০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান

ছবি: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।

ডেস্ক নিউজ


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম CBS News নিচের সংবাদ প্রতিবেদনটি সম্প্রচার করেছিল ১৯৭১ এর ২৬শে মার্চের বিকেলে।

CBS News এ স্পষ্ট করে বলা হয়েছে গতকাল বিকেলে মানে ২৫শে মার্চ ১৯৭১ এর বিকেলে তার অনুসারীদের নিয়ে করা একটি রেলিতে শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন –

‘I want my autonomy, No can stop my autonomy. I want my rights, I want my emancipation, I want live like a free citizen of free country. আমি পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন চায়, কেউ আমার স্বায়ত্তশাসন আটকিয়ে রাখতে পারবে না, এবং সাথে এও বলেন আমি আমার অধিকার চায়, আমি আমার মুক্তি চায়, আমি একটি স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে বাস করতে চায়।’

এর জবাবে CBS News এর সাংবাদিক প্রশ্ন করেন,

‘You meant independent? আপনি কি স্বাধীনতা বোঝাতে চাচ্ছেন?’

জবাবে শেখ মুজিব বলেন,

‘That I don’t meant. আমি স্বাধীনতা বোঝায়নি।’

এরপর সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেন

‘So, you are already a Chief of Independent Bengal, de-facto, not legally? তাহলে আপনি কি ইতোমধ্যে নিজেকে স্বাধীন বাংলার প্রধান নেতা মনে করেন, আইনগতভাবে নয়, এমনে নৈতিকভাবে কি মনে করেন?’

এর জবাবে শেখ মুজিব বলেন –

‘What? I am the representative of the people of Bangal, legally, morally, I am the man who can govern this country. কি বলেন? আমি নিজেকে আইনগত ও নৈতিকভাবে বাংলার জনগণের একজন প্রতিনিধি মনে করি, এবং আমি সেই মানুষ যে এই দেশকে(পাকিস্তান) শাসন করতে পারে।’

২৫শে মার্চের গভীর রাতে, রাত ১২টার পরে অর্থাৎ ২৬শে মার্চের রাত ১টার দিকে যখন শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করা হয় এর পরের দিন মানে ২৬শে মার্চের দিনের বেলায় বিশ্ব গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানা যায় বাংলাদেশে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়। শেখ মুজিব যেমন একদিক দিয়ে পাকিস্তানের ভাঙন চাননি, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হতে চেয়েছিলেন, এটি যেমন ঐতিহাসিক সত্য, তেমনই বাঙালিদের কারণে, বিশেষ করে বাঙালি ছাত্র সমাজের স্বাধীনতার পক্ষে জোরালো অবস্থানের কারণে সেই চাপে পড়ে শেখ মুজিবকেও অনেক সময় স্বাধীনতার বুলি আওড়াতে হতো। তাই মুক্তিযুদ্ধের আগে তিনি ‘স্বায়ত্তশাসন’ এবং ‘স্বাধীনতা’ উভয়ের মধ্যে ব্যালেন্স রেখে কথা বলতেন, এমনকি ২৫শে মার্চের বিকেল পর্যন্ত। আর শেখ মুজিব যে ২৫শে মার্চে গভীর রাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা কি তিনি নিজে দিয়েছিলেন নাকি আওয়ামী লীগের অন্য কেউ তার নামে লিখিত আকারে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিল তাও ইতিহাসে স্পষ্ট নয়, কারণ তিনি যদি নিজে গ্রেফতার হওয়ার আগে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে থাকতেন তাহলে তিনি তা রেডিও বেতারের মাধ্যমে মৌখিকভাবে ঘোষণা দিয়ে বিশ্ববাসী ও সারা বাংলাদেশের মানুষকে জানিয়ে দিতেন, কিন্তু ইতিহাসে তার স্বাধীনতার ঘোষণার কোনো রেডিও রেকর্ড পাওয়া যায় না।

২৫ মার্চের রাতে যখন পাকিস্তানি ম্যালিটারি পূর্বপাকিস্তানের বাঙালিদের উপর হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছিল তখনও শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি, বরং এর পরিবর্তে তিনি ২৭শে মার্চ সারা দেশ জুড়ে হরতালের ডাক দেন। স্বাধীনতার ঘোষণাটি লিখিত আকারে আসে মূলত ২৬শে মার্চের দিনের বেলায়।

এসব ঐতিহাসিক প্রমাণ নিশ্চিত করে যে, শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেয়ে পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে বেশি ছিলেন, এবং আল্টিমেটলি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হতে চেয়েছিলেন।

২৬শে মার্চে দিনের বেলায় শেখ মুজিবুর রহমানের নামে যে একটি লিখিত স্বাধীনতার ঘোষণা এসেছিল এটি যেমন ঐতিহাসিকভাবে সত্য, তেমনই সত্য হলো মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমান ২৭শে মার্চে মৌখিকভাবে রেডিও বেতারের মাধ্যমে প্রথমে নিজের পক্ষ থেকে, এরপর শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আর এর মাঝখানে নির্জলা মিথ্যা হলো – ২৬শে মার্চের দুপুরে এমএ হান্নান এবং রাতে আবুল কাশেম সন্দীপ রেডিও বেতারের মাধ্যমে মৌখিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন – এই তথ্যগুলো। কারণ এমএ হান্নান, আবুল কাশেম সন্দীপ এবং জহুর আহমেদ – এদের মৌখিক স্বাধীনতা ঘোষণার কোনো রেকর্ডিং বা প্রমাণ পাওয়া যায় না। ২৭শে মার্চের পরে রেডিওতে জিয়াউর রহমানের কণ্ঠ শুনেই বেশিরভাগ মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।

শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বাধীনতার চেয়ে বেশি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হতে চেয়েছিলেন তার আরও প্রমাণ মিলে যখন শেখ মুজিব যুদ্ধপরবর্তী সময়ে ১৯৭৪ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলি ভুট্টোকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়ে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানান, এবং পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেন, এবং পাকিস্তানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমা ঘোষণা এবং পাকিস্তানি মিলিটারির ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করে দেন।

শেখ মুজিবুর রহমান এবং জুলফিকার আলি ভুট্টোর মধ্যে যে একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল তা আমরা আরও দেখতে পায় যখন পাকিস্তানের অনুরোধে শেখ মুজিব ওআইসিতে যোগ দিয়েছিলেন, এবং জুলফিকার আলি ভুট্টোর আমন্ত্রণে তিনি ১৯৭৪ সালে পাকিস্তান সফরে গিয়েছিলেন এবং আথিতেয়তায় মুগ্ধ হয়েছিলেন। শেখ মুজিব তখন বলেছিলেন, ‘দেশের জনগণের উচিত একাত্তরের তিক্ত অভিজ্ঞতা ভুলে যাওয়া।’


ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান

প্রকাশিত : ০৪:৩৬:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মার্চ ২০২৪

ডেস্ক নিউজ


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম CBS News নিচের সংবাদ প্রতিবেদনটি সম্প্রচার করেছিল ১৯৭১ এর ২৬শে মার্চের বিকেলে।

CBS News এ স্পষ্ট করে বলা হয়েছে গতকাল বিকেলে মানে ২৫শে মার্চ ১৯৭১ এর বিকেলে তার অনুসারীদের নিয়ে করা একটি রেলিতে শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন –

‘I want my autonomy, No can stop my autonomy. I want my rights, I want my emancipation, I want live like a free citizen of free country. আমি পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন চায়, কেউ আমার স্বায়ত্তশাসন আটকিয়ে রাখতে পারবে না, এবং সাথে এও বলেন আমি আমার অধিকার চায়, আমি আমার মুক্তি চায়, আমি একটি স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে বাস করতে চায়।’

এর জবাবে CBS News এর সাংবাদিক প্রশ্ন করেন,

‘You meant independent? আপনি কি স্বাধীনতা বোঝাতে চাচ্ছেন?’

জবাবে শেখ মুজিব বলেন,

‘That I don’t meant. আমি স্বাধীনতা বোঝায়নি।’

এরপর সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেন

‘So, you are already a Chief of Independent Bengal, de-facto, not legally? তাহলে আপনি কি ইতোমধ্যে নিজেকে স্বাধীন বাংলার প্রধান নেতা মনে করেন, আইনগতভাবে নয়, এমনে নৈতিকভাবে কি মনে করেন?’

এর জবাবে শেখ মুজিব বলেন –

‘What? I am the representative of the people of Bangal, legally, morally, I am the man who can govern this country. কি বলেন? আমি নিজেকে আইনগত ও নৈতিকভাবে বাংলার জনগণের একজন প্রতিনিধি মনে করি, এবং আমি সেই মানুষ যে এই দেশকে(পাকিস্তান) শাসন করতে পারে।’

২৫শে মার্চের গভীর রাতে, রাত ১২টার পরে অর্থাৎ ২৬শে মার্চের রাত ১টার দিকে যখন শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করা হয় এর পরের দিন মানে ২৬শে মার্চের দিনের বেলায় বিশ্ব গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানা যায় বাংলাদেশে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়। শেখ মুজিব যেমন একদিক দিয়ে পাকিস্তানের ভাঙন চাননি, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হতে চেয়েছিলেন, এটি যেমন ঐতিহাসিক সত্য, তেমনই বাঙালিদের কারণে, বিশেষ করে বাঙালি ছাত্র সমাজের স্বাধীনতার পক্ষে জোরালো অবস্থানের কারণে সেই চাপে পড়ে শেখ মুজিবকেও অনেক সময় স্বাধীনতার বুলি আওড়াতে হতো। তাই মুক্তিযুদ্ধের আগে তিনি ‘স্বায়ত্তশাসন’ এবং ‘স্বাধীনতা’ উভয়ের মধ্যে ব্যালেন্স রেখে কথা বলতেন, এমনকি ২৫শে মার্চের বিকেল পর্যন্ত। আর শেখ মুজিব যে ২৫শে মার্চে গভীর রাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা কি তিনি নিজে দিয়েছিলেন নাকি আওয়ামী লীগের অন্য কেউ তার নামে লিখিত আকারে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিল তাও ইতিহাসে স্পষ্ট নয়, কারণ তিনি যদি নিজে গ্রেফতার হওয়ার আগে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে থাকতেন তাহলে তিনি তা রেডিও বেতারের মাধ্যমে মৌখিকভাবে ঘোষণা দিয়ে বিশ্ববাসী ও সারা বাংলাদেশের মানুষকে জানিয়ে দিতেন, কিন্তু ইতিহাসে তার স্বাধীনতার ঘোষণার কোনো রেডিও রেকর্ড পাওয়া যায় না।

২৫ মার্চের রাতে যখন পাকিস্তানি ম্যালিটারি পূর্বপাকিস্তানের বাঙালিদের উপর হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছিল তখনও শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি, বরং এর পরিবর্তে তিনি ২৭শে মার্চ সারা দেশ জুড়ে হরতালের ডাক দেন। স্বাধীনতার ঘোষণাটি লিখিত আকারে আসে মূলত ২৬শে মার্চের দিনের বেলায়।

এসব ঐতিহাসিক প্রমাণ নিশ্চিত করে যে, শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেয়ে পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে বেশি ছিলেন, এবং আল্টিমেটলি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হতে চেয়েছিলেন।

২৬শে মার্চে দিনের বেলায় শেখ মুজিবুর রহমানের নামে যে একটি লিখিত স্বাধীনতার ঘোষণা এসেছিল এটি যেমন ঐতিহাসিকভাবে সত্য, তেমনই সত্য হলো মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমান ২৭শে মার্চে মৌখিকভাবে রেডিও বেতারের মাধ্যমে প্রথমে নিজের পক্ষ থেকে, এরপর শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আর এর মাঝখানে নির্জলা মিথ্যা হলো – ২৬শে মার্চের দুপুরে এমএ হান্নান এবং রাতে আবুল কাশেম সন্দীপ রেডিও বেতারের মাধ্যমে মৌখিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন – এই তথ্যগুলো। কারণ এমএ হান্নান, আবুল কাশেম সন্দীপ এবং জহুর আহমেদ – এদের মৌখিক স্বাধীনতা ঘোষণার কোনো রেকর্ডিং বা প্রমাণ পাওয়া যায় না। ২৭শে মার্চের পরে রেডিওতে জিয়াউর রহমানের কণ্ঠ শুনেই বেশিরভাগ মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।

শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বাধীনতার চেয়ে বেশি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হতে চেয়েছিলেন তার আরও প্রমাণ মিলে যখন শেখ মুজিব যুদ্ধপরবর্তী সময়ে ১৯৭৪ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলি ভুট্টোকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়ে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানান, এবং পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেন, এবং পাকিস্তানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমা ঘোষণা এবং পাকিস্তানি মিলিটারির ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করে দেন।

শেখ মুজিবুর রহমান এবং জুলফিকার আলি ভুট্টোর মধ্যে যে একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল তা আমরা আরও দেখতে পায় যখন পাকিস্তানের অনুরোধে শেখ মুজিব ওআইসিতে যোগ দিয়েছিলেন, এবং জুলফিকার আলি ভুট্টোর আমন্ত্রণে তিনি ১৯৭৪ সালে পাকিস্তান সফরে গিয়েছিলেন এবং আথিতেয়তায় মুগ্ধ হয়েছিলেন। শেখ মুজিব তখন বলেছিলেন, ‘দেশের জনগণের উচিত একাত্তরের তিক্ত অভিজ্ঞতা ভুলে যাওয়া।’