১০:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

হান্নান মাসউদকে ‘শোকজ’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ। ছবিঃ সংগৃহীত


রাজধানীর ধানমণ্ডিতে গত মঙ্গলবার (২০ মে) রাতে আবাসিক এলাকায় ‘মব’ সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা করার অভিযোগে আটক হওয়া তিন ব্যক্তিকে থানায় থেকে মুচলেকা নিয়ে ছাড়িয়ে আনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে দলটি।

বুধবার (২১ মে) এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নোটিশে বলা হয়, আটক তিনজনের একজন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মোহাম্মদপুর থানার আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম রাব্বি, যিনি এর আগে নৈতিকতা স্খলনের অভিযোগে অব্যাহতি পেয়েছেন। এতদসত্ত্বেও, হান্নান মাসউদ থানায় গিয়ে তাদের জামিন করিয়ে আনেন, যা দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী।

নোটিশে আবদুল হান্নান মাসউদকে আগামী তিন দিনের মধ্যে শৃঙ্খলা কমিটির প্রধানের নিকট লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ঘটনার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাসে হান্নান মাসউদ ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “মোহাম্মদপুর থানা বৈবিছাআ’র আহ্বায়কসহ তিনজনকে আটক করা হয় মব সৃষ্টির চেষ্টাকালে। তাদের পরিচয়ে কিছু স্টুডেন্ট থানায় গিয়েও ঝামেলা সৃষ্টি করে।”

তিনি দাবি করেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারের অনুরোধে তিনি সেখানে যান এবং প্রশাসনের অনুরোধে বিষয়টির মধ্যস্থতা করেন। হান্নান মাসউদ জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো অভিযোগ রুজু করেনি এবং করতে চায়ওনি। ফলে তিনি প্রশাসনের অনুরোধেই তাদের মুচলেকায় ছেড়ে আনেন।

তিনি আরও জানান, “ফ্যাসিবাদবিরোধী একটি মঞ্চের ব্যানারে নিয়মিত মব সৃষ্টি করা এক ব্যক্তিও সেখানে ছিল, যা আমি পরে জানতে পারি। প্রশাসনকে এ বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, এই মব সৃষ্টির মূল হোতারা দ্রুত গ্রেপ্তার হবে।”

এ বিষয়ে ধানমন্ডি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈনু সাংবাদিকদের নিশ্চিত করে বলেন, “আটক তিনজনকে মঙ্গলবার হান্নান মাসউদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এনসিপির ভেতরে তৈরি হওয়া বিতর্কের রেশ এখনো কাটেনি। হান্নান মাসউদ অবশ্য সাংবাদিকদের জানান, “আমি শুধু খোঁজ-খবর নিতে গিয়েছিলাম। একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, সেটি মীমাংসা করা হয়েছে। বাইরের কিছু ব্যক্তি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল, যাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।”

জনপ্রিয়

হান্নান মাসউদকে ‘শোকজ’

প্রকাশিত : ০৫:৫৬:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫

রাজধানীর ধানমণ্ডিতে গত মঙ্গলবার (২০ মে) রাতে আবাসিক এলাকায় ‘মব’ সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা করার অভিযোগে আটক হওয়া তিন ব্যক্তিকে থানায় থেকে মুচলেকা নিয়ে ছাড়িয়ে আনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে দলটি।

বুধবার (২১ মে) এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নোটিশে বলা হয়, আটক তিনজনের একজন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মোহাম্মদপুর থানার আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম রাব্বি, যিনি এর আগে নৈতিকতা স্খলনের অভিযোগে অব্যাহতি পেয়েছেন। এতদসত্ত্বেও, হান্নান মাসউদ থানায় গিয়ে তাদের জামিন করিয়ে আনেন, যা দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী।

নোটিশে আবদুল হান্নান মাসউদকে আগামী তিন দিনের মধ্যে শৃঙ্খলা কমিটির প্রধানের নিকট লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ঘটনার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাসে হান্নান মাসউদ ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “মোহাম্মদপুর থানা বৈবিছাআ’র আহ্বায়কসহ তিনজনকে আটক করা হয় মব সৃষ্টির চেষ্টাকালে। তাদের পরিচয়ে কিছু স্টুডেন্ট থানায় গিয়েও ঝামেলা সৃষ্টি করে।”

তিনি দাবি করেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারের অনুরোধে তিনি সেখানে যান এবং প্রশাসনের অনুরোধে বিষয়টির মধ্যস্থতা করেন। হান্নান মাসউদ জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো অভিযোগ রুজু করেনি এবং করতে চায়ওনি। ফলে তিনি প্রশাসনের অনুরোধেই তাদের মুচলেকায় ছেড়ে আনেন।

তিনি আরও জানান, “ফ্যাসিবাদবিরোধী একটি মঞ্চের ব্যানারে নিয়মিত মব সৃষ্টি করা এক ব্যক্তিও সেখানে ছিল, যা আমি পরে জানতে পারি। প্রশাসনকে এ বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, এই মব সৃষ্টির মূল হোতারা দ্রুত গ্রেপ্তার হবে।”

এ বিষয়ে ধানমন্ডি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈনু সাংবাদিকদের নিশ্চিত করে বলেন, “আটক তিনজনকে মঙ্গলবার হান্নান মাসউদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এনসিপির ভেতরে তৈরি হওয়া বিতর্কের রেশ এখনো কাটেনি। হান্নান মাসউদ অবশ্য সাংবাদিকদের জানান, “আমি শুধু খোঁজ-খবর নিতে গিয়েছিলাম। একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, সেটি মীমাংসা করা হয়েছে। বাইরের কিছু ব্যক্তি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল, যাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।”