, দ্য আর্চিজ, টুয়েলফথ ফেইল, জোরাম, ফেয়ার প্লে …। এই সিনেমাগুলোর মধ্যে কিলার অব দ্য ফ্লাওয়ার মুন আর জোরামের দৃশ্য বার বারই মনে ভাসছে। ভাবছি সিনেমা নিয়ে একটি পেইজ করবো। চিত্রালি, সিনেমা ইত্যাদি কাগজে সিনেমার রিভিউ লিখতে শুরু করেছিলাম মাত্র ১৪ বছর বয়সে। বড় হয়ে বড় পত্রিকায় মাঝে মাঝে লিখেছি বটে, তবে সেগুলো ফরমাইয়েশি ছিল। সিনেমা নিয়ে লিখতেই পারবো, আর কিছু তো পারবো না। সিনেমা বানানোর প্রতিভা নিয়ে তো জন্মাইনি।