০৮:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে বিনিয়োগের সেরা সময় এখনই: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস


বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য এত অনুকূল পরিবেশ এর আগে কখনো ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় চীনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ড. ইউনূস বলেন, “গত আট মাসে আমরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা সহজ করার লক্ষ্য নিয়েছি। বিদেশি বিনিয়োগের জন্য এমন অনুকূল পরিবেশ এর আগে দেশে কখনো ছিল না।” তিনি আরও জানান, সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত বিনিয়োগ পরিবেশ, বাণিজ্য এবং শ্রম সম্পর্কিত সংস্কার দেশকে আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়তা করবে।

বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) প্রতি মাসে ১০ তারিখে কোরিয়ান ও চীনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকের আয়োজন করবে। বিডা’র উদ্যোগে আয়োজিত এই সভাগুলিতে কখনো কখনো প্রধান উপদেষ্টা নিজেও অংশগ্রহণ করবেন, যাতে বিনিয়োগকারীদের সমস্যাগুলো সরাসরি শোনা যায়।

প্রধান উপদেষ্টা বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের সমস্যা দ্রুত সমাধানে একটি ডেডিকেটেড হটলাইন এবং কল সেন্টার চালুর প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, “যেকোনো বিনিয়োগকারী এই নম্বরে কল করে তাদের অভিযোগ নথিভুক্ত করতে পারেন এবং আমরা সেই অনুযায়ী সাড়া দেব।”

চীন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার অন্তত ৩০ জন শীর্ষ বিনিয়োগকারী বৈঠকে অংশ নেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন মেইনল্যান্ড হেডগিয়ার কোম্পানি লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট পলিন এনগান। বৈঠকে অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, টেক্সটাইল, মোবাইল টেলিযোগাযোগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, লজিস্টিকস ও আইটি খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

প্রফেসর ইউনূস বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে তার সাম্প্রতিক বৈঠকের বিষয়েও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “চীনা প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী শীর্ষ কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করতে তার প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আমি তার ব্যবহারে মুগ্ধ হয়েছি।”

বৈঠকে চট্টগ্রাম ও মংলায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আগ্রহ জানানো হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, কিছু কোম্পানি বাংলাদেশকে তাদের দক্ষিণ এশীয় উৎপাদন ও অপারেশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

ড. ইউনূস বলেন, “আমাদের এখানে একটি প্রস্তুত বাজার রয়েছে, পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানের মতো ল্যান্ডলকড দেশগুলির চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব।”

এছাড়াও, বৈঠকে ইলেকট্রিক যান (EV), লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, উইন্ড টারবাইন এবং অফশোর সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন চীনা বিনিয়োগকারীরা।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিডা চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং এসডিজি সমন্বয়কারী লামিয়া মোর্শেদ। এর আগে, সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগকারীরাও প্রধান উপদেষ্টার সাথে বৈঠক করেন।

জনপ্রিয়

বাংলাদেশে বিনিয়োগের সেরা সময় এখনই: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

প্রকাশিত : ০৭:২৩:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল ২০২৫

বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য এত অনুকূল পরিবেশ এর আগে কখনো ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় চীনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ড. ইউনূস বলেন, “গত আট মাসে আমরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা সহজ করার লক্ষ্য নিয়েছি। বিদেশি বিনিয়োগের জন্য এমন অনুকূল পরিবেশ এর আগে দেশে কখনো ছিল না।” তিনি আরও জানান, সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত বিনিয়োগ পরিবেশ, বাণিজ্য এবং শ্রম সম্পর্কিত সংস্কার দেশকে আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়তা করবে।

বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) প্রতি মাসে ১০ তারিখে কোরিয়ান ও চীনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকের আয়োজন করবে। বিডা’র উদ্যোগে আয়োজিত এই সভাগুলিতে কখনো কখনো প্রধান উপদেষ্টা নিজেও অংশগ্রহণ করবেন, যাতে বিনিয়োগকারীদের সমস্যাগুলো সরাসরি শোনা যায়।

প্রধান উপদেষ্টা বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের সমস্যা দ্রুত সমাধানে একটি ডেডিকেটেড হটলাইন এবং কল সেন্টার চালুর প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, “যেকোনো বিনিয়োগকারী এই নম্বরে কল করে তাদের অভিযোগ নথিভুক্ত করতে পারেন এবং আমরা সেই অনুযায়ী সাড়া দেব।”

চীন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার অন্তত ৩০ জন শীর্ষ বিনিয়োগকারী বৈঠকে অংশ নেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন মেইনল্যান্ড হেডগিয়ার কোম্পানি লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট পলিন এনগান। বৈঠকে অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, টেক্সটাইল, মোবাইল টেলিযোগাযোগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, লজিস্টিকস ও আইটি খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

প্রফেসর ইউনূস বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে তার সাম্প্রতিক বৈঠকের বিষয়েও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “চীনা প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী শীর্ষ কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করতে তার প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আমি তার ব্যবহারে মুগ্ধ হয়েছি।”

বৈঠকে চট্টগ্রাম ও মংলায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আগ্রহ জানানো হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, কিছু কোম্পানি বাংলাদেশকে তাদের দক্ষিণ এশীয় উৎপাদন ও অপারেশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

ড. ইউনূস বলেন, “আমাদের এখানে একটি প্রস্তুত বাজার রয়েছে, পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানের মতো ল্যান্ডলকড দেশগুলির চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব।”

এছাড়াও, বৈঠকে ইলেকট্রিক যান (EV), লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, উইন্ড টারবাইন এবং অফশোর সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন চীনা বিনিয়োগকারীরা।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিডা চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং এসডিজি সমন্বয়কারী লামিয়া মোর্শেদ। এর আগে, সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগকারীরাও প্রধান উপদেষ্টার সাথে বৈঠক করেন।