০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন অপরিহার্য


বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। বর্তমান বিশ্বে একটি জাতির জন্য কূটনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো দেশই অন্যদের সহযোগিতা ছাড়া একা টিকে থাকতে পারে না। তাই জরুরি সময়ে, বিশেষত যুদ্ধকালীন সময়ে, যারা আমাদের সহায়তা করতে প্রস্তুত, তাদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার গুরুত্ব অপরিসীম।

শক্তিশালী কূটনৈতিক সম্পর্ককে জাতীয় শক্তির একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভৌগোলিক অবস্থান, প্রাকৃতিক সম্পদ, জনসংখ্যা, আদর্শ, সুশাসন, সামরিক শক্তি এবং দৃঢ় কূটনৈতিক সম্পর্ক—এসবই জাতীয় শক্তি গঠনের জন্য অপরিহার্য। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের দেশে জাতীয় শক্তির যথাযথ বিকাশ এখনও সম্ভব হয়নি, যদিও আমাদের সেই সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমান বিশ্বে জাতীয় শক্তি গড়ে তোলার জন্য ভালো বন্ধুদের সহযোগিতা অপরিহার্য। একটি দরিদ্র দেশের জন্য বহির্জাগতিক বন্ধুত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের অর্থনৈতিক এবং সামরিক সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজন, যা আমাদের জাতীয় শক্তি উন্নয়নে সহায়ক হবে।

ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ তিন দিক থেকে ভারতের দ্বারা পরিবেষ্টিত, দক্ষিণে শুধু সমুদ্র। ভারত এমন একটি দেশ, যা যে কোনো সময় আমাদের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। বাংলাদেশ একমাত্র মুসলিম দেশ যার নিকটবর্তী প্রতিবেশী হিসেবে কোনো মুসলিম দেশ নেই। এই পরিস্থিতি আমাদের জন্য বড় একটি অসুবিধা।

যদি আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি এবং তাদের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন করতে পারি, তবে ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে দুইবার ভাববে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগ বাংলাদেশ সরকারের জন্য ভারতের আধিপত্যবাদী রাজনীতিকে প্রতিহত করতে একটি কার্যকর কৌশল হবে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের মাধ্যমে ভারত ও তার মিত্র ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা হয়েছে। এর ফলে আমাদের জাতীয় শক্তি গড়ে তোলার জন্য একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ভারতের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা করতে আমাদের সহায়তা করবে।

যদিও পররাষ্ট্রনীতি মূলত পেশাদার কূটনীতিকদের কাজ, যোগ্য রাজনৈতিক নেতা ও বুদ্ধিজীবীরাও এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। সম্পর্ক তৈরির জন্য যেকোনো উপায় ব্যবহার করাই হোক না কেন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দেশের সঙ্গে আক্রমণাত্মকভাবে সম্পর্ক স্থাপনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

ভারতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চাইলে পাকিস্তানের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। এটি আমাদের নিজস্ব স্বার্থেই করতে হবে। যত দ্রুত আমরা এটি উপলব্ধি করব, ততই আমাদের জন্য মঙ্গল।

জনপ্রিয়

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন অপরিহার্য

প্রকাশিত : ০৪:৩১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৪

বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। বর্তমান বিশ্বে একটি জাতির জন্য কূটনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো দেশই অন্যদের সহযোগিতা ছাড়া একা টিকে থাকতে পারে না। তাই জরুরি সময়ে, বিশেষত যুদ্ধকালীন সময়ে, যারা আমাদের সহায়তা করতে প্রস্তুত, তাদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার গুরুত্ব অপরিসীম।

শক্তিশালী কূটনৈতিক সম্পর্ককে জাতীয় শক্তির একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভৌগোলিক অবস্থান, প্রাকৃতিক সম্পদ, জনসংখ্যা, আদর্শ, সুশাসন, সামরিক শক্তি এবং দৃঢ় কূটনৈতিক সম্পর্ক—এসবই জাতীয় শক্তি গঠনের জন্য অপরিহার্য। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের দেশে জাতীয় শক্তির যথাযথ বিকাশ এখনও সম্ভব হয়নি, যদিও আমাদের সেই সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমান বিশ্বে জাতীয় শক্তি গড়ে তোলার জন্য ভালো বন্ধুদের সহযোগিতা অপরিহার্য। একটি দরিদ্র দেশের জন্য বহির্জাগতিক বন্ধুত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের অর্থনৈতিক এবং সামরিক সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজন, যা আমাদের জাতীয় শক্তি উন্নয়নে সহায়ক হবে।

ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ তিন দিক থেকে ভারতের দ্বারা পরিবেষ্টিত, দক্ষিণে শুধু সমুদ্র। ভারত এমন একটি দেশ, যা যে কোনো সময় আমাদের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। বাংলাদেশ একমাত্র মুসলিম দেশ যার নিকটবর্তী প্রতিবেশী হিসেবে কোনো মুসলিম দেশ নেই। এই পরিস্থিতি আমাদের জন্য বড় একটি অসুবিধা।

যদি আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি এবং তাদের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন করতে পারি, তবে ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে দুইবার ভাববে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগ বাংলাদেশ সরকারের জন্য ভারতের আধিপত্যবাদী রাজনীতিকে প্রতিহত করতে একটি কার্যকর কৌশল হবে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের মাধ্যমে ভারত ও তার মিত্র ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা হয়েছে। এর ফলে আমাদের জাতীয় শক্তি গড়ে তোলার জন্য একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ভারতের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা করতে আমাদের সহায়তা করবে।

যদিও পররাষ্ট্রনীতি মূলত পেশাদার কূটনীতিকদের কাজ, যোগ্য রাজনৈতিক নেতা ও বুদ্ধিজীবীরাও এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। সম্পর্ক তৈরির জন্য যেকোনো উপায় ব্যবহার করাই হোক না কেন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দেশের সঙ্গে আক্রমণাত্মকভাবে সম্পর্ক স্থাপনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

ভারতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চাইলে পাকিস্তানের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। এটি আমাদের নিজস্ব স্বার্থেই করতে হবে। যত দ্রুত আমরা এটি উপলব্ধি করব, ততই আমাদের জন্য মঙ্গল।