১০:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ঐশ্বরিক প্রেম-প্রীতির বাংলাদেশ

  • কাজল জালালী
  • প্রকাশিত : ০৬:৫৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৪
  • 486

ছবি: কাজল জালালী


আমার দেশের বাড়ি মেঘনা এবং তিতাস নদীর পাড়ে। নিয়মের ব্যত্যয় না ঘটিয়ে প্রায় প্রতি বছরই কমবেশী বন্যায় আক্রান্ত হতো এই জনপদ।অনেক ছোট বেলা থেকেই বন্যা দেখে অভ্যস্ত । অনেক অবস্থাসম্পন্ন পরিবারকে দেখেছি নদীর ভাঙ্গনে নিঃস্ব হয়ে যেতে। উনাদের চোখের নিরব সেই ভাষা আজও অবচেতন মনে কষ্ট দেয়, ভাবায়। মাচা বানিয়ে পানির উপরে ঘুমানো, কলার ভেলার উপর বিশেষ কৌশলে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়া; এমন অসংখ্য ঘটনাবহুল শৈশব-কৈশোর আমার; নিজ চোখে ছোট বেলায় দেখেছি’ কত কষ্ট মানুষর। বিষয়গুলো স্মৃতি রোমন্থনে আজও ভেসে উঠে।

টানা ভারি বর্ষণ এবং উজানের দেশ ভারত থেকে ধেয়ে আসা আকস্মিক বন্যায় ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মনবাড়ীয়া, হবিগঞ্জসহ দেশের পূর্বাঞ্চলের ১২টি জেলায় স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। ইনশাল্লাহ আমরা সকলে মিলেই এই বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠবো। আমাদের জাতীয় শক্তি ও ঐক্য এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি মজবুত। এটি এক অন্য রকম অনুভূতি। আলহামদুলিল্লাহ। এমন বহু দুর্যোগ এ অঞ্চলের মানুষ মোকাবেলা করেছে এবং এবারও করছে।

আসুন এখন এই বিতর্ক না করি “কেউ ইচ্ছা করে পানি ছেড়ে দিয়ে কি নৌকার প্রয়োজনীয়তা বুঝানোর চেষ্টা করলো নাকি আমাদের?”

এই বাংলাদেশ কালেক্টিভ বাংলাদেশ। ট্রাক মালিক ফ্রিতে তার ট্রাক দিয়ে দিচ্ছেন, পেট্রোল পাম্পের মালিক ফ্রিতে পেট্রোল দিয়ে দিচ্ছেন, এক ভাই ওমরা হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে জমানো টাকা দিয়ে দিলন, এক মন্দির কমিটি দূর্গা পূজার বাজেটের একটা অংশ দিয়ে দিলেন, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশানে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যে যেভাবে পারছেন নৌকা স্পিডবোট ট্রাকে উঠিয়ে ছুটে চলেছেন বন্যার্তদের উদ্ধারে, যারা স্বশরীরে পারছে না, তারা ডোনেট করছেন। বিভিন্ন কম্পানির কর্মচারীরা তাদের একদিনের বেতন ডোনেট করছেন। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ত্রাণ নিয়ে ছুটে চলেছেন বান্দরবান, রাঙামাটির এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। মানুষের প্রতি মানুষের এ যেন এক অদ্ভুত দ্যোদনা। আবেগ, অনুভূতি, দায়িত্ববোধ, সংস্কৃতির আতিথেয়তা, বৈষম্যহীন এক নব বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়। এই উন্মাদনার ধর্ম এক, আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি মানুষের একতা। বিপদে আমরা একে অন্যের পাশেই থাকি। আসুন, আমরা বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়াই। সবাই মিলে এমন বিপদ মোকাবেলা করা সহজ হবে। আল্লাহ সহায় হোন। সামর্থ্য যদি ১০ টাকা থাকে, ওটা নিয়েই এগোই। আজকের খুতবাতে ইমাম সাহেব বলেছেন জাকাতের টাকা এই বন্যাতে দান করা যাবে । যারা পুরোনো কাপড় দিব তারা অবশ্যই এটা মাথায় রাখব- ওনারা পরিস্থিতির শিকার। শিশুদের খাবার ও চিকিৎসা নিয়ে সংকটের মধ্যে পড়েছেন বাবা-মায়েরা । আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন।

বন্যা পরবর্তী পূনর্বাসনের জন্য ফান্ড রাখি। অযথাই চিড়া মুড়ি স্যালাইন কিনে টাকা শেষ করবো না। যে সব সংস্থার উদ্যোগে ইতোমধ্যেই দুর্গত এলাকায় উদ্ধার, খাদ্য ইত্যাদি কাজ শুরু করেছে তাদের সাথে যোগাযোগ করে তবেই জিনিসপত্র কিনি। বন্যার পানি নেমে গেলে খাবার পানি, পয়ো:নিষ্কাশন, রাস্তাঘাট, কাঠ-বাঁশের সাঁকো, ঘরবাড়ি পুনর্গঠন করা লাগবে। গরীব চাষীর গরু, বীজ, সার কেনা লাগবে। গ্রামের গরীব প্রান্তিক চাষীর তালিকা বানিয়ে সাহায্য করা উত্তম। তখন জনবল, অর্থ দুইটাই লাগবে। সব টাকা শেষ করে ফেলবো না।

যাঁরা উদ্ধার অভিযানে যাচ্ছেন নিজের প্রতি খেয়াল রাখবেন। ধর্ম গোত্র বর্ন নির্বিশেষে মানবিক সহায়তায় এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পরার দৃষ্টান্ত কোন ধনী দেশও বিরল। আমি আমার দেশ এবং জাতী নিয়ে গর্বে বুকটা ভরে যাচ্ছে। দেশের মানুষের বিপদে এমন সৌহার্দ্য সম্পৃতি পৃথিবীতে আর অন্য কোন দেশে আছে কিনা আমার জানা নাই। জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো।

জনপ্রিয়

ঐশ্বরিক প্রেম-প্রীতির বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ০৬:৫৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৪

আমার দেশের বাড়ি মেঘনা এবং তিতাস নদীর পাড়ে। নিয়মের ব্যত্যয় না ঘটিয়ে প্রায় প্রতি বছরই কমবেশী বন্যায় আক্রান্ত হতো এই জনপদ।অনেক ছোট বেলা থেকেই বন্যা দেখে অভ্যস্ত । অনেক অবস্থাসম্পন্ন পরিবারকে দেখেছি নদীর ভাঙ্গনে নিঃস্ব হয়ে যেতে। উনাদের চোখের নিরব সেই ভাষা আজও অবচেতন মনে কষ্ট দেয়, ভাবায়। মাচা বানিয়ে পানির উপরে ঘুমানো, কলার ভেলার উপর বিশেষ কৌশলে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়া; এমন অসংখ্য ঘটনাবহুল শৈশব-কৈশোর আমার; নিজ চোখে ছোট বেলায় দেখেছি’ কত কষ্ট মানুষর। বিষয়গুলো স্মৃতি রোমন্থনে আজও ভেসে উঠে।

টানা ভারি বর্ষণ এবং উজানের দেশ ভারত থেকে ধেয়ে আসা আকস্মিক বন্যায় ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মনবাড়ীয়া, হবিগঞ্জসহ দেশের পূর্বাঞ্চলের ১২টি জেলায় স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। ইনশাল্লাহ আমরা সকলে মিলেই এই বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠবো। আমাদের জাতীয় শক্তি ও ঐক্য এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি মজবুত। এটি এক অন্য রকম অনুভূতি। আলহামদুলিল্লাহ। এমন বহু দুর্যোগ এ অঞ্চলের মানুষ মোকাবেলা করেছে এবং এবারও করছে।

আসুন এখন এই বিতর্ক না করি “কেউ ইচ্ছা করে পানি ছেড়ে দিয়ে কি নৌকার প্রয়োজনীয়তা বুঝানোর চেষ্টা করলো নাকি আমাদের?”

এই বাংলাদেশ কালেক্টিভ বাংলাদেশ। ট্রাক মালিক ফ্রিতে তার ট্রাক দিয়ে দিচ্ছেন, পেট্রোল পাম্পের মালিক ফ্রিতে পেট্রোল দিয়ে দিচ্ছেন, এক ভাই ওমরা হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে জমানো টাকা দিয়ে দিলন, এক মন্দির কমিটি দূর্গা পূজার বাজেটের একটা অংশ দিয়ে দিলেন, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশানে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যে যেভাবে পারছেন নৌকা স্পিডবোট ট্রাকে উঠিয়ে ছুটে চলেছেন বন্যার্তদের উদ্ধারে, যারা স্বশরীরে পারছে না, তারা ডোনেট করছেন। বিভিন্ন কম্পানির কর্মচারীরা তাদের একদিনের বেতন ডোনেট করছেন। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ত্রাণ নিয়ে ছুটে চলেছেন বান্দরবান, রাঙামাটির এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। মানুষের প্রতি মানুষের এ যেন এক অদ্ভুত দ্যোদনা। আবেগ, অনুভূতি, দায়িত্ববোধ, সংস্কৃতির আতিথেয়তা, বৈষম্যহীন এক নব বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়। এই উন্মাদনার ধর্ম এক, আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি মানুষের একতা। বিপদে আমরা একে অন্যের পাশেই থাকি। আসুন, আমরা বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়াই। সবাই মিলে এমন বিপদ মোকাবেলা করা সহজ হবে। আল্লাহ সহায় হোন। সামর্থ্য যদি ১০ টাকা থাকে, ওটা নিয়েই এগোই। আজকের খুতবাতে ইমাম সাহেব বলেছেন জাকাতের টাকা এই বন্যাতে দান করা যাবে । যারা পুরোনো কাপড় দিব তারা অবশ্যই এটা মাথায় রাখব- ওনারা পরিস্থিতির শিকার। শিশুদের খাবার ও চিকিৎসা নিয়ে সংকটের মধ্যে পড়েছেন বাবা-মায়েরা । আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন।

বন্যা পরবর্তী পূনর্বাসনের জন্য ফান্ড রাখি। অযথাই চিড়া মুড়ি স্যালাইন কিনে টাকা শেষ করবো না। যে সব সংস্থার উদ্যোগে ইতোমধ্যেই দুর্গত এলাকায় উদ্ধার, খাদ্য ইত্যাদি কাজ শুরু করেছে তাদের সাথে যোগাযোগ করে তবেই জিনিসপত্র কিনি। বন্যার পানি নেমে গেলে খাবার পানি, পয়ো:নিষ্কাশন, রাস্তাঘাট, কাঠ-বাঁশের সাঁকো, ঘরবাড়ি পুনর্গঠন করা লাগবে। গরীব চাষীর গরু, বীজ, সার কেনা লাগবে। গ্রামের গরীব প্রান্তিক চাষীর তালিকা বানিয়ে সাহায্য করা উত্তম। তখন জনবল, অর্থ দুইটাই লাগবে। সব টাকা শেষ করে ফেলবো না।

যাঁরা উদ্ধার অভিযানে যাচ্ছেন নিজের প্রতি খেয়াল রাখবেন। ধর্ম গোত্র বর্ন নির্বিশেষে মানবিক সহায়তায় এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পরার দৃষ্টান্ত কোন ধনী দেশও বিরল। আমি আমার দেশ এবং জাতী নিয়ে গর্বে বুকটা ভরে যাচ্ছে। দেশের মানুষের বিপদে এমন সৌহার্দ্য সম্পৃতি পৃথিবীতে আর অন্য কোন দেশে আছে কিনা আমার জানা নাই। জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো।