কবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার সম্প্রতি দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে যে উদ্ভুত সমস্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, এক সময় আমরা দেখেছি টুপি পরা কিংবা লুঙ্গি পরা মানুষ অর্থাৎ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অতি সহজে ইসলামি জঙ্গি বলে আখ্যা দেওয়া হোত। ‘তরুণ প্রজন্ম’ বলে বোঝাতো শহরের সেকুলার উচ্চবিত্ত শ্রেণীর সন্তানদের। মাদ্রাসা ছিল ইসলামি জঙ্গি উৎপাদনের কারখানা। গরিবের বাচ্চারা ছিল আরশোলার ছা, যাদের যখন তখন নির্মূল করা যায়। আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয় এর বিরুদ্ধে আমাদের লড়তে হয়েছে। শাহবাগ ও শাপলার বিভাজনের মধ্য দিয়ে এদেশে যে হত্যাযজ্ঞ চলেছে আমরা তা ভুলিনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধে মুসলমান মাত্রই জঙ্গী এটাই ছিল প্রধান কৌশল।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি আরও লেখেন, সেই সময় হেফাজতে ইসলামসহ ইসলামি দল এবং বিশেষ ভাবে মাদ্রাসার ছাত্রদের পাশে আমি দাড়িয়েছি। সেকুলার শাহবাগপন্থিরা আমার নিন্দামন্দ করেছেন, আকথা কুকথা বলেছেন। আমি গা করি নি। সেই সব এখন ইতিহাস।
তিনি লিখেন, এখন দেখছি সনাতন ধর্মাবলম্বীদেরও একই কায়দায় সন্ত্রাসী ও জংগি বলে ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। আর সেটা করছি আমরা। তারা তাদের সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার নির্যাতনের কোন কথা বললেই তাদের ভারতের দালাল, বিজেপির এজেন্ট, হিন্দু জঙ্গি ইত্যাদি নানান নামে নির্বিচারে ট্যাগ দিয়ে তাদের কন্ঠস্বর রোধ করার চেষ্টা চলছে। সনাতন ধর্মের অনুসারিদের দাবি দাওয়া শুনবার আন্তরিক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলা দু:সাধ্য হয়ে পড়েছে। একটা বিপজ্জনক বিভাজনের রাজনীতি প্রবলভাবে বাংলাদেশে গড়ে তোলা হচ্ছে যার পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ।
“আমরা কিভাবে তা মোকাবিলা জরতে পারি তা নিয়ে আমাদের সকলকেই ভাবতে হবে। এই অবস্থা থেকে আমাদের দ্রুত বেরিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে গঠন করতে হবে। আসুন কথা না বলে কাজ করি।”
নিউজ ডেস্ক 
























