০৮:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
বিএনপি'র রাজনীতিতে রুচির দুর্ভিক্ষ

দলের স্থায়ী কমিটির কিছু নেতাকে নিবৃত্ত করতেই কেন্দ্রীয় যুবদলে সিন্ডিকেট কমিটি


রাজপথে সরকার পতন আন্দোলনে ব্যর্থতার পর নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিএনপি। এরই মধ্যে দলকে নতুন ভাবে রাজপথে সক্রিয়, বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রাখা ত্যাগী পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের দিয়ে ঢেলে সাজানো হচ্ছে দল। 

গত মঙ্গলবার (০৯ জুলাই) পুনঃগঠনের অংশ হিসেবে অন্যতম অঙ্গসংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত জাতীয়তাবাদী যুবদলের সুপার সিক্স কমিটি ঘোষনা করা হয়।

নতুন কমিটিতে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল করিম পল, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল এবং নুরুল ইসলাম সোহেলকে দপ্তর সম্পাদক করা হয়েছে।

দলীয় নেতাকর্মীরা যুবদলের এই নতুন কমিটি নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। দেশ বার্তাকে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির কয়েকজন নেতা জানান, যুবদলে প্রত্যাশিত কমিটি হয়নি। কমিটি গঠনের পূর্বে আলোচনা হলেও তার প্রতিফলন কমিটিতে ঘটেনি। তবে এ কমিটিকে একটি সিন্ডিকেট কমিটি বলে আখ্যায়িত করেন।

সাধারণ সম্পাদক নরুল ইসলাম নয়নের নাম আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল। কমিটিতে তাকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দেখা যাবে তা অনেকটা নিশ্চিত ছিলো সবাই। বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে থেকে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। তাই দলের নেতাকর্মীরা মনে করেন দল তাকে সাংগঠনিক নেতা হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।

বিতর্ক তৈরি হয়েছে নব গঠিত কমিটিতে মুন্নাকে সভাপতি, পলকে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বিল্লাল হোসেন তারেককে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক করায়।

কমিটি গঠণের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে একটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আব্দুল মোনায়েম মুন্না বিগত কমিটির পুরো সময় কারান্তরিন ছিল। দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করার যে অভিঞ্জতা সেটিও তার হয়ে উঠেনি। দলের আন্দোলন সংগ্রামেও দৃশ্যমান কোন ভূমিকা নেই মুন্নার। গড়ে উঠেনি তৃনমূলের সাথে কোন যোগাযোগ। বিগত কমিটিতেও তার সাধারণ সম্পাদক হওয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। দলের একজন সিনিয়র নেতা মুন্নাকে দলের মাকাল ফল বলে অভিহিত করেন।

রেজাউল করিম পল, রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে জেলা সভাপতি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি কোন আন্দোলনেই মাঠে ছিলেন না। এরপরও বাগিয়েছেন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতির পদ। পলের এই পদায়নে বিস্মিত যুবদলের খোদ সাবেক নেতাকর্মীরাও।

বিল্লাল হোসেন তারেকে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক করায় যুবদলের সাবেক কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, রাজনীতিতে রুচির দুর্ভিক্ষ চলছে। এই দুর্ভিক্ষে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে সিনিয়র সব নেতারাও আক্রান্ত। তার ঢাকায় নিজস্ব কোন কর্মীবাহিনী নেই। নেই নিজস্ব কোন বলয়।

সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েলও বিগত আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে ছিলেন না। ছিলেন ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সভাপতি ও যুবদলের গত কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক।

যুবদলের নতুন এই কমিটিতে উপেক্ষিত হয়েছেন দলের দুর্দিনে, আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রাখা ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারা। যুবদলের সাবেক নেতা মামুন হাসান, এস এম জাহাঙ্গীর, শফিকুল ইসলাম মিন্টন, গোলাম মাওলা শাহীন, ইসহাক সরকার, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন সহ পোড় খাওয়া, মামলায় জর্জরিত, কারাগারে থাকা এবং সাজাপ্রাপ্ত সকল নেতাদেরই বাদ নেয়া হয়েছে নতুন কমিটিতে। কোন মূল্যায়নই করা হয়নি।

নতুন অপেক্ষাকৃত অপরিচিত, বিগত আন্দোলন সংগ্রামে দৃশ্যমান ভূমিকা না রাখা এই নেতৃত্ব আগামী দিনের সরকার পতন আন্দোলনে করটা ভূমিকা রাখতে পারবে এটি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে বহু নেতাকর্মী। নতুন কমিটির কোন নেতারই অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে থেকে সারাদেশে দায়িত্ব পালনের অভিঞ্জতা নেই। তৃনমূলের সাথে এই কমিটির কোন নেতারই দৃশ্যমান যোগাযোগ তৈরি হয়নি।

তবে বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, হাওয়া ভবনের পূর্বের সিন্ডিকেটের ইশারাতেই গঠিত হয়েছে কমিটি। এখানে তৃনমূলের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করা হয়েছে। নিজেদের বলয়কে শক্তিশালী করতেই দলের সার্বিক প্রেক্ষাপটক ভুল ভাবে উপস্থাপন করা করা হয়েছে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে। স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মতামতও মূল্যায়িত হয়নি। স্থায়ী কমিটির কিছু নেতাকে নিবৃত্ত করতেই এমনটা করা হয়েছে। তবে আমরা আশা করি, নতুন কমিটি তাদের দায়িত্ব যাথাযথভাবে পালন করে সরকার পতনের আন্দোলনে ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২২ মে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সভাপতি ও মোনায়েম মুন্নাকে সাধারণ সম্পাদক করে ৮ সদস্যের আংশিক কমিটি দিয়েছিল বিএনপি। ৯ মাস পর ২০২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জাতীয়তাবাদী যুবদলের ২৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয়।

২৮ ডিসেম্বরের পর দলটির বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠায় নতুন করে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয় বিএনপি। গত দুই দশক ধরে রাজপথে থেকে অনেকটা ক্লান্ত দলটির নেতাকর্মীদের চাঙা করতে নেওয়া হচ্ছে আরও নানা কর্মসূচি। সংগঠনে গতি আনতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে দলটির হাইকমান্ড।


 

জনপ্রিয়

বিএনপি'র রাজনীতিতে রুচির দুর্ভিক্ষ

দলের স্থায়ী কমিটির কিছু নেতাকে নিবৃত্ত করতেই কেন্দ্রীয় যুবদলে সিন্ডিকেট কমিটি

প্রকাশিত : ১০:৩৩:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪

রাজপথে সরকার পতন আন্দোলনে ব্যর্থতার পর নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিএনপি। এরই মধ্যে দলকে নতুন ভাবে রাজপথে সক্রিয়, বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রাখা ত্যাগী পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের দিয়ে ঢেলে সাজানো হচ্ছে দল। 

গত মঙ্গলবার (০৯ জুলাই) পুনঃগঠনের অংশ হিসেবে অন্যতম অঙ্গসংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত জাতীয়তাবাদী যুবদলের সুপার সিক্স কমিটি ঘোষনা করা হয়।

নতুন কমিটিতে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল করিম পল, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল এবং নুরুল ইসলাম সোহেলকে দপ্তর সম্পাদক করা হয়েছে।

দলীয় নেতাকর্মীরা যুবদলের এই নতুন কমিটি নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। দেশ বার্তাকে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির কয়েকজন নেতা জানান, যুবদলে প্রত্যাশিত কমিটি হয়নি। কমিটি গঠনের পূর্বে আলোচনা হলেও তার প্রতিফলন কমিটিতে ঘটেনি। তবে এ কমিটিকে একটি সিন্ডিকেট কমিটি বলে আখ্যায়িত করেন।

সাধারণ সম্পাদক নরুল ইসলাম নয়নের নাম আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল। কমিটিতে তাকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দেখা যাবে তা অনেকটা নিশ্চিত ছিলো সবাই। বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে থেকে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। তাই দলের নেতাকর্মীরা মনে করেন দল তাকে সাংগঠনিক নেতা হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।

বিতর্ক তৈরি হয়েছে নব গঠিত কমিটিতে মুন্নাকে সভাপতি, পলকে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বিল্লাল হোসেন তারেককে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক করায়।

কমিটি গঠণের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে একটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আব্দুল মোনায়েম মুন্না বিগত কমিটির পুরো সময় কারান্তরিন ছিল। দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করার যে অভিঞ্জতা সেটিও তার হয়ে উঠেনি। দলের আন্দোলন সংগ্রামেও দৃশ্যমান কোন ভূমিকা নেই মুন্নার। গড়ে উঠেনি তৃনমূলের সাথে কোন যোগাযোগ। বিগত কমিটিতেও তার সাধারণ সম্পাদক হওয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। দলের একজন সিনিয়র নেতা মুন্নাকে দলের মাকাল ফল বলে অভিহিত করেন।

রেজাউল করিম পল, রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে জেলা সভাপতি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি কোন আন্দোলনেই মাঠে ছিলেন না। এরপরও বাগিয়েছেন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতির পদ। পলের এই পদায়নে বিস্মিত যুবদলের খোদ সাবেক নেতাকর্মীরাও।

বিল্লাল হোসেন তারেকে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক করায় যুবদলের সাবেক কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, রাজনীতিতে রুচির দুর্ভিক্ষ চলছে। এই দুর্ভিক্ষে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে সিনিয়র সব নেতারাও আক্রান্ত। তার ঢাকায় নিজস্ব কোন কর্মীবাহিনী নেই। নেই নিজস্ব কোন বলয়।

সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েলও বিগত আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে ছিলেন না। ছিলেন ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সভাপতি ও যুবদলের গত কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক।

যুবদলের নতুন এই কমিটিতে উপেক্ষিত হয়েছেন দলের দুর্দিনে, আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রাখা ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারা। যুবদলের সাবেক নেতা মামুন হাসান, এস এম জাহাঙ্গীর, শফিকুল ইসলাম মিন্টন, গোলাম মাওলা শাহীন, ইসহাক সরকার, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন সহ পোড় খাওয়া, মামলায় জর্জরিত, কারাগারে থাকা এবং সাজাপ্রাপ্ত সকল নেতাদেরই বাদ নেয়া হয়েছে নতুন কমিটিতে। কোন মূল্যায়নই করা হয়নি।

নতুন অপেক্ষাকৃত অপরিচিত, বিগত আন্দোলন সংগ্রামে দৃশ্যমান ভূমিকা না রাখা এই নেতৃত্ব আগামী দিনের সরকার পতন আন্দোলনে করটা ভূমিকা রাখতে পারবে এটি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে বহু নেতাকর্মী। নতুন কমিটির কোন নেতারই অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে থেকে সারাদেশে দায়িত্ব পালনের অভিঞ্জতা নেই। তৃনমূলের সাথে এই কমিটির কোন নেতারই দৃশ্যমান যোগাযোগ তৈরি হয়নি।

তবে বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, হাওয়া ভবনের পূর্বের সিন্ডিকেটের ইশারাতেই গঠিত হয়েছে কমিটি। এখানে তৃনমূলের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করা হয়েছে। নিজেদের বলয়কে শক্তিশালী করতেই দলের সার্বিক প্রেক্ষাপটক ভুল ভাবে উপস্থাপন করা করা হয়েছে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে। স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মতামতও মূল্যায়িত হয়নি। স্থায়ী কমিটির কিছু নেতাকে নিবৃত্ত করতেই এমনটা করা হয়েছে। তবে আমরা আশা করি, নতুন কমিটি তাদের দায়িত্ব যাথাযথভাবে পালন করে সরকার পতনের আন্দোলনে ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২২ মে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সভাপতি ও মোনায়েম মুন্নাকে সাধারণ সম্পাদক করে ৮ সদস্যের আংশিক কমিটি দিয়েছিল বিএনপি। ৯ মাস পর ২০২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জাতীয়তাবাদী যুবদলের ২৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয়।

২৮ ডিসেম্বরের পর দলটির বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠায় নতুন করে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয় বিএনপি। গত দুই দশক ধরে রাজপথে থেকে অনেকটা ক্লান্ত দলটির নেতাকর্মীদের চাঙা করতে নেওয়া হচ্ছে আরও নানা কর্মসূচি। সংগঠনে গতি আনতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে দলটির হাইকমান্ড।