বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বাধীনতাকামী মানুষের উপরে হানাদারবাহিনীর নির্যাতন নিপীড়ণের কথা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার, জনপ্রতিনিধি, মানবাধিকার সংগঠনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে তুলে ধরেছিলেন। বর্তমান বাংলাদেশেও প্রায় একই পরিস্থিতি বিরাজমান। প্রবাসী বাংলাদেশী সকল ভাই বোনদের প্রতি একান্ত আহ্বান জানাই; আপনারা যারা যে দেশে রয়েছেন, সে দেশের সরকার, সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছে বাংলাদেশে বিরাজমান ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরুন।
শুক্রুবার (১৯ জুলাই) লন্ডন থেকে এক ভিডিও বার্তায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১৯৭১ সালে ছিল স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই আর এবার দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে সারাদেশে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের ওপর র্যাব- পুলিশ-বিজিবি এবং ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হামলায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে অর্ধশত ছাত্রছাত্রী শহীদ হয়েছেন। কয়েকশো ছাত্রছাত্রীর অবস্থা আশংকাজনক। সারা বাংলাদেশে দশ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীকে আহত করা হয়েছে। তবে হাসিনার খুনীবাহিনীর তান্ডবে সারাদেশে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি বৈ কম নয়। গণমাধ্যমেও হতাহতের সঠিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করতে দেয়া হচ্ছেনা।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, মাফিয়া হাসিনার খুনীবাহিনীর তান্ডবে দেশে প্রায় যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। ছাত্রছাত্রীরা সারাদেশে হাসিনার খুনীবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। গণ প্রতিরোধ সামাল দিতে খুনি হাসিনা সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ করে দিয়েছে। বেসরকারি গণমাধ্যমেও দেশের প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করতে বা প্রচার করতে পারছেনা। বৃহস্পতিবার থেকে বাংলাদেশে ইন্টারনেট সার্ভিস এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে দেশের অভ্যন্তরে একের সঙ্গে অপরের কিংবা এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন বলা যায়। বহির্বিশ্ব থেকেও বাংলাদেশ এই মুহূর্তে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
তিনি আশংকা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশকে বহির্বিশ্ব এবং একইসঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে এক এলাকা থেকে আরেক এলাকার যোগাযোগ নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে সারাদেশে ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের উপর খুনি হাসিনা ক্র্যাকডাউন চালানো শুরু করেছে। দেশের নিরস্ত্র ছাত্রছাত্রী এবং তাদের অভিভাবকদের উপর হাসিনার খুনি বাহিনীর এই ক্র্যাকডাউন ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের ক্রাকডাউনকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। হাসিনার খুনীবাহিনী রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহর নগর বন্দরে টহল দিচ্ছে। ছাত্রী ছাত্রী এবং তাদের অভিভাবকদেরকে হয়রানি করছে। এরই ভেতরে অনেককে ধরে নিয়ে গিয়েছে। গ্রেফতার করছে। নির্যাতন করেছে।
তারেক রহমান আরও বলেন,বাংলাদেশের জনগণ সকল সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার হারিয়েছে। সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা কোটা সংস্কারের দাবি জানালেও খুনি হাসিনা তাদেরকে হত্যা করেছে। এর প্রতিবাদে ছাত্রছাত্রীরা হাসিনার খুনীবাহিনীর বিরুদ্ধে সাধ্যমতো তুমুল প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। ১৯৭১ সালে ছিল স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই আর এবার দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই।
ডেস্ক নিউজ 





















