০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে সুবিধাভোগী, দিনকালের সাবেক বার্তা সম্পাদক রাশেদুল হক

দিনকাল পত্রিকার বার্তা সম্পাদক রাশেদুল হক। ছবি: সংগৃহীত


ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) কার্যালয়ে সম্প্রতি দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে দিনকাল পত্রিকার সাবেক বার্তা সম্পাদক রাশেদুল হকের নাম। ডিইউজে (ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন) এর সহ-সভাপতি হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিলেও তার অতীত পেশাগত এবং রাজনৈতিক পরিচয় ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক।

জানা গেছে, একসময় মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন রাশেদুল হক। শিক্ষকতা পেশা থেকে হঠাৎই কিভাবে তিনি সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ পদে উঠে এলেন, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। পূর্ণকালীন কোনো সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত না থেকেও, তিনি কীভাবে সাংবাদিক সংগঠনের শীর্ষপদে অবস্থান করছেন, তা নিয়েও অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেক সাংবাদিক নেতা।

২০১৪ সালে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাবর একটি চিঠিতে রাশেদুল হক নিজেকে এবং তার পরিবারকে আওয়ামী লীগপন্থী বলে দাবি করেন। সেই চিঠিতে তার স্ত্রী হেলেনা বেগমকে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বলেও উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে জামায়াত-বিএনপির একাধিক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়াও ডিআরইউ-তে সাংবাদিকদের উপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় তার নাম জড়িয়েছে সরাসরি।

শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো চিঠির স্ক্যান কপি, যেখানে আওয়ামী ঘরানার পরিচয় স্পষ্ট। ছবি: সংগৃহীত

অভিযোগ রয়েছে, তিনি সাংবাদিকতার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ে সুবিধা আদায়েই বেশি সক্রিয়। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক হিসেবে নিয়মিত কাজ না করেও তিনি দীর্ঘদিন মাদ্রাসা শিক্ষক হিসেবে সরকারি ভাতা গ্রহণ করেছেন। একইসঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং সংগঠনের নাম ব্যবহার করে ক্ষমতা দেখানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনি নিজেকে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর ঘনিষ্টজন হিসেবে প্রচার করেন। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি’র মুখপত্র দৈনিক দিনকালে সাংবাদিকতায় যুক্ত থাকায় বিএনপি নেতাদের সাথেও ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।

এদিকে, দিনকাল পত্রিকায় ইতোপূর্বে তার বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। উল্লেখ্য, দিনকাল একটি বিএনপিপন্থী পত্রিকা হিসেবে পরিচিত। একি ব্যক্তি কীভাবে এক সময় আওয়ামীপন্থী পরিচয়ে চিঠি পাঠিয়ে সুবিধা গ্রহণ করেন এবং পরে বিএনপিপন্থী প্ল্যাটফর্মে শীর্ষপদে আসীন হন, তা নিয়েই এখন ব্যাপক সমালোচনা।

বিএনপির শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার সময়ে রাশেদুল হকের মতো দ্বৈত চরিত্রধারী সুবিধাবাদীরা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করছেন বিএনপি পন্থী সাংবাদিকরা।

জনপ্রিয়

আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে সুবিধাভোগী, দিনকালের সাবেক বার্তা সম্পাদক রাশেদুল হক

প্রকাশিত : ০৬:০৪:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৫

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) কার্যালয়ে সম্প্রতি দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে দিনকাল পত্রিকার সাবেক বার্তা সম্পাদক রাশেদুল হকের নাম। ডিইউজে (ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন) এর সহ-সভাপতি হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিলেও তার অতীত পেশাগত এবং রাজনৈতিক পরিচয় ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক।

জানা গেছে, একসময় মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন রাশেদুল হক। শিক্ষকতা পেশা থেকে হঠাৎই কিভাবে তিনি সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ পদে উঠে এলেন, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। পূর্ণকালীন কোনো সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত না থেকেও, তিনি কীভাবে সাংবাদিক সংগঠনের শীর্ষপদে অবস্থান করছেন, তা নিয়েও অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেক সাংবাদিক নেতা।

২০১৪ সালে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাবর একটি চিঠিতে রাশেদুল হক নিজেকে এবং তার পরিবারকে আওয়ামী লীগপন্থী বলে দাবি করেন। সেই চিঠিতে তার স্ত্রী হেলেনা বেগমকে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বলেও উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে জামায়াত-বিএনপির একাধিক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়াও ডিআরইউ-তে সাংবাদিকদের উপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় তার নাম জড়িয়েছে সরাসরি।

শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো চিঠির স্ক্যান কপি, যেখানে আওয়ামী ঘরানার পরিচয় স্পষ্ট। ছবি: সংগৃহীত

অভিযোগ রয়েছে, তিনি সাংবাদিকতার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ে সুবিধা আদায়েই বেশি সক্রিয়। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক হিসেবে নিয়মিত কাজ না করেও তিনি দীর্ঘদিন মাদ্রাসা শিক্ষক হিসেবে সরকারি ভাতা গ্রহণ করেছেন। একইসঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং সংগঠনের নাম ব্যবহার করে ক্ষমতা দেখানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনি নিজেকে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর ঘনিষ্টজন হিসেবে প্রচার করেন। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি’র মুখপত্র দৈনিক দিনকালে সাংবাদিকতায় যুক্ত থাকায় বিএনপি নেতাদের সাথেও ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।

এদিকে, দিনকাল পত্রিকায় ইতোপূর্বে তার বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। উল্লেখ্য, দিনকাল একটি বিএনপিপন্থী পত্রিকা হিসেবে পরিচিত। একি ব্যক্তি কীভাবে এক সময় আওয়ামীপন্থী পরিচয়ে চিঠি পাঠিয়ে সুবিধা গ্রহণ করেন এবং পরে বিএনপিপন্থী প্ল্যাটফর্মে শীর্ষপদে আসীন হন, তা নিয়েই এখন ব্যাপক সমালোচনা।

বিএনপির শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার সময়ে রাশেদুল হকের মতো দ্বৈত চরিত্রধারী সুবিধাবাদীরা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করছেন বিএনপি পন্থী সাংবাদিকরা।