১০:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

নাটোরে কলেজশিক্ষককে পিটিয়ে দুই হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে


নাটোরে সাজেদুর রহমান সেলিম (৪৫) নামে এক কলেজশিক্ষককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

রবিবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কলেজসংলগ্ন চন্দ্রকলা বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত সেলিম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক এবং দৈনিক প্রান্তজন পত্রিকার সম্পাদক। হামলায় তাঁর দুই হাত ভেঙে গেছে। বর্তমানে তিনি নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল ওহাবের নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি দল শিক্ষক সেলিমকে কলেজ সংলগ্ন একটি চা দোকানে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে তাঁকে লাঠি ও জ্বালানি কাঠ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। ঘটনাস্থলে কেউ এগিয়ে এলে হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে সরিয়ে দেয়।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. পলাশ কুমার সাহা জানান, “শিক্ষক সেলিমের শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এক্স-রে করার পর দেখা যায়, তাঁর দুটি হাতই ভেঙে গেছে। তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”

প্রসঙ্গত, কলেজটির প্রতিষ্ঠা ও নাম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছে। ২০০৮ সালে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকারের উদ্যোগে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কলেজ’ প্রতিষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি কলেজের ম্যানেজিং কমিটি গঠন ও নাম পরিবর্তন নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। এর জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নাটোর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, “শিক্ষক সেলিম একজন সজ্জন ও প্রগতিশীল চিন্তার মানুষ। তাঁর ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা গভীর উদ্বেগজনক। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।”

অভিযুক্ত বিএনপি কর্মী আব্দুল ওহাবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ বলেন, “বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ। বিএনপির কেউ জড়িত থাকলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নাটোর সদর থানার ওসি মাহাবুর রহমান জানান, “আহত শিক্ষক আমাদের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। হামলাকারীদের নামও তিনি উল্লেখ করেছেন। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে পুলিশ অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে।”

জনপ্রিয়

নাটোরে কলেজশিক্ষককে পিটিয়ে দুই হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে

প্রকাশিত : ০৪:০৯:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫

নাটোরে সাজেদুর রহমান সেলিম (৪৫) নামে এক কলেজশিক্ষককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

রবিবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কলেজসংলগ্ন চন্দ্রকলা বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত সেলিম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক এবং দৈনিক প্রান্তজন পত্রিকার সম্পাদক। হামলায় তাঁর দুই হাত ভেঙে গেছে। বর্তমানে তিনি নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল ওহাবের নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি দল শিক্ষক সেলিমকে কলেজ সংলগ্ন একটি চা দোকানে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে তাঁকে লাঠি ও জ্বালানি কাঠ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। ঘটনাস্থলে কেউ এগিয়ে এলে হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে সরিয়ে দেয়।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. পলাশ কুমার সাহা জানান, “শিক্ষক সেলিমের শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এক্স-রে করার পর দেখা যায়, তাঁর দুটি হাতই ভেঙে গেছে। তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”

প্রসঙ্গত, কলেজটির প্রতিষ্ঠা ও নাম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছে। ২০০৮ সালে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকারের উদ্যোগে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কলেজ’ প্রতিষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি কলেজের ম্যানেজিং কমিটি গঠন ও নাম পরিবর্তন নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। এর জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নাটোর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, “শিক্ষক সেলিম একজন সজ্জন ও প্রগতিশীল চিন্তার মানুষ। তাঁর ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা গভীর উদ্বেগজনক। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।”

অভিযুক্ত বিএনপি কর্মী আব্দুল ওহাবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ বলেন, “বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ। বিএনপির কেউ জড়িত থাকলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নাটোর সদর থানার ওসি মাহাবুর রহমান জানান, “আহত শিক্ষক আমাদের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। হামলাকারীদের নামও তিনি উল্লেখ করেছেন। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে পুলিশ অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে।”